০২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে আমদানি করা ৩৭০ টন চাল গায়েব

  • Update Time : ১১:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩
  • ৫৫ Time View

মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে আমদানি করা ৩৭০ টন চাল গায়েব হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা গেছে, জেলা পুলিশের রেশনের চাল উত্তোলন করতে গিয়ে দেখা যায় গুদামে আমদানি করা কোনো চালই নেই। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এ চাল চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই চালের মূল্য ১০ কোটি টাকা। অভিযোগ হলো, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) ও গুদাম কর্মকর্তা যোগসাজশ করে ডিও ক্রেতাদের কাছে এ চাল বিক্রি করে দিয়েছেন। জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় এ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে। আমরাও মনে করি, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।

সরকারি খাদ্যগুদামের চাল চুরি বা আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয়। আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল সাপ্লাই ডিপো (সিএসডি) থেকে সরকারি চাল গুদামে নেওয়ার আগেই তা চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় খাদ্য কর্মকর্তার জিম্মায় থাকা সিলগালা করা গুদাম থেকে ১ হাজার ১২৪ বস্তা সরকারি চাল চুরি হয়। বস্তুত এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। অবশ্য চুরি হওয়া অনেক চাল জব্দ করা হয়েছে। চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউকে কাউকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি গুদামের চাল, এমনকি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরি বন্ধ হচ্ছে না। প্রশ্ন হলো, শত শত টন চাল চুরি হয় কীভাবে? বস্তুত একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই চুরি হয় চাল। সরকারি খাদ্যগুদামের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপকর্মের বিষয়টি বহুল আলোচিত। কাজেই এ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরদারিতে রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করি আমরা।

চালসহ দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস উঠছে, তখন আমদানি করা চাল চুরি বা আত্মসাতের ঘটনাগুলো হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি খাদ্যগুদামের চাল চুরি কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার নেপথ্যে যারা থাকে, তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে চাল চুরির ঘটনার ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। আমরা আশা করব, তদন্তে এ ঘটনায় জড়িতরা চিহ্নিত হবে এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা

Tag :
জনপ্রিয়

প্রথম রাজধানী গ্রুপের অ্যাডমিন প্যানেলের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে আমদানি করা ৩৭০ টন চাল গায়েব

Update Time : ১১:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩

মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে আমদানি করা ৩৭০ টন চাল গায়েব হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা গেছে, জেলা পুলিশের রেশনের চাল উত্তোলন করতে গিয়ে দেখা যায় গুদামে আমদানি করা কোনো চালই নেই। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এ চাল চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই চালের মূল্য ১০ কোটি টাকা। অভিযোগ হলো, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) ও গুদাম কর্মকর্তা যোগসাজশ করে ডিও ক্রেতাদের কাছে এ চাল বিক্রি করে দিয়েছেন। জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় এ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে। আমরাও মনে করি, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।

সরকারি খাদ্যগুদামের চাল চুরি বা আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয়। আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল সাপ্লাই ডিপো (সিএসডি) থেকে সরকারি চাল গুদামে নেওয়ার আগেই তা চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় খাদ্য কর্মকর্তার জিম্মায় থাকা সিলগালা করা গুদাম থেকে ১ হাজার ১২৪ বস্তা সরকারি চাল চুরি হয়। বস্তুত এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। অবশ্য চুরি হওয়া অনেক চাল জব্দ করা হয়েছে। চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউকে কাউকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি গুদামের চাল, এমনকি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরি বন্ধ হচ্ছে না। প্রশ্ন হলো, শত শত টন চাল চুরি হয় কীভাবে? বস্তুত একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই চুরি হয় চাল। সরকারি খাদ্যগুদামের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপকর্মের বিষয়টি বহুল আলোচিত। কাজেই এ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরদারিতে রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করি আমরা।

চালসহ দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস উঠছে, তখন আমদানি করা চাল চুরি বা আত্মসাতের ঘটনাগুলো হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি খাদ্যগুদামের চাল চুরি কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার নেপথ্যে যারা থাকে, তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মেহেরপুর সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে চাল চুরির ঘটনার ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। আমরা আশা করব, তদন্তে এ ঘটনায় জড়িতরা চিহ্নিত হবে এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা