১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রক্তাক্ত বাগেরহাট: মোল্লাহাটে শ্রমিক লীগ নেতাকে গুলি করে নৃশংস হত্যা

  • Update Time : ০৩:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • 63

এনএস আবিদ মাহমুদ, বিশেষ প্রতিনিধি::

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সোহাগ শেখ (৪৫)। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পানবাজার এলাকায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
নিহত সোহাগ শেখ উদয়পুর গ্রামের আবু দাউদ শেখের ছেলে। তিনি পানবাজার এলাকায় হার্ডওয়্যার ব্যবসা করতেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১০টার দিকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন সোহাগ শেখ। পানবাজার এলাকা সংলগ্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন নির্জন রাস্তায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী দুই দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনিরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে সোহাগ শেখ নিথর অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে খুনিরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে বিদ্ধ হওয়া একাধিক বুলেটের কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জনপ্রিয় এই নেতার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মীরা পানবাজার এলাকায় জড়ো হয়ে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক গণমাধ্যমকে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। ঘাতকদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

সোহাগ শেখের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয়

রক্তাক্ত বাগেরহাট: মোল্লাহাটে শ্রমিক লীগ নেতাকে গুলি করে নৃশংস হত্যা

Update Time : ০৩:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

এনএস আবিদ মাহমুদ, বিশেষ প্রতিনিধি::

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সোহাগ শেখ (৪৫)। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পানবাজার এলাকায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
নিহত সোহাগ শেখ উদয়পুর গ্রামের আবু দাউদ শেখের ছেলে। তিনি পানবাজার এলাকায় হার্ডওয়্যার ব্যবসা করতেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১০টার দিকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন সোহাগ শেখ। পানবাজার এলাকা সংলগ্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন নির্জন রাস্তায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী দুই দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনিরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে সোহাগ শেখ নিথর অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে খুনিরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে বিদ্ধ হওয়া একাধিক বুলেটের কারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জনপ্রিয় এই নেতার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মীরা পানবাজার এলাকায় জড়ো হয়ে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক গণমাধ্যমকে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, তা আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। ঘাতকদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

সোহাগ শেখের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।