০১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে বিদ্যুতায়িত হয়ে গৃহবধূ ও বিয়ের স্টেজে যুবকের মৃত্যু

  • Update Time : ১১:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • 20

ফেনীর সোনাগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক গৃহবধূ ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ও সন্ধ্যায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ রুমা আক্তার (৩৫) সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মহাদিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী এবং সাইমন মজুমদার (২০) মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে।

নিহত গৃহবধূর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হন রুমা আক্তার। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোমিনুল হক জানান, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রুমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজন কোহিনূর বলেন, ‘আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন মৃত্যু কখনো কাম্য নয়।’

অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের স্টেজে লাইটিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে সাইমন মজুমদার (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

সাইমন মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি পরশুরাম বাজারের কলেজ রোডে ‘সায়মন্ড ইভেন্ট’ নামে একটি ইভেন্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর এক বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানের মঞ্চে আলোকসজ্জায় সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন সাইমন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাইমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বজন, বন্ধু ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিলে স্বজনরা এতে আপত্তি জানান। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে স্বজন ও স্থানীয়রা আপত্তি জানান। এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে জড়ো হয়ে মরদেহ নিয়ে যেতে বাধা দেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

Tag :
জনপ্রিয়

অবৈধ গ্যাস সংযোগ : ৭ মামলায় দেড় লাখ টাকার বেশি জরিমানা

ফেনীতে বিদ্যুতায়িত হয়ে গৃহবধূ ও বিয়ের স্টেজে যুবকের মৃত্যু

Update Time : ১১:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক গৃহবধূ ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ও সন্ধ্যায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ রুমা আক্তার (৩৫) সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মহাদিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী এবং সাইমন মজুমদার (২০) মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে।

নিহত গৃহবধূর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হন রুমা আক্তার। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোমিনুল হক জানান, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রুমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজন কোহিনূর বলেন, ‘আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন মৃত্যু কখনো কাম্য নয়।’

অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের স্টেজে লাইটিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে সাইমন মজুমদার (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

সাইমন মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি পরশুরাম বাজারের কলেজ রোডে ‘সায়মন্ড ইভেন্ট’ নামে একটি ইভেন্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর এক বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানের মঞ্চে আলোকসজ্জায় সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন সাইমন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাইমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বজন, বন্ধু ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিলে স্বজনরা এতে আপত্তি জানান। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে স্বজন ও স্থানীয়রা আপত্তি জানান। এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে জড়ো হয়ে মরদেহ নিয়ে যেতে বাধা দেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’