০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  • Update Time : ০১:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • 33

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফহোংবো। সোমবার (২০ জুলাইসচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফহোংবো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেনজনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই অবস্থায় আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেনশ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণনিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডখলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। এ অর্জনকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া স্বল্প সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরও বলেনশ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

এই বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তাদক্ষতা উন্নয়নকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেন। এছাড়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতিকর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাঅনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করানিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীপ্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব মাহ্দী আমিনশ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোআব্দুর রহমান তরফদারপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘমোকামরুজ্জামানবাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তরজেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।

Tag :
জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Update Time : ০১:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফহোংবো। সোমবার (২০ জুলাইসচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফহোংবো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেনজনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই অবস্থায় আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী আইএলওর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেনশ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণনিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডখলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান আইএলও মহাপরিচালক। এ অর্জনকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া স্বল্প সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের জন্য বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক আরও বলেনশ্রম খাতে সরকারের চলমান সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

এই বৈঠকে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তাদক্ষতা উন্নয়নকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেন। এছাড়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতিকর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাঅনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে সরকার ও আইএলওর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করানিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং শ্রম খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীপ্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব মাহ্দী আমিনশ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোআব্দুর রহমান তরফদারপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘমোকামরুজ্জামানবাংলাদেশে আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোঁ এবং আইএলও সদর দপ্তরজেনেভার মহাপরিচালকের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিতোমি নাকাগোমে।