০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগ মসজিদে চুরি : আমি পেশাদার চোর নই, মায়ের জন্য চুরি করিলাম

  • Update Time : ১১:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩
  • 147

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর দৌলৎগঞ্জ থানা জামে মসজিদে চুরির পর এক চোর চিরকুটে লেখেছেন,‘আমি পেশাদার চোর নই। মা খুবই অসুস্থ, মায়ের জন্য চুরি করিলাম।’

 

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রা‌তে জীবননগর এলকায় এই চু‌রির ঘটনা ঘ‌টে। এর আগে চোর মসজিদের সামনের গ্লাসের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে রক্তাক্ত হন। চোর চুরি শেষে ওই চিরকুট লিখে মসজিদে রেখে যান।

চিরকুটে লিখে যান, ‘আমি পেশাদার চোর নই, আমার মা খুবই অসুস্থ, মায়ের জন্য চুরি করিলাম। আমাকে সবাই মাফ করে দিবেন, আমি এইচএসসি পাশ। কিন্তু জীবনে কিছু করতে পারিনি।’

চোর মসজিদের রশিদ বই, সাউন্ড সিস্টেম, ইয়ারফোন ও মাইক সেটের বিশেষ অংশ চুরি করে নিয়ে যান। চোর ঘটনার সময় মসজিদের বাইরে থাকা দান বাক্সটি ভাঙ্গার চেষ্টা করেন।

স্থানীয়রা জানান, দৌলৎগঞ্জ থানা জামে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন প্রতিদিনের মতো শনিবার ঈশার সময়ে মসজিদের ইবাদত বন্দেগি শেষে মসজিদের দরজা তালাবদ্ধ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে রোববার ফজর নামাজের আজান দিতে গিয়ে মসজিদের মোয়াজ্জিন আরাফাত হোসেন দেখতে পান যে, মসজিদের গ্লাসের তালা ভাঙ্গা এবং পাশে রক্ত পড়ে আছে। মসজিদের ভেতরে প্রেবশ করে দেখন বেশ কিছু মালামাল চুরি হয়ে গেছে এবং দান বাক্স ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে মসজিদের একে একে মুসল্লিরা আসে এবং ঘটনা দেখে ও শোনে। মসজিদের চুরির ঘটনা এবং মসজিদের ভেতরে রক্তাক্ত দেখে সবাই প্রথমদিকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ঘটনার পর আমরা চোরকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি এক যুবক গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোর পাঠানো হয়েছে। তবে তার নাম হাসপাতালে আপন বলে পরিচয় দিয়েছে। তার বাড়ি কখনো হাসাদহে ও কখনো কোটচাঁদপুর বলে জানিয়েছে। পরে জীবননগর থানা পুলিশ আমার মসজিদ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাবিদ হোসেন বলেন, চোরকে সনাক্ত করে মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। চোরকে মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে চোর হিসাবে সনাক্ত করা যায়নি। তার অস্বাভাবিক আচরন ছিল। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করেছে বলে জেনেছি। ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

Tag :
জনপ্রিয়

নারী সহকর্মীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণ, মার্কিন গবেষণাগার ছাড়ছেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী

চুয়াডাঙ্গার জীবননগ মসজিদে চুরি : আমি পেশাদার চোর নই, মায়ের জন্য চুরি করিলাম

Update Time : ১১:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর দৌলৎগঞ্জ থানা জামে মসজিদে চুরির পর এক চোর চিরকুটে লেখেছেন,‘আমি পেশাদার চোর নই। মা খুবই অসুস্থ, মায়ের জন্য চুরি করিলাম।’

 

শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রা‌তে জীবননগর এলকায় এই চু‌রির ঘটনা ঘ‌টে। এর আগে চোর মসজিদের সামনের গ্লাসের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে রক্তাক্ত হন। চোর চুরি শেষে ওই চিরকুট লিখে মসজিদে রেখে যান।

চিরকুটে লিখে যান, ‘আমি পেশাদার চোর নই, আমার মা খুবই অসুস্থ, মায়ের জন্য চুরি করিলাম। আমাকে সবাই মাফ করে দিবেন, আমি এইচএসসি পাশ। কিন্তু জীবনে কিছু করতে পারিনি।’

চোর মসজিদের রশিদ বই, সাউন্ড সিস্টেম, ইয়ারফোন ও মাইক সেটের বিশেষ অংশ চুরি করে নিয়ে যান। চোর ঘটনার সময় মসজিদের বাইরে থাকা দান বাক্সটি ভাঙ্গার চেষ্টা করেন।

স্থানীয়রা জানান, দৌলৎগঞ্জ থানা জামে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন প্রতিদিনের মতো শনিবার ঈশার সময়ে মসজিদের ইবাদত বন্দেগি শেষে মসজিদের দরজা তালাবদ্ধ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে রোববার ফজর নামাজের আজান দিতে গিয়ে মসজিদের মোয়াজ্জিন আরাফাত হোসেন দেখতে পান যে, মসজিদের গ্লাসের তালা ভাঙ্গা এবং পাশে রক্ত পড়ে আছে। মসজিদের ভেতরে প্রেবশ করে দেখন বেশ কিছু মালামাল চুরি হয়ে গেছে এবং দান বাক্স ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে মসজিদের একে একে মুসল্লিরা আসে এবং ঘটনা দেখে ও শোনে। মসজিদের চুরির ঘটনা এবং মসজিদের ভেতরে রক্তাক্ত দেখে সবাই প্রথমদিকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ঘটনার পর আমরা চোরকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি এক যুবক গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোর পাঠানো হয়েছে। তবে তার নাম হাসপাতালে আপন বলে পরিচয় দিয়েছে। তার বাড়ি কখনো হাসাদহে ও কখনো কোটচাঁদপুর বলে জানিয়েছে। পরে জীবননগর থানা পুলিশ আমার মসজিদ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাবিদ হোসেন বলেন, চোরকে সনাক্ত করে মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। চোরকে মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে চোর হিসাবে সনাক্ত করা যায়নি। তার অস্বাভাবিক আচরন ছিল। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করেছে বলে জেনেছি। ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে