০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অতিরিক্ত তীব্র তাপদাহের কারণে চুয়াডাঙ্গাসহ ৪ জেলায় কৃষিখাতে ক্ষতি ৩৬৩ কোটি টাকা 

 

তীব্র তাপদাহে চুয়াডাঙ্গাসহ চার জেলায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জীবন জীবিকায় অন্তত ১৭৫৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কৃষিখাতেই ক্ষতি হয়েছে ৩৬৩ কোটি টাকার।

আর জীবন জীবিকার ওপর ক্ষতির পরিমাণ ১২০০ কোটি টাকা মূল্যের।  

সম্প্রতি একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

চুয়াডাঙ্গায় তাপদাহের প্রভাব নিয়ে চালানো এক সমীক্ষা প্রতিবেদন সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন।  

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলায় কৃষি-মৎস্য-প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকার ওপর তীব্র তাপদাহের প্রভাব মূল্যায়ন বিষয়ক গবেষণা চালায় ওই সংস্থাটি।

বুধবার (১৫ মে) সকালে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং সেন্টারের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপনে উল্লেখ করা হয়, তাপদাহের প্রভাবে চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা ও এর পাশের তিন জেলায় কৃষিখাতে ৩৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া মৎস্য খাতে ৯৭ কোটি ৮৮ লাখ ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৯৬ কোটি ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জীবন ও জীবিকার ওপরেও বড় প্রভাব পড়েছে। তাপদাহের কারণে কর্মঘণ্টা হ্রাস পাওয়ায় প্রতিদিন ৬১ কোটি ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৫ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ২০ দিনে জীবন জীবিকায় ১২২৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৪ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দিনে ৯ ঘণ্টার পরিবর্তে তীব্র গরমে কর্মঘণ্টা নেমে আসে ৬ ঘণ্টায়। এতে একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিন ২৩৪ টাকা আয়ের ঘাটতি হয়।

সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়, এ চারটি জেলার মধ্যে ১০টি উপজেলায় গবেষণা চালায় বেসরকারি ওই সংস্থাটি। গবেষণায় ৫৫ জন সরকারি কর্মকর্তা, অসংগঠিত দলের ২০ জন, দলীয় আলোচনায় ১০০ জন, ৫৪৫ জন দিনমজুর, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, মৎস্যজীবী, ছোট ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী এবং ৬ জন সিভিল সোসাইটি ও এনজিও কর্মীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একইসঙ্গে সমীক্ষাপত্রে বেশ কিছু সুপারিশ ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।

সমীক্ষার মুখ্য গবেষক ড. মোহা. হাসান আলী সংবাদ সম্মেলনে জানান, তীব্র তাপদাহের প্রভাবে আগামীতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষা পরিচালনাকারী দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ওয়েভ ফাউন্ডেশন মুখ্য গবেষক ড. মোহা. হাসান আলী, সংগঠনের উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর, উপ-পরিচালক জহির রায়হান, সহকারী পরিচালক কিতাব আলী ও জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম ও কামরুজ্জামান যুদ্ধ।

Tag :

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত

অতিরিক্ত তীব্র তাপদাহের কারণে চুয়াডাঙ্গাসহ ৪ জেলায় কৃষিখাতে ক্ষতি ৩৬৩ কোটি টাকা 

Update Time : ১২:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

 

তীব্র তাপদাহে চুয়াডাঙ্গাসহ চার জেলায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জীবন জীবিকায় অন্তত ১৭৫৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কৃষিখাতেই ক্ষতি হয়েছে ৩৬৩ কোটি টাকার।

আর জীবন জীবিকার ওপর ক্ষতির পরিমাণ ১২০০ কোটি টাকা মূল্যের।  

সম্প্রতি একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

চুয়াডাঙ্গায় তাপদাহের প্রভাব নিয়ে চালানো এক সমীক্ষা প্রতিবেদন সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন।  

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলায় কৃষি-মৎস্য-প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকার ওপর তীব্র তাপদাহের প্রভাব মূল্যায়ন বিষয়ক গবেষণা চালায় ওই সংস্থাটি।

বুধবার (১৫ মে) সকালে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং সেন্টারের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষার তথ্য উপস্থাপনে উল্লেখ করা হয়, তাপদাহের প্রভাবে চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা ও এর পাশের তিন জেলায় কৃষিখাতে ৩৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া মৎস্য খাতে ৯৭ কোটি ৮৮ লাখ ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৯৬ কোটি ৩৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জীবন ও জীবিকার ওপরেও বড় প্রভাব পড়েছে। তাপদাহের কারণে কর্মঘণ্টা হ্রাস পাওয়ায় প্রতিদিন ৬১ কোটি ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৫ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ২০ দিনে জীবন জীবিকায় ১২২৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৪ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দিনে ৯ ঘণ্টার পরিবর্তে তীব্র গরমে কর্মঘণ্টা নেমে আসে ৬ ঘণ্টায়। এতে একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিন ২৩৪ টাকা আয়ের ঘাটতি হয়।

সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়, এ চারটি জেলার মধ্যে ১০টি উপজেলায় গবেষণা চালায় বেসরকারি ওই সংস্থাটি। গবেষণায় ৫৫ জন সরকারি কর্মকর্তা, অসংগঠিত দলের ২০ জন, দলীয় আলোচনায় ১০০ জন, ৫৪৫ জন দিনমজুর, রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, মৎস্যজীবী, ছোট ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী এবং ৬ জন সিভিল সোসাইটি ও এনজিও কর্মীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একইসঙ্গে সমীক্ষাপত্রে বেশ কিছু সুপারিশ ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।

সমীক্ষার মুখ্য গবেষক ড. মোহা. হাসান আলী সংবাদ সম্মেলনে জানান, তীব্র তাপদাহের প্রভাবে আগামীতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষা পরিচালনাকারী দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ওয়েভ ফাউন্ডেশন মুখ্য গবেষক ড. মোহা. হাসান আলী, সংগঠনের উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর, উপ-পরিচালক জহির রায়হান, সহকারী পরিচালক কিতাব আলী ও জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম ও কামরুজ্জামান যুদ্ধ।