০২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার আলোকদিয়ায় স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ

  • Update Time : ১২:১৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • 116

মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে মোক্তার আলী ওরফে উকিল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুতু খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের আকুন্দবাড়ী খালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার আলী শুক্রবার ২৭ মার্চ রাতে তারাবির নামাজের সময় তার নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা যায়। অভিযোগ ওঠে, তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুতু খাতুন জোরপূর্বক তাকে বিষপান করান। পরে তাকে ঘরের ভেতরে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারাবির নামাজ চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত নারী পালিয়ে যান। পরে গ্রামবাসী তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং হেফাজতে রাখে।

মৃত মোক্তার আলীর ছেলে মোহাম্মদ আরিফ অভিযোগ করে বলেন, আলোকদিয়া ইউনিয়নের মিলন মেম্বার তার সৎ মায়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে তার বাবাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে বলে তারা সন্দেহ করছেন। তার দাবি, মিলন মেম্বারের সঙ্গে তার সৎ মায়ের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং তার বাবা জমি সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

মৃতের ভাগ্নে মোহাম্মদ শাকিল বলেন, এর আগেও নুতু খাতুন জোরপূর্বক তার মামার কাছ থেকে পাঁচ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাকি জমি নিজের নামে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হতো। তিনি দাবি করেন, মিলন মেম্বার এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে তারাবির নামাজের সময় মোক্তার হোসেনকে বিষপান করানো হয়।
নুতু খাতুন ঐ রাতেই অভিযোগ শিকার করেন জনতার কাছে।
আরেক অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মিলন হোসেনকে একাধিক বার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানজারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে উদ্ধার করে থানায় হেফাজতে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গার আলোকদিয়ায় স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ

Update Time : ১২:১৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে মোক্তার আলী ওরফে উকিল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুতু খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের আকুন্দবাড়ী খালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার আলী শুক্রবার ২৭ মার্চ রাতে তারাবির নামাজের সময় তার নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা যায়। অভিযোগ ওঠে, তার দ্বিতীয় স্ত্রী নুতু খাতুন জোরপূর্বক তাকে বিষপান করান। পরে তাকে ঘরের ভেতরে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারাবির নামাজ চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত নারী পালিয়ে যান। পরে গ্রামবাসী তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং হেফাজতে রাখে।

মৃত মোক্তার আলীর ছেলে মোহাম্মদ আরিফ অভিযোগ করে বলেন, আলোকদিয়া ইউনিয়নের মিলন মেম্বার তার সৎ মায়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে তার বাবাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে বলে তারা সন্দেহ করছেন। তার দাবি, মিলন মেম্বারের সঙ্গে তার সৎ মায়ের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং তার বাবা জমি সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

মৃতের ভাগ্নে মোহাম্মদ শাকিল বলেন, এর আগেও নুতু খাতুন জোরপূর্বক তার মামার কাছ থেকে পাঁচ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাকি জমি নিজের নামে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হতো। তিনি দাবি করেন, মিলন মেম্বার এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে তারাবির নামাজের সময় মোক্তার হোসেনকে বিষপান করানো হয়।
নুতু খাতুন ঐ রাতেই অভিযোগ শিকার করেন জনতার কাছে।
আরেক অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মিলন হোসেনকে একাধিক বার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানজারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে উদ্ধার করে থানায় হেফাজতে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।