০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

  • Update Time : ০১:৩১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • 34

দেশের উত্তরউত্তরপূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর প্রভাবে সুরমাকুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দেশের তিনটি জেলার মোট চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সেমবার (২০ জুলাইবাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবোবন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সকাল ৯টার বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিন অনুযায়ীবর্তমানে সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জপয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেটপয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জপয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণাপয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে পানি বইছে। এসব অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় বেশ কিছু পয়েন্টে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ স্টেশনকুশিয়ারা নদীর শেরপুর (সিলেটস্টেশনদুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী (কুড়িগ্রামস্টেশন এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর), তারাপুর (গাইবান্ধাও হরিপুর (গাইবান্ধাপয়েন্ট।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন মোট ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৮টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে৪৭টিতে হ্রাস পেয়েছে এবং ২টি স্টেশনের পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদনদীর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়যার পরিমাণ ২০৩ মিলিমিটার।

এছাড়া লরেরগড়ে ১৪০ মিলিমিটারজাফলংয়ে ১১৪ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে ৯১ মিলিমিটারবসুরহাটে (নোয়াখালী৮৫ মিলিমিটারটেকনাফে (কক্সবাজার৭৯ মিলিমিটাররংপুরে ৬১ মিলিমিটারসিলেটে ৬০ মিলিমিটারডালিয়ায় (নীলফামারী৫৫ মিলিমিটারখুলনায় ৫১ মিলিমিটারকক্সবাজারে ৫১ মিলিমিটার এবং পাটেশ্বরীতে (কুড়িগ্রাম৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

Update Time : ০১:৩১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দেশের উত্তরউত্তরপূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় অব্যাহত ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর প্রভাবে সুরমাকুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি দেশের তিনটি জেলার মোট চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সেমবার (২০ জুলাইবাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবোবন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সকাল ৯টার বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিন অনুযায়ীবর্তমানে সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জপয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেটপয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জপয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণাপয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে পানি বইছে। এসব অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় বেশ কিছু পয়েন্টে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ স্টেশনকুশিয়ারা নদীর শেরপুর (সিলেটস্টেশনদুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী (কুড়িগ্রামস্টেশন এবং তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (রংপুর), তারাপুর (গাইবান্ধাও হরিপুর (গাইবান্ধাপয়েন্ট।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন মোট ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৮টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে৪৭টিতে হ্রাস পেয়েছে এবং ২টি স্টেশনের পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদনদীর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়যার পরিমাণ ২০৩ মিলিমিটার।

এছাড়া লরেরগড়ে ১৪০ মিলিমিটারজাফলংয়ে ১১৪ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চগড়ে ৯১ মিলিমিটারবসুরহাটে (নোয়াখালী৮৫ মিলিমিটারটেকনাফে (কক্সবাজার৭৯ মিলিমিটাররংপুরে ৬১ মিলিমিটারসিলেটে ৬০ মিলিমিটারডালিয়ায় (নীলফামারী৫৫ মিলিমিটারখুলনায় ৫১ মিলিমিটারকক্সবাজারে ৫১ মিলিমিটার এবং পাটেশ্বরীতে (কুড়িগ্রাম৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।