ফসল উৎপাদনে নিত্য অনুষঙ্গ মানসম্পন্ন বীজ, নন-ইউরিয়া সার ও সেচ সুবিধাদি কৃষকের দোরগোড়ায় যথাসময়ে ও নির্বিঘ্নে সরবরাহ করতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বদ্ধপরিকর। এরই অংশ হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জি টু জি পদ্ধতিতে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দেশ হতে নন-ইউরিয়া সার আমদানি করে সারা দেশে কৃষকদের নিকট ডিলারদের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিএডিসি কাজ করে যাচ্ছে। দেশব্যাপী জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রায় দশ হাজার সংখ্যক অনুমোদিত বীজ ও সার ডিলারদের মাধ্যমে সার সরবরাহের কাজটি সম্পাদিত হচ্ছে।
এই সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আনয়ন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত, কৃত্রিম সংকট নিরসন এবং মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণের ক্ষেত্রে বিএডিসি’র চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আজিজুল ইসলাম স্যার ইতোমধ্যে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য যে, ডিলারদের নিকট সার সরবরাহের পর তা মনিটরিং করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের যুগ্মপরিচালক ও উপপরিচালকদেরকে ডিলারদের দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনের সময় ডিলাররা দৈনিক বিক্রয় রেজিস্টার হালনাগাদ করছেন কিনা, কৃষকদের সঠিক বিক্রয় রশিদ প্রদান করা হচ্ছে কিনা, রশিদে চাষিদের স্বাক্ষর/টিপসই ও মোবাইল নম্বর রাখা হচ্ছে কিনা, ডিলারের নিজস্ব মজুদ রেজিস্টার অনুযায়ী গুদামে প্রকৃত সার মজুদ আছে কিনা এবং ডিলার নিজে কিংবা তার নিযুক্ত কর্মচারী দ্বারা বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে কিনা বিষয়টি সরেজমিনে তদারকি করতে হবে মর্মে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে সার ডিলারদের নিকট সরবরাহের পরে জনবল ও অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্টের স্বল্পতা থাকায় সেভাবে ডিলারদের সার বিক্রির কার্যক্রম বিএডিসি’র মাধ্যমে খুব একটা সম্পাদিত হয়নি। বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আজিজুল ইসলাম স্যার যোগদানের পর থেকেই অধিকতর আর্থিক স্বচ্ছতা আনয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিসরে পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত যুগ্মপরিচালক ও উপপরিচালকদের মাধ্যমে সার ডিলারদের কার্যক্রম মনিটরিং ও তদারকির ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত বিষয়গুলো গতানুগতিক এবং রুটিনওর্য়াক হলেও এই প্রথমবারের মতো অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করে লিখিত আকারে এ ধরনের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এটি একটি নব ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। যা বিএডিসি’র কার্যক্রমকে আরো সুসংহত করবে।
কৃষকদের নিকট সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত সহায়ক হবে। এবং একইসঙ্গে বিএডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত সার যাতে কোনরূপেই কালোবাজারির কবলে না পড়ে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় সে বিষয়টি রোধ করে সরকারের স্মার্ট ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখবে।




















