চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল সার ডিলারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুম এবং ভুট্টা চাষের মৌসুম শুরু হওয়ায় জেলাজুড়ে নন-ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দেয়। সরকারি ডিলারদের কাছে যখন ভর্তুকিমূল্যে সার পাওয়া যায় না তখন অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পাওয়া যায় সার।
এমন পরিস্থিতিতে সার সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে স্থানীয় সংগঠন লোকমোর্চার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। এরপর গতকাল সকল সার ডিলারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে জেলা প্রশাসন।
সভার শুরুতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় সব প্রকার সার মজুদ নিয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। পরে আলোচনায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকার কৃষকদের কৃষি ভর্তুকি দিচ্ছে।
কৃষি কাজ স্বাভাবিক রাখতে কৃষকদের সঠিক সার সরবরাহ করতে হবে। সার সংকট দেখিয়ে সারের মূল্য বৃদ্ধি করে সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে। সার ক্রয়-বিক্রয়ে কোন কারসাজি বা সিন্ডিকেট বরদাস্ত করা হবে না।
প্রত্যেক ইউনিয়নে সঠিক মতো সার সরবরাহ করতে হবে। নিরবিচ্ছিন্নভাবে সকল কৃষকদের মাঝে সার সরবরাহ করতে হবে।
জেলার কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার বিতরণ কার্যক্রমের গুরুত্ব ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। ডিলারদের সার প্রাপ্তি ও বিতরণ কার্যক্রমে সম্মুখীন সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করা হয়।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “সরকারি নির্দেশনা মেনে সময়মতো সার বিতরণ নিশ্চিত করা কৃষি উৎপাদনের অগ্রগতি বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি। ডিলাররা যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তা মনিটরিং করা হবে।”
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহবায়ক ও জেলা সার বীজ মনিটরিং এর সদস্য আসলাম হোসেন অর্ক বলেন সার নিয়ে আমাদের জেলায় কোন বৈষম্য চলবে না, সার নিয়ে সকল সিন্ডিকেট ও পারিবারিক কেন্দ্রিক একাধিক ডিলারশিপ সিন্ডিকেট এর প্রথা বাতিল করে সঠিক মূল্য কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করতে হবে, যারা সারসংকট করে ও বেশি দামে সার বিক্রি করছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগকে আহ্বান জানান।
বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ফরিদ হোসেন বলেন বিসিআইসির একাধিক সার ডিলাররা চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে বিএডিসির নন ইউরিয়া সার উত্তোলন করছে , এখানে বিএডিসি ডিলাররা বঞ্চিত হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি চুয়াডাঙ্গার উপ-সহকারী পরিচালক (সার) শংকর কুমার সাহা, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলার আহ্বায়ক ও জেলা সার বীজ মনিটরিং এর সদস্য আসলাম হোসেন অর্ক,বিএফএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকবার আলী ও সাধারণ সম্পাদক হবিবুর মিয়া,বিএডিসি বীজ ও স্যার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা লোকমোর্চা সভাপতি অ্যাড. মানিক আকবর, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারি কামরুজ্জামান যুদ্ধ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিন বিনতে আজিজ, জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার, চুয়াডাঙ্গা লোকমোর্চা সচিব কানিজ সুলতানা, সদস্য শেখ লিটন, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল আলিম সজল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক মফিজ জোয়ার্দ্দার, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ হক, আকিমুল ইসলাম প্রমুখসহ জেলার বিসিআইসির ৫০ জন ও বিএডিসির ১০৫ জন বীজ ও সার ডিলার উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার বিতরণে শৃঙ্খলা রক্ষা ও কৃষকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ডিলাররা তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং সুষ্ঠু সার সরবরাহের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার বিতরণ কার্যক্রম আরও উন্নত করার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।