চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ায় গণেশ প্রামানিকের স্ত্রী, অঞ্জলী রানী (৫০), গত ২০ অক্টোবর ২০২৪ সকালে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে আসামি ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা নিশ্চিত করে, এরপর তার বসতঘরে থাকা সাব-বাক্স থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ভিকটিমের ভাই অশোক কুমার বিশ্বাস গত ২২ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় পেনাল কোড অনুযায়ী মামলা রুজু হয়।
ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতারের নির্দেশনা প্রদান করেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন এর নেতৃত্বে সদর থানা, সাইবার ক্রাইম সেল, গোয়েন্দা শাখা ও সিআইডি সমন্বিত একটি টিম আসামি গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।
অবশেষে ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা শাখার চৌকস টিম ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার শিংগা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি চুয়াডাঙ্গা সদরের দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার ওয়াদুদ ওরফে ওদু মন্ডল (৩০) কে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যার বিবরণ দিয়ে স্বীকারোক্তি দেয় এবং তার হেফাজতে থাকা ভিকটিমের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়, এসময় আসামির নিকট হতে স্বর্ণের একটি নেকলেস , স্বর্ণের তিনটি পলা , চারটি স্বর্ণের কানের দুল ,একটি স্বর্ণের রিং কানের দুল , দুইটি রুপার নুপুর এবং নগদ ৫০,০০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আসামি স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা ও দ্রুত গ্রেফতার অভিযান জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।