০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামুদ্রিক মাইন: হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে মৃত্যুফাঁদ পেতেছে ইরান

  • Update Time : ০৩:১৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 127

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর অনুযায়ী ইরান সেখানে নৌ মাইন বসিয়েছে। এতে বিশ্ব বাণিজ্য এবং তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বাহিনী ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর অন্তত এক ডজন নৌ মাইন বসিয়েছে। এই মাইনগুলোর নাম মাহাম-৩ এবং মাহাম-৭। এগুলো আধুনিক ধরনের মাইন। এগুলো জাহাজ শনাক্ত করতে পারে এবং কাছাকাছি এলেই বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই মাইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২ দিনের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২৩ মার্চ বসানো হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলো মাইন বসানো হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, সংখ্যা কম হলেও এর প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। তাই এখানে অল্প কিছু মাইন থাকলেও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেক জাহাজ কোম্পানি ইতিমধ্যে এই পথে চলাচল নিয়ে চিন্তায় আছে। বীমা খরচও বাড়তে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মাইনগুলো এলোমেলোভাবে বসানো হয়নি। নির্দিষ্ট জায়গায় বসানো হয়েছে। এর মানে ইরান চাইলে কিছু জাহাজকে যেতে দিতে পারে। আবার চাইলে পথ বন্ধও করতে পারে। এতে প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত পথ হয়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে ইরান ভূখণ্ডের কাছের দিকে এই মাইন বসানো হয়নি। মূলত দুবাইয়ের তীরবর্তী অঞ্চলে এসব বসানো হয়েছে বলে গুঞ্জন আছে।

একজন নৌ ইতিহাসবিদ জন বাল্কলি বলেন, ‘বিশ্বের তেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সরাসরি যুদ্ধের দরকার হয় না।’

এদিকে এখনো কোনো জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়েছে এমন খবর নিশ্চিত হয়নি। তবে ইরানের ড্রোন হামলার কারণে অনেক জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাস্তবে এই পথে চলাচল অনেক কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নজরদারি করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে কাজ করতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া জাপানও প্রয়োজন হলে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে।

মার্কিন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জ্যাক কীন বলেন, ‘আমরা এমন একটি সরকারের সঙ্গে কাজ করছি যারা অতীতে অনেকবার প্রতারণা করেছে। তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।’

বর্তমানে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী এখনো খোলা আছে। তবে এই পথ এখন আগের মতো নিরাপদ নয়। যে কোনো সময় বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে শঙ্কা কাজ করছে এখন।

সূত্র- গালফ নিউজ

Tag :
জনপ্রিয়

সামুদ্রিক মাইন: হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে মৃত্যুফাঁদ পেতেছে ইরান

Update Time : ০৩:১৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর অনুযায়ী ইরান সেখানে নৌ মাইন বসিয়েছে। এতে বিশ্ব বাণিজ্য এবং তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বাহিনী ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর অন্তত এক ডজন নৌ মাইন বসিয়েছে। এই মাইনগুলোর নাম মাহাম-৩ এবং মাহাম-৭। এগুলো আধুনিক ধরনের মাইন। এগুলো জাহাজ শনাক্ত করতে পারে এবং কাছাকাছি এলেই বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই মাইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২ দিনের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২৩ মার্চ বসানো হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলো মাইন বসানো হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, সংখ্যা কম হলেও এর প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। তাই এখানে অল্প কিছু মাইন থাকলেও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেক জাহাজ কোম্পানি ইতিমধ্যে এই পথে চলাচল নিয়ে চিন্তায় আছে। বীমা খরচও বাড়তে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মাইনগুলো এলোমেলোভাবে বসানো হয়নি। নির্দিষ্ট জায়গায় বসানো হয়েছে। এর মানে ইরান চাইলে কিছু জাহাজকে যেতে দিতে পারে। আবার চাইলে পথ বন্ধও করতে পারে। এতে প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত পথ হয়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে ইরান ভূখণ্ডের কাছের দিকে এই মাইন বসানো হয়নি। মূলত দুবাইয়ের তীরবর্তী অঞ্চলে এসব বসানো হয়েছে বলে গুঞ্জন আছে।

একজন নৌ ইতিহাসবিদ জন বাল্কলি বলেন, ‘বিশ্বের তেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সরাসরি যুদ্ধের দরকার হয় না।’

এদিকে এখনো কোনো জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়েছে এমন খবর নিশ্চিত হয়নি। তবে ইরানের ড্রোন হামলার কারণে অনেক জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাস্তবে এই পথে চলাচল অনেক কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নজরদারি করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে কাজ করতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া জাপানও প্রয়োজন হলে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে।

মার্কিন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জ্যাক কীন বলেন, ‘আমরা এমন একটি সরকারের সঙ্গে কাজ করছি যারা অতীতে অনেকবার প্রতারণা করেছে। তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।’

বর্তমানে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী এখনো খোলা আছে। তবে এই পথ এখন আগের মতো নিরাপদ নয়। যে কোনো সময় বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে শঙ্কা কাজ করছে এখন।

সূত্র- গালফ নিউজ