০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় চাষীরা এসিআই ও লালতীর কোম্পানির কুমড়ার বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত

  • Update Time : ০৯:২২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩
  • 147

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার হিজল গাড়ি, কোটালি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের চাষিরা বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত এসিআই ও লালতীর কোম্পানির কুমড়ার বীজ কিনে প্রতারিত। কুমড়ার বীজ বপন করে গাছ হলেও কুমড়া না ধরায় এ এলাকার চাষিরা হতাশ।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বীজ কোম্পানী প্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

 

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানী চিনিকল খামারের আখ চাষ হয়না এমন পড়ে থাকা জমি বিঘা প্রতি ১০ হাজার ৫০০ টাকা দরে ৬ মাসের জন্য ইজারা নেন কয়েকজন চাষি। সেখানে তারা কুমড়ার চাষ করেন। কুমড়া চাষের কাজে চাষিরা নিজেদের রেখে দেয়া বীজ ও ভাল মানের কোম্পানী বীজ বপণ করে থাকেন। ভাল মানের এসিআই ও লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ এবার জমিতে বপণ করে বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির সম্মোখীন হয়েছেন কয়েকজন চাষী। বপণের পর জমিতে বড় বড় গাছ হলেও তাতে কুমড়া ধরেনি। চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী, কোটালী ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের চাষীদের প্রায় ১৭০ বিঘা জমিতে এসিআই ও লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ বপন করে এ সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। জমি ইজারা ও জমি প্রস্তুতের জন্য চাষাবাদ, সার, কিটনাশক, সেচ ও বীজ বপন ব্যয় কিভাবে পুষাবেন তা নিয়ে চাষিরা চিন্তিত।

 

 

ছয়ঘরিয়া গ্রামের চাষি শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, কেরুর জমি ইজারা নিয়ে লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ ৫০ বিঘা এবং এসিআই কোম্পানীর বীজ ১০ বিঘা জমিতে বপন করি। গাছ হলেও কুমড়া না ধরায় প্রায় ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। বীজ বিক্রির সময় নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

কোটালী গ্রামের চাষি আনিস উদ্দিন বলেন, ৩০ বিঘা কেরুর জমি ইজারা নিয়ে এসিআই ও লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ বপণ করলেও গাছে কোন কুমড়া ধরেনি। কোম্পানীর প্রতিনিধিরা এখন আর দেখা করছে না।

 

 

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত চাষি হিজলগাড়ী গ্রামের সাইফুল আজম মিন্টু বলেন, চলতি মৌসুমে কেরু এ্যান্ড কোম্পানী চিনিকলের আড়িয়া ও ডিহি কৃষি খামারের ৫০ বিঘা জমি ১০ হাজার ৫০০ টাকা দরে ইজারা নিই। ওই জমিতে এসিআই কোম্পানীর কুমড়ার বীজ কিনে এনে বপন করি। দুঃখজনক হলেও সত্য বীজ থেকে গাছ হলেও তাতে কুমড়া ধরেনি। বিষয়টি কোম্পানীর প্রতিনিধি ও এলাকার দায়িত্বরত কৃষি অফিসারদেকে দেখায়। এতে জমি ইজারা এবং চাষাবাদ বাবদ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

কুমড়ার বীজ প্রসঙ্গে এসিআই (বীজ) কোম্পানীর এরিয়া সেলস ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালতীর কুমড়া বীজ কোম্পানীর সেলস ম্যানেজার ফরিদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের আলী হোসেন সুপার মার্কেটে অবস্থিত বগা মিয়ার দোকান থেকে বীজ নিয়ে আমি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি। ওই বীজ ভাল কি মন্দ তা আমি জানিনা। এ বীজের দায়িত্ব নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার হিজল গাড়ি, কোটালি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের কয়েকজন চাষি এসিআই ও লালতীর কুমড়া বীজ বপন করে ফলন পায়নি। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। আমরা সার মনিটরিং কমিটিতে আলোচনা করে কি কারণে ফল হয়নি তা দেখার জন্য জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তাকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দিলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

অবৈধ গ্যাস সংযোগ : ৭ মামলায় দেড় লাখ টাকার বেশি জরিমানা

চুয়াডাঙ্গায় চাষীরা এসিআই ও লালতীর কোম্পানির কুমড়ার বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত

Update Time : ০৯:২২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার হিজল গাড়ি, কোটালি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের চাষিরা বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত এসিআই ও লালতীর কোম্পানির কুমড়ার বীজ কিনে প্রতারিত। কুমড়ার বীজ বপন করে গাছ হলেও কুমড়া না ধরায় এ এলাকার চাষিরা হতাশ।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বীজ কোম্পানী প্রতিনিধিদের কাছে ধর্না দিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

 

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানী চিনিকল খামারের আখ চাষ হয়না এমন পড়ে থাকা জমি বিঘা প্রতি ১০ হাজার ৫০০ টাকা দরে ৬ মাসের জন্য ইজারা নেন কয়েকজন চাষি। সেখানে তারা কুমড়ার চাষ করেন। কুমড়া চাষের কাজে চাষিরা নিজেদের রেখে দেয়া বীজ ও ভাল মানের কোম্পানী বীজ বপণ করে থাকেন। ভাল মানের এসিআই ও লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ এবার জমিতে বপণ করে বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির সম্মোখীন হয়েছেন কয়েকজন চাষী। বপণের পর জমিতে বড় বড় গাছ হলেও তাতে কুমড়া ধরেনি। চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী, কোটালী ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের চাষীদের প্রায় ১৭০ বিঘা জমিতে এসিআই ও লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ বপন করে এ সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। জমি ইজারা ও জমি প্রস্তুতের জন্য চাষাবাদ, সার, কিটনাশক, সেচ ও বীজ বপন ব্যয় কিভাবে পুষাবেন তা নিয়ে চাষিরা চিন্তিত।

 

 

ছয়ঘরিয়া গ্রামের চাষি শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, কেরুর জমি ইজারা নিয়ে লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ ৫০ বিঘা এবং এসিআই কোম্পানীর বীজ ১০ বিঘা জমিতে বপন করি। গাছ হলেও কুমড়া না ধরায় প্রায় ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। বীজ বিক্রির সময় নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

কোটালী গ্রামের চাষি আনিস উদ্দিন বলেন, ৩০ বিঘা কেরুর জমি ইজারা নিয়ে এসিআই ও লালতীর কোম্পানীর কুমড়া বীজ বপণ করলেও গাছে কোন কুমড়া ধরেনি। কোম্পানীর প্রতিনিধিরা এখন আর দেখা করছে না।

 

 

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত চাষি হিজলগাড়ী গ্রামের সাইফুল আজম মিন্টু বলেন, চলতি মৌসুমে কেরু এ্যান্ড কোম্পানী চিনিকলের আড়িয়া ও ডিহি কৃষি খামারের ৫০ বিঘা জমি ১০ হাজার ৫০০ টাকা দরে ইজারা নিই। ওই জমিতে এসিআই কোম্পানীর কুমড়ার বীজ কিনে এনে বপন করি। দুঃখজনক হলেও সত্য বীজ থেকে গাছ হলেও তাতে কুমড়া ধরেনি। বিষয়টি কোম্পানীর প্রতিনিধি ও এলাকার দায়িত্বরত কৃষি অফিসারদেকে দেখায়। এতে জমি ইজারা এবং চাষাবাদ বাবদ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

কুমড়ার বীজ প্রসঙ্গে এসিআই (বীজ) কোম্পানীর এরিয়া সেলস ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর এটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালতীর কুমড়া বীজ কোম্পানীর সেলস ম্যানেজার ফরিদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের আলী হোসেন সুপার মার্কেটে অবস্থিত বগা মিয়ার দোকান থেকে বীজ নিয়ে আমি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি। ওই বীজ ভাল কি মন্দ তা আমি জানিনা। এ বীজের দায়িত্ব নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার হিজল গাড়ি, কোটালি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের কয়েকজন চাষি এসিআই ও লালতীর কুমড়া বীজ বপন করে ফলন পায়নি। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন । আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। আমরা সার মনিটরিং কমিটিতে আলোচনা করে কি কারণে ফল হয়নি তা দেখার জন্য জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তাকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দিলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।