রাজবাড়ী কর কমিশনারের কার্যালয়ে জনবলের সংকটে কর দাতাদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
ফরিদপুর কর জোনের কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারের সাথে সমস্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের বৃহত্তর ফরিদপুর কর জোনে মোট ২২টি সার্কেল অফিস ২২ জন কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন।
আমি ফরিদপুর জোনের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও আমাকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মধুখালী উপজেলাসহ কয়েকটি জেলা সার্কেল দেখাশুনা করতে হয়। যে কারণে সবগুলো অফিসে যাওয়া সম্ভব হয় না।
৬৫ বছরের ওপরে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, প্রবাসীদের কর ফাইল হাতে ফিলাপ করার কারণে অফিস কর্মকর্তা না থাকায় তাদের জন্য ইনকাম ট্যাক্সের ফাইল কমপ্লিট করা কষ্ট হচ্ছে।
রাজবাড়ী ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবি এডভোকেট শওকত সরদার জানান, ইনকাম ট্যাক্স অফিসে অফিসার থাকলে একটা আয়কর ফাইল কমপ্লিট করতে আমাদের এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। এখন সেখানে দুই-তিন দিন, কখনো মাস ও লেগে যায়। ফলে করদাতাদের যেমন ভোগান্তি বেড়েছে, অপরদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমেছে।
রাজবাড়ী কর কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় কর কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক অবসর জনিত কারণে ছুটিতে চলে গেলে কমিশনারের পদটি শূন্য হয়।
সে থেকে আজ অবদি কর কমিশনারের পদ শূন্য থাকায় করদাতাগণ অফিসে এসে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
নাইমুল ইসলাম একজন করদাতা তিনি জানান, কর দেবেন কিন্তু অফিসার না থাকায় তাকে ফরিদপুর গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তার ফাইল দেখাতে হচ্ছে।
স্থানীয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে বিগত বছরে ২২- ২৩ হাজারেরও বেশী রিটার্ন জমা পড়লেও এ বছর মাত্র ১৫ হাজার রিটার্নও জমা পড়েনি।
অপরদিকে একজন কর দাতা মো. শাহীন খান জানান, কর কর্মকর্তা না থাকায় অফিসে দালালে ভরে গেছে। তারা করদাতাদেরকে নানা হুমকি ধামকি দিয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়তি টাকা পয়সা আদায় করছে।
ফলে জেলার করদাতাগণ কর কমিশনারের কার্যালয় ফরিদপুর যেতে আপত্তি জানাচ্ছে।
শীঘ্রই রাজবাড়ী সার্কেল -১১ অফিসে কর্মকর্তা নিয়োগের দাবী জানিয়েছেন।






















