১২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উপজেলায় প্রায় দুই লাখ এই জাতের ছাগল রয়েছে

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনে আগ্রহ বাড়ছে দামুড়হুদায়

  • Update Time : ০৬:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • 62

 

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে। কালো জাতের এই ছাগল পালন করে বহু পরিবারে সচ্ছলতা আসছে। লাভজনক হওয়ায় এখানকার বাসিন্দারা এখন এই লাভজনক পেশায় ঝুঁকছেন। প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দামুড়হুদা উপজেলায় প্রায় দুই লাখ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রয়েছে।

🌟 সফল খামারি মশিউর রহমান

 

উপজেলার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান এই সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ। তিনি ২০১৬ সালে সখের বসে একটি বকরি ছাগল নিয়ে পালন শুরু করেন। দুই বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা ১১টিতে পৌঁছায় এবং বর্তমানে তার খামারে ৩৮টি ছাগল রয়েছে।

মশিউর রহমান জানান, তিনি প্রতি দেড় থেকে দুই বছর পর পর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি করেন। ছাগলের খামারের আয় থেকেই তিনি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন এবং তার একমাত্র মেয়েকে দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহা ডিগ্রি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াচ্ছেন।

🩺 রোগবালাই ও আবহাওয়া

 

মশিউর রহমান বলেন, ছাগলের তেমন রোগবালাই হয় না, কেবল শীত মৌসুমে একটু ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই তা এড়ানো যায়।

দামুড়হুদা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, “ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। আমাদের এই এলাকার আবহাওয়া এই জাতের ছাগল পালনের জন্য খুবই উপযোগী। এদের রোগবালাই কম। শীতের সময় মাচা তৈরি করে ওপরে রাখলে রোগবালাই এড়ানো যায়।”

🌐 সম্প্রসারণ ও সরকারি সহায়তা

 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, এই ছাগল পালনে আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় দামুড়হুদা উপজেলাসহ চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ায় এই কালো জাতের ছাগল পালন অনেক বেশি হয়ে থাকে। প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে নিয়মিত খামারিদের খোঁজখবর ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে মশিউর রহমান দাবি করেছেন যে দীর্ঘদিন ছাগল পালন করলেও তিনি প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি।

উপজেলায় অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে কম-বেশি এই জাতের ছাগল রয়েছে, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


এই সংবাদটি সম্পর্কে আপনার যদি আরও কিছু জানতে হয় বা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যোগ করতে চান, তাহলে বলতে পারেন।

জনপ্রিয়

উপজেলায় প্রায় দুই লাখ এই জাতের ছাগল রয়েছে

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনে আগ্রহ বাড়ছে দামুড়হুদায়

Update Time : ০৬:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

 

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে। কালো জাতের এই ছাগল পালন করে বহু পরিবারে সচ্ছলতা আসছে। লাভজনক হওয়ায় এখানকার বাসিন্দারা এখন এই লাভজনক পেশায় ঝুঁকছেন। প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দামুড়হুদা উপজেলায় প্রায় দুই লাখ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল রয়েছে।

🌟 সফল খামারি মশিউর রহমান

 

উপজেলার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান এই সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ। তিনি ২০১৬ সালে সখের বসে একটি বকরি ছাগল নিয়ে পালন শুরু করেন। দুই বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা ১১টিতে পৌঁছায় এবং বর্তমানে তার খামারে ৩৮টি ছাগল রয়েছে।

মশিউর রহমান জানান, তিনি প্রতি দেড় থেকে দুই বছর পর পর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি করেন। ছাগলের খামারের আয় থেকেই তিনি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন এবং তার একমাত্র মেয়েকে দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহা ডিগ্রি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াচ্ছেন।

🩺 রোগবালাই ও আবহাওয়া

 

মশিউর রহমান বলেন, ছাগলের তেমন রোগবালাই হয় না, কেবল শীত মৌসুমে একটু ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই তা এড়ানো যায়।

দামুড়হুদা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, “ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। আমাদের এই এলাকার আবহাওয়া এই জাতের ছাগল পালনের জন্য খুবই উপযোগী। এদের রোগবালাই কম। শীতের সময় মাচা তৈরি করে ওপরে রাখলে রোগবালাই এড়ানো যায়।”

🌐 সম্প্রসারণ ও সরকারি সহায়তা

 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, এই ছাগল পালনে আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় দামুড়হুদা উপজেলাসহ চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ায় এই কালো জাতের ছাগল পালন অনেক বেশি হয়ে থাকে। প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে নিয়মিত খামারিদের খোঁজখবর ও বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে মশিউর রহমান দাবি করেছেন যে দীর্ঘদিন ছাগল পালন করলেও তিনি প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি।

উপজেলায় অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে কম-বেশি এই জাতের ছাগল রয়েছে, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


এই সংবাদটি সম্পর্কে আপনার যদি আরও কিছু জানতে হয় বা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যোগ করতে চান, তাহলে বলতে পারেন।