০২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, পিআইও অফিস সহকারী কারাগারে

  • Update Time : ০২:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • 36

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার মামলায় দাগনভূঞা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  (পিআইও) অফিসের সহকারী আব্দুল লতিফকে গ্রেফতার করেছে দাগনভূঞা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গ্রেফতার লতিফকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ফেনী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত। বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার বাদী প্রবাসী জানান, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মীর হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২ বছর ধরে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন লতিফ। মীর হোসেন প্রবাসে থাকার সুবাধে ৩ সন্তানের জননী মালেকা হোসেনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেন লতিফ। মালেকাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাৎ করে নেন তিনি।

বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৪ সালে মীর হোসেন দেশে এসে লতিফকে এ সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার অনুরোধ করেন। এতে লতিফ ক্ষিপ্ত হয়ে মালেকাকে ভিডিও আছে মর্মে ভয় দেখাতে শুরু করেন। তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে এবং তার কথা না শুনলে সব ভিডিও ভাইরাল করে দেবেন; এমন ভয় দেখান। তখন মীর হোসেন প্রতিকার চেয়ে দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, জেলা দূর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দেন।

অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি মীর হোসেন। তবে অভিযোগের কারণে লতিফ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নিরূপায় হয়ে ফেনী জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন মীর হোসেন। মামলায় লতিফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা দূর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রবিউল হোসেন যুগান্তরকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম জানান, লতিফের বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। আমরা অফিসিয়ালি অধিদপ্তরকে রিপোর্ট পাঠাব।

দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জেলা ও উপজেলা অফিসকে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, পিআইও অফিস সহকারী কারাগারে

Update Time : ০২:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার মামলায় দাগনভূঞা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  (পিআইও) অফিসের সহকারী আব্দুল লতিফকে গ্রেফতার করেছে দাগনভূঞা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গ্রেফতার লতিফকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ফেনী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত। বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার বাদী প্রবাসী জানান, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মীর হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২ বছর ধরে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন লতিফ। মীর হোসেন প্রবাসে থাকার সুবাধে ৩ সন্তানের জননী মালেকা হোসেনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেন লতিফ। মালেকাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাৎ করে নেন তিনি।

বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৪ সালে মীর হোসেন দেশে এসে লতিফকে এ সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার অনুরোধ করেন। এতে লতিফ ক্ষিপ্ত হয়ে মালেকাকে ভিডিও আছে মর্মে ভয় দেখাতে শুরু করেন। তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলে এবং তার কথা না শুনলে সব ভিডিও ভাইরাল করে দেবেন; এমন ভয় দেখান। তখন মীর হোসেন প্রতিকার চেয়ে দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, জেলা দূর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ দেন।

অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি মীর হোসেন। তবে অভিযোগের কারণে লতিফ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। নিরূপায় হয়ে ফেনী জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন মীর হোসেন। মামলায় লতিফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা দূর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রবিউল হোসেন যুগান্তরকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা দুর্যোগ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম জানান, লতিফের বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। আমরা অফিসিয়ালি অধিদপ্তরকে রিপোর্ট পাঠাব।

দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জেলা ও উপজেলা অফিসকে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হবে।