০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাল দখলে জলাবদ্ধতা: চুয়াডাঙ্গায় ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ

 

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩০টি পরিবার চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় এলাকাটি বর্তমানে পানিবন্দি। ভুক্তভোগীরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ জানালেও দুর্ভোগের কোনো প্রতিকার মেলেনি।

‘জিয়া খাল’ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, দামুড়হুদা-জীবননগর আঞ্চলিক মহাসড়কের কোল ঘেঁষে জিয়াউর রহমানের আমলে একটি খাল খনন করা হয়েছিল, যা স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই খাল ভরাট করে দোকান, অফিসঘর, ইটভাটা, গাড়ির গ্যারেজসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে খালের পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে জয়রামপুর গ্রামের শাহপাড়ায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বাধ্য হচ্ছেন পানি-কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে। এতে চর্মরোগ বৃদ্ধি পাওয়াসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ও দৈনন্দিন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।

কর্তৃপক্ষের আশ্বাসেও মেলেনি সমাধান

হাবিবুর রহমান, সাহাদৎ হোসেন, চায়না খাতুন, কোহিনুর বেগমসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “কয়েক মাস আগে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দিলে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও জলাবদ্ধতা দূর না হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি শেষ হয়নি।”

জনপ্রতিনিধির বক্তব্য: দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজন

এ বিষয়ে হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, “ইউএনওর নির্দেশে আমরা ভুক্তভোগী ও খাল দখলদার উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরো খালটি খনন করতে হবে, যা অল্প সময়ে করা সম্ভব নয়। এটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে।

ইউএনও: অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সমস্যা সমাধানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাপ করেছেন।” খালের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয়

খাল দখলে জলাবদ্ধতা: চুয়াডাঙ্গায় ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ

Update Time : ০৪:২০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

 

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩০টি পরিবার চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় এলাকাটি বর্তমানে পানিবন্দি। ভুক্তভোগীরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ জানালেও দুর্ভোগের কোনো প্রতিকার মেলেনি।

‘জিয়া খাল’ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, দামুড়হুদা-জীবননগর আঞ্চলিক মহাসড়কের কোল ঘেঁষে জিয়াউর রহমানের আমলে একটি খাল খনন করা হয়েছিল, যা স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই খাল ভরাট করে দোকান, অফিসঘর, ইটভাটা, গাড়ির গ্যারেজসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে খালের পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে জয়রামপুর গ্রামের শাহপাড়ায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বাধ্য হচ্ছেন পানি-কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে। এতে চর্মরোগ বৃদ্ধি পাওয়াসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ও দৈনন্দিন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।

কর্তৃপক্ষের আশ্বাসেও মেলেনি সমাধান

হাবিবুর রহমান, সাহাদৎ হোসেন, চায়না খাতুন, কোহিনুর বেগমসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “কয়েক মাস আগে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দিলে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও জলাবদ্ধতা দূর না হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি শেষ হয়নি।”

জনপ্রতিনিধির বক্তব্য: দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজন

এ বিষয়ে হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, “ইউএনওর নির্দেশে আমরা ভুক্তভোগী ও খাল দখলদার উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভুক্তভোগীদের দাবি, পুরো খালটি খনন করতে হবে, যা অল্প সময়ে করা সম্ভব নয়। এটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে।

ইউএনও: অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সমস্যা সমাধানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাপ করেছেন।” খালের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”