যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ নতুন করে আরও কিছু অভিযোগ আনার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হয়েছেন আলোচিত ও বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট এবং তার ভাই ট্রিস্টান টেট।
রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও সাতটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি যৌন পাচার এবং শিশুর অশালীন ছবি সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধে একটি যৌন নির্যাতন, দুটি ধর্ষণ এবং যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে পাচারের ব্যবস্থা বা সহায়তা করার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
বলা হচ্ছে, ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে টেট ভ্রাতৃদ্বয় আগে থেকেই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সিপিএস-এর স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশনের প্রধান ম্যালকম ম্যাকহাফি বলেন, বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের কাছ থেকে প্রমাণের আরেকটি নথি পাওয়ার পর অভিযোগ গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যা এখন সাতে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন মার্শাল সার্ভিস বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে টেট ভাইদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সিপিএস জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই দুই ভাইকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার (প্রত্যর্পণ) অনুরোধ করেছে।
উল্লেখ্য, টেট ভাইরা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশেরই দ্বৈত নাগরিক।
শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার পর টেট ভাইদের আইনজীবী জোসেফ ম্যাকব্রাইড এক বিবৃতিতে বলেন, পুরো বিশ্ব জানে অ্যান্ড্রু এবং ট্রিস্টান নির্দোষ।
যুক্তরাজ্যের নতুন এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করে ম্যাকব্রাইড আরও বলেন, তাদের শত্রুরা এটি সবচেয়ে ভালো করে জানে। আর ঠিক এ কারণেই তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে টেট ভাইদের দায়ের করা একটি মানহানির মামলার পালটা ব্যবস্থা হিসেবেই এই নতুন অভিযোগগুলো সাজানো হয়েছে।
আইনজীবী ম্যাকব্রাইড বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে একজন যোগ্য বিচারক যখন বাস্তব ঘটনাগুলো দেখবেন এবং বিচার বিভাগ যখন তাদের নিজস্ব ক্ষমতার এই চরম অপব্যবহারের বিষয়টি অনুধাবন করবে, তখন অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট মুক্তি পাবেন। আমেরিকা ব্রিটেনের হয়ে তাদের নোংরা রাজনৈতিক কাজ করে দেয় না।
২০২৪ সালে বেডফোর্ডশায়ার পুলিশ এই জুটিকে রোমানিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য ইউরোপীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তারা মূলত রোমানিয়াতেই বসবাস করেন এবং সেখানেও তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চলছে।
গত জুনে, যুক্তরাজ্যের অভিযোগকারীদের নাম জানার জন্য একটি আইনি লড়াইয়ে হেরে যান এই দুই ভাই। সিপিএস তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত কথিত ভুক্তভোগীদের নাম গোপন রাখা প্রয়োজন।
সূত্র: বিবিসি




















