০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হতদরিদ্রের চালের লাইনে কলেজ শিক্ষক! আলমডাঙ্গায় চাঞ্চল্য ​নিজস্ব প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা: হতদরিদ্র, বিধবা আর দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন এক স্বচ্ছল কলেজ শিক্ষক। আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

  • Update Time : ১০:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • 171

গত ১৫ মার্চ (রবিবার) আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নিতে দেখা যায় ইয়াসিন আলি নামে এক ব্যক্তিকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক। একজন কলেজ শিক্ষককে দুস্থদের চালের লাইনে দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যান।

​চাল নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক ইয়াসিন আলি বলেন, “আমার বাসায় কে কার্ড দিয়ে গেছে আমি জানি না, তবে এটার প্রাপ্য আমি। কার্ড পেয়েছি, তাই চাল নিতে এসেছি।”
​তবে স্থানীয়রা এই দাবির সাথে একমত নন। তাদের মতে, ইয়াসিন আলির আলমডাঙ্গা পৌরসভার এরশাদপুরে নিজস্ব ফ্ল্যাটবাড়ি রয়েছে এবং তিনি যথেষ্ট জমি-জমার মালিক। একজন স্বচ্ছল পেশাজীবী হয়েও সরকারি ত্রাণ গ্রহণ করাকে নীতিবহির্ভূত বলে মনে করছেন তারা।

​পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রানা জানান, ওই শিক্ষক অনেক আগে থেকেই চাল নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এবার আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাল বিতরণ করছি। হয়তো ভুলবশত তার হাতে কার্ড চলে গেছে।”
​বিষয়টি নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন:
​”ঘটনাটি শোনার পর আমি খোঁজ নিয়েছি কে তাকে কার্ড দিয়েছে, কিন্তু কেউ দায় স্বীকার করছে না। আমি নির্দেশ দিয়েছি—যদি তিনি পাওয়ার যোগ্য না হন, তবে সেই চাল যেন কোনো প্রকৃত গরিব ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া হয়।”

​সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত অভাবী মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এই ধরনের সুবিধা গ্রহণ প্রকৃত দুস্থদের অধিকার হরণ করার শামিল বলে মনে করছেন তারা।

Tag :
জনপ্রিয়

হতদরিদ্রের চালের লাইনে কলেজ শিক্ষক! আলমডাঙ্গায় চাঞ্চল্য ​নিজস্ব প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা: হতদরিদ্র, বিধবা আর দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন এক স্বচ্ছল কলেজ শিক্ষক। আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

Update Time : ১০:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

গত ১৫ মার্চ (রবিবার) আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নিতে দেখা যায় ইয়াসিন আলি নামে এক ব্যক্তিকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক। একজন কলেজ শিক্ষককে দুস্থদের চালের লাইনে দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যান।

​চাল নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক ইয়াসিন আলি বলেন, “আমার বাসায় কে কার্ড দিয়ে গেছে আমি জানি না, তবে এটার প্রাপ্য আমি। কার্ড পেয়েছি, তাই চাল নিতে এসেছি।”
​তবে স্থানীয়রা এই দাবির সাথে একমত নন। তাদের মতে, ইয়াসিন আলির আলমডাঙ্গা পৌরসভার এরশাদপুরে নিজস্ব ফ্ল্যাটবাড়ি রয়েছে এবং তিনি যথেষ্ট জমি-জমার মালিক। একজন স্বচ্ছল পেশাজীবী হয়েও সরকারি ত্রাণ গ্রহণ করাকে নীতিবহির্ভূত বলে মনে করছেন তারা।

​পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রানা জানান, ওই শিক্ষক অনেক আগে থেকেই চাল নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এবার আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাল বিতরণ করছি। হয়তো ভুলবশত তার হাতে কার্ড চলে গেছে।”
​বিষয়টি নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন:
​”ঘটনাটি শোনার পর আমি খোঁজ নিয়েছি কে তাকে কার্ড দিয়েছে, কিন্তু কেউ দায় স্বীকার করছে না। আমি নির্দেশ দিয়েছি—যদি তিনি পাওয়ার যোগ্য না হন, তবে সেই চাল যেন কোনো প্রকৃত গরিব ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া হয়।”

​সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত অভাবী মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এই ধরনের সুবিধা গ্রহণ প্রকৃত দুস্থদের অধিকার হরণ করার শামিল বলে মনে করছেন তারা।