০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে কার্যকর হচ্ছে নতুন নীতিমালা, বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন

  • Update Time : ১২:০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • 89

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মী (এক্সপ্যাট্রিয়েট) নিয়োগে নতুন নীতিমালা আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন)। নিয়োগকর্তা ও শিল্প খাতকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবাসী কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত এই নতুন নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। নীতিমালার আওতায় এমপ্লয়মেন্ট পাশের ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩-এর বেতন কাঠামোর পুনর্গঠন এবং মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের নিয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রণীত বিদ্যমান নীতিমালাকে ২০২২ সাল থেকে শিল্প খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা ১৩তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (আরএমকে-১৩)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রবাসী নিয়োগের আগে যোগ্য স্থানীয় জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন নীতিমালায় প্রথমবারের মতো প্রবাসী কর্মীদের নিয়োগের নির্দিষ্ট মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা আগে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত ছিল না। এর লক্ষ্য একদিকে উচ্চদক্ষ প্রবাসী কর্মীদের দেশের উন্নয়নে অবদান নিশ্চিত করা, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মীদের সম্পৃক্ত করে নিয়োগকর্তাদের জন্য একটি কার্যকর উত্তরাধিকার (সাকসেশন) পরিকল্পনা গড়ে তোলা। নীতিমালার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কেডিএন শিল্পখাত, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও পরামর্শ সভা আয়োজন করবে। যাতে নীতির রূপান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল হয় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ নীতির আলোকে সরকার প্রতিটি নীতিগত সংস্কার ধাপে ধাপে এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। আরও পড়ুন কবে থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র? কবে থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র? নতুন নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ: এমপ্লয়মেন্ট পাশ ক্যাটাগরি ১: ন্যূনতম বেতন ১০,০০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি নির্ধারণ। ক্যাটাগরি ২: বেতন ৫,০০০–৯,৯৯৯ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০–১৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। ক্যাটাগরি ৩: বেতন ৩,০০০–৪,৯৯৯ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০–৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। তবে উৎপাদন ও উৎপাদন-সম্পর্কিত সেবা (এমআরএস) খাতে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,০০০–৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। নিয়োগ মেয়াদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত: ক্যাটাগরি ১ ও ২ এমপ্লয়মেন্ট পাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি ২ ও ৩-এর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক। ক্যাটাগরি ৩ এমপ্লয়মেন্ট পাশের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৫ বছর। ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩-এর সব প্রবাসী কর্মী তাদের নির্ভরশীলদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি পাবেন। সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মী নিয়োগে শৃঙ্খলা ফিরবে, স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার শনাক্ত: বাংলাফ্যাক্ট

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে কার্যকর হচ্ছে নতুন নীতিমালা, বেতন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন

Update Time : ১২:০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মী (এক্সপ্যাট্রিয়েট) নিয়োগে নতুন নীতিমালা আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন)। নিয়োগকর্তা ও শিল্প খাতকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবাসী কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত এই নতুন নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। নীতিমালার আওতায় এমপ্লয়মেন্ট পাশের ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩-এর বেতন কাঠামোর পুনর্গঠন এবং মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের নিয়োগের সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রণীত বিদ্যমান নীতিমালাকে ২০২২ সাল থেকে শিল্প খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা ১৩তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (আরএমকে-১৩)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং প্রবাসী নিয়োগের আগে যোগ্য স্থানীয় জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন নীতিমালায় প্রথমবারের মতো প্রবাসী কর্মীদের নিয়োগের নির্দিষ্ট মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা আগে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত ছিল না। এর লক্ষ্য একদিকে উচ্চদক্ষ প্রবাসী কর্মীদের দেশের উন্নয়নে অবদান নিশ্চিত করা, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মীদের সম্পৃক্ত করে নিয়োগকর্তাদের জন্য একটি কার্যকর উত্তরাধিকার (সাকসেশন) পরিকল্পনা গড়ে তোলা। নীতিমালার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কেডিএন শিল্পখাত, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও পরামর্শ সভা আয়োজন করবে। যাতে নীতির রূপান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল হয় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ নীতির আলোকে সরকার প্রতিটি নীতিগত সংস্কার ধাপে ধাপে এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। আরও পড়ুন কবে থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র? কবে থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র? নতুন নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ: এমপ্লয়মেন্ট পাশ ক্যাটাগরি ১: ন্যূনতম বেতন ১০,০০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি নির্ধারণ। ক্যাটাগরি ২: বেতন ৫,০০০–৯,৯৯৯ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০–১৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। ক্যাটাগরি ৩: বেতন ৩,০০০–৪,৯৯৯ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০–৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। তবে উৎপাদন ও উৎপাদন-সম্পর্কিত সেবা (এমআরএস) খাতে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,০০০–৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। নিয়োগ মেয়াদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত: ক্যাটাগরি ১ ও ২ এমপ্লয়মেন্ট পাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি ২ ও ৩-এর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক। ক্যাটাগরি ৩ এমপ্লয়মেন্ট পাশের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৫ বছর। ক্যাটাগরি ১, ২ ও ৩-এর সব প্রবাসী কর্মী তাদের নির্ভরশীলদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি পাবেন। সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মী নিয়োগে শৃঙ্খলা ফিরবে, স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।