১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে রেললাইনের পাশে গৃহবধূ, বাড়িতে ফেরাল পুলিশ

  • Update Time : ১১:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩
  • ৫৬ Time View

 

পারিবারিক অশান্তির কারণে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের এক গৃহবধূ। শুক্রবার (৪ঠা আগস্ট) সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ আত্মহত্যার উদ্দেশ্য উথলী ফার্মগেট ও তেঁতুলতলা পাড়ার মাঝামাঝি স্থানে রেললাইনের পাশে ঝোপের মধ্যে বসে ছিলেন। স্থানীয় আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি প্রতিবেশী নারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পরিচয় জানতে না পেরে বিষয়টি ৯৯৯-এ ফোনের মাধ্যমে জানান। ফোন পেয়ে জীবননগর থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুজ্জামানের নির্দেশে এএসআই ইউনুছ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি ওই গৃহবধূর পরিচয় যাচাই-বাছাই করে জানতে পারেন তাঁর বাড়ি উথলী গ্রামের আমতলা পাড়ায়। তাঁর স্বামী পেশায় একজন আলমসাধু চালক। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গৃহবধূর মায়ের সাথে কথা বলেন। পরে তাকে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে মিলেমিশে সংসার করার উপদেশ দেন। পারিবারিক জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

উথলী গ্রামের পচা মণ্ডলের ছেলে আলমগীর হোসেন জানান, মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি মোটরসাইকেলযোগে উথলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোর মাধ্যমে দেখতে পান উথলী ফার্মগেট ও তেঁতুলতলা পাড়ার মাঝামাঝি স্থানে রেললাইনের পাশে ঝোপের মধ্যে এক নারী বসে রয়েছেন। বসে থাকার কারণ জানতে তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে সেখানে যান। আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্য ওই নারী সেখানে বসে আছেন জানতে পেরে তিনি স্থানীয় নারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু উপস্থিত কেউ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারায় তিনি বিষয়টি ৯৯৯-এ ফোন করে জানান। ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জীবননগর থানা পুলিশ। তাঁরা বিস্তারিত ঘটনা শোনার পর ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামীর হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই ভ্যানযোগে বাড়ি চলে যান।

ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, ‘সব পরিবারেই কমবেশি অশান্তি আছে। আমার পরিবারও এর বাইরে না। তবে আত্মহত্যা করার মতো কোনকিছুই ঘটেনি। শুক্রবার রাত ৮টার পর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার স্ত্রী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে রেললাইনের পাশে বসে ছিলেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আমার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছি। ছোট-খাটো যা সমস্যা আছে আমরা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করে নেবো।’ কেনো আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওই গৃহবধূ জানান, পারিবারিক নানা অশান্তির কারণে তিনি আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেদক: এম.এ.আর.নয়ন।

Tag :
জনপ্রিয়

পান বরজে আগুন, পুড়ে শেষ হলো কৃষকের স্বপ্ন

জীবননগরে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে রেললাইনের পাশে গৃহবধূ, বাড়িতে ফেরাল পুলিশ

Update Time : ১১:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩

 

পারিবারিক অশান্তির কারণে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের এক গৃহবধূ। শুক্রবার (৪ঠা আগস্ট) সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ আত্মহত্যার উদ্দেশ্য উথলী ফার্মগেট ও তেঁতুলতলা পাড়ার মাঝামাঝি স্থানে রেললাইনের পাশে ঝোপের মধ্যে বসে ছিলেন। স্থানীয় আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি প্রতিবেশী নারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পরিচয় জানতে না পেরে বিষয়টি ৯৯৯-এ ফোনের মাধ্যমে জানান। ফোন পেয়ে জীবননগর থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুজ্জামানের নির্দেশে এএসআই ইউনুছ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি ওই গৃহবধূর পরিচয় যাচাই-বাছাই করে জানতে পারেন তাঁর বাড়ি উথলী গ্রামের আমতলা পাড়ায়। তাঁর স্বামী পেশায় একজন আলমসাধু চালক। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গৃহবধূর মায়ের সাথে কথা বলেন। পরে তাকে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে মিলেমিশে সংসার করার উপদেশ দেন। পারিবারিক জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

উথলী গ্রামের পচা মণ্ডলের ছেলে আলমগীর হোসেন জানান, মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি মোটরসাইকেলযোগে উথলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলোর মাধ্যমে দেখতে পান উথলী ফার্মগেট ও তেঁতুলতলা পাড়ার মাঝামাঝি স্থানে রেললাইনের পাশে ঝোপের মধ্যে এক নারী বসে রয়েছেন। বসে থাকার কারণ জানতে তিনি মোটরসাইকেল থামিয়ে সেখানে যান। আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্য ওই নারী সেখানে বসে আছেন জানতে পেরে তিনি স্থানীয় নারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু উপস্থিত কেউ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারায় তিনি বিষয়টি ৯৯৯-এ ফোন করে জানান। ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জীবননগর থানা পুলিশ। তাঁরা বিস্তারিত ঘটনা শোনার পর ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামীর হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই ভ্যানযোগে বাড়ি চলে যান।

ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, ‘সব পরিবারেই কমবেশি অশান্তি আছে। আমার পরিবারও এর বাইরে না। তবে আত্মহত্যা করার মতো কোনকিছুই ঘটেনি। শুক্রবার রাত ৮টার পর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার স্ত্রী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে রেললাইনের পাশে বসে ছিলেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আমার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছি। ছোট-খাটো যা সমস্যা আছে আমরা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করে নেবো।’ কেনো আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওই গৃহবধূ জানান, পারিবারিক নানা অশান্তির কারণে তিনি আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেদক: এম.এ.আর.নয়ন।