১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ১৭ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটি মুক্ত দিবস

  • Update Time : ০৩:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 133

রাঙ্গামাটি,১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ : আজ ১৭ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটি  পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে জেলা শত্রু মুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় দিবসের একদিন পর পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে প্রথম উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসে পাক বাহিনীর সৈন্যরা সে সময়ের অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, রামগড় ও বান্দরবান দখল করে নেয়।

দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষ সময়ে ১৪ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটির বরকলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ২টি যুদ্ধ বিমানযোগে পাকবাহিনীর সামরিক অবস্থানের উপর আক্রমণ চালায়।

এ বিষয়ে জেলার মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দাশ বাসসকে  বলেন, ১৫ ডিসেম্বর মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা বরকলে পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ শুরু করে। যৌথ বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে পাক সৈন্যরা পিছু হটে এবং মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা অগ্রসর হয়ে রাঙ্গামাটি দখল করে নেয়।

১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স মাঠে পাক সেনারা আত্মসমর্পন করলেও পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী উপজাতি মিজো বাহিনীর কিছু সৈন্য থেকে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি মুক্ত হতে সময় নেয়।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল ( অব) মনিষ দেওয়ান।

১৭ ডিসেম্বর স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলনের সময় যুদ্ধের ধ্বংস স্তুপের মধ্যে দিয়ে স্বজন হারাদের বিয়োগ ব্যথা ভুলে  হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা-সে দিন রাস্তায় নেমে আসে। দেশ স্বাধীনের পর প্রতি বছর ১৭ ডিসেম্বর জেলায় পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

Tag :
জনপ্রিয়

আজ ১৭ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটি মুক্ত দিবস

Update Time : ০৩:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

রাঙ্গামাটি,১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ : আজ ১৭ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটি  পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে জেলা শত্রু মুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় দিবসের একদিন পর পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে প্রথম উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

১৯৭১ সালের মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসে পাক বাহিনীর সৈন্যরা সে সময়ের অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, রামগড় ও বান্দরবান দখল করে নেয়।

দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষ সময়ে ১৪ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটির বরকলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ২টি যুদ্ধ বিমানযোগে পাকবাহিনীর সামরিক অবস্থানের উপর আক্রমণ চালায়।

এ বিষয়ে জেলার মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দাশ বাসসকে  বলেন, ১৫ ডিসেম্বর মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা বরকলে পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ শুরু করে। যৌথ বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে পাক সৈন্যরা পিছু হটে এবং মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা অগ্রসর হয়ে রাঙ্গামাটি দখল করে নেয়।

১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স মাঠে পাক সেনারা আত্মসমর্পন করলেও পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী উপজাতি মিজো বাহিনীর কিছু সৈন্য থেকে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি মুক্ত হতে সময় নেয়।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটিতে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল ( অব) মনিষ দেওয়ান।

১৭ ডিসেম্বর স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলনের সময় যুদ্ধের ধ্বংস স্তুপের মধ্যে দিয়ে স্বজন হারাদের বিয়োগ ব্যথা ভুলে  হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা-সে দিন রাস্তায় নেমে আসে। দেশ স্বাধীনের পর প্রতি বছর ১৭ ডিসেম্বর জেলায় পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।