১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে চুয়াডাঙ্গা পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম

  • Update Time : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩
  • ৯৭ Time View

 

 

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সকল ধরনের কার্যক্রম সার্ভার সচল না থাকায় টানা এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে । অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর) পুড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সার্ভার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ গমনেচ্ছুক যাত্রী ও পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশী হাজার হাজার মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, গত বুধবার (২৬ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের পাসপোর্ট অফিসের আওতাধীন একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়। এরপর বিদ্যুৎ বার বার আসা যাওয়া করতে থাকে এবং ভোল্টেজ ওঠা-নামা করে। যার কারণে পুড়ে যায় পাসপোর্ট অফিসের অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর) মেশিনটি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিকল হয়ে যায় অফিসের পুরো সার্ভার। বিষয়টি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে সেখান থেকে প্রকৌশলীরা আসেন চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক কার্যালয়ে। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরও সচল করা যায়নি এভিআর।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে লেখা আছে, এতদ্বারা সর্ব সাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে সার্ভার পুড়ে গেছে, বিধায় সকল কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকবে। সার্ভার ঠিক হওয়া মাত্রই আমরা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করব। সাময়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

বারবার চেষ্টার পরও সচল হয়নি এভিআর মেশিনটি। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিনশত বিদেশ গমনেচ্ছুক ও পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশী মানুষ চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এসে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ঘুরে যাচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কবে নাগাদ সচল হবে কার্যক্রম, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা।

ঢাকা থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে আসা সুজন আলী নামে এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসেছি শুধু মাত্র আমার পাসপোর্টটি ডেলিভারি নিতে। অফিসে এসে শুনছি সকল কার্যক্রম বন্ধ আছে। এতদূর থেকে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলো।

আলমডাঙ্গা থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে আসা আহসান হাবিব নামে আর এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু বিষয়টি আগে থেকে জানতে পারলে আর কষ্ট করে আসতে হতো না।

জীবননগর থেকে আসা ইমরান হোসেন নামে অপর সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমার পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে, তাই থানায় জিডি করবো। আমার কাছে পাসপোর্ট নম্বর আছে কিন্তু ইস্যু তারিখ ভুলে গেছি। তাই ইস্যুর তারিখ জানার জন্যে এসেছি। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার কবে আসতে হবে সেটিও ঠিক করে কেউ বলতে পারছেন না।

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুস সাত্তার গনমাধ্যমকে জানান, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর) বিকল হয়ে গেছে। ফলে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসের প্রকৌশলীরা এসে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বারবার চেষ্টা করেও তা এখনো সচল হয়নি। প্রায় কোটি টাকার মালামাল থাকায় বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকৌশলীর টিম এসে খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে আবার কার্যক্রম শুরু হবে

Tag :
জনপ্রিয়

পান বরজে আগুন, পুড়ে শেষ হলো কৃষকের স্বপ্ন

৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে চুয়াডাঙ্গা পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম

Update Time : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩

 

 

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সকল ধরনের কার্যক্রম সার্ভার সচল না থাকায় টানা এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে । অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর) পুড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সার্ভার। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ গমনেচ্ছুক যাত্রী ও পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশী হাজার হাজার মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, গত বুধবার (২৬ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কের পাসপোর্ট অফিসের আওতাধীন একটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়। এরপর বিদ্যুৎ বার বার আসা যাওয়া করতে থাকে এবং ভোল্টেজ ওঠা-নামা করে। যার কারণে পুড়ে যায় পাসপোর্ট অফিসের অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর) মেশিনটি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে বিকল হয়ে যায় অফিসের পুরো সার্ভার। বিষয়টি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে সেখান থেকে প্রকৌশলীরা আসেন চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক কার্যালয়ে। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরও সচল করা যায়নি এভিআর।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে লেখা আছে, এতদ্বারা সর্ব সাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে সার্ভার পুড়ে গেছে, বিধায় সকল কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকবে। সার্ভার ঠিক হওয়া মাত্রই আমরা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করব। সাময়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

বারবার চেষ্টার পরও সচল হয়নি এভিআর মেশিনটি। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিনশত বিদেশ গমনেচ্ছুক ও পাসপোর্ট সেবা প্রত্যাশী মানুষ চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এসে সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ঘুরে যাচ্ছেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। কবে নাগাদ সচল হবে কার্যক্রম, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা।

ঢাকা থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে আসা সুজন আলী নামে এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমি ঢাকা থেকে এসেছি শুধু মাত্র আমার পাসপোর্টটি ডেলিভারি নিতে। অফিসে এসে শুনছি সকল কার্যক্রম বন্ধ আছে। এতদূর থেকে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলো।

আলমডাঙ্গা থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে আসা আহসান হাবিব নামে আর এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু বিষয়টি আগে থেকে জানতে পারলে আর কষ্ট করে আসতে হতো না।

জীবননগর থেকে আসা ইমরান হোসেন নামে অপর সেবাপ্রত্যাশী বলেন, আমার পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে, তাই থানায় জিডি করবো। আমার কাছে পাসপোর্ট নম্বর আছে কিন্তু ইস্যু তারিখ ভুলে গেছি। তাই ইস্যুর তারিখ জানার জন্যে এসেছি। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার কবে আসতে হবে সেটিও ঠিক করে কেউ বলতে পারছেন না।

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুস সাত্তার গনমাধ্যমকে জানান, বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর) বিকল হয়ে গেছে। ফলে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসের প্রকৌশলীরা এসে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বারবার চেষ্টা করেও তা এখনো সচল হয়নি। প্রায় কোটি টাকার মালামাল থাকায় বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকৌশলীর টিম এসে খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে আবার কার্যক্রম শুরু হবে