০৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লু পদ্ধতি: কৃষিতে নতুন আশার আলো

 

 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম নিজের বসতবাড়িতে একটি ছোট ঘর তৈরি করে সেখানে স্থাপন করেছেন আধুনিক এয়ার ফ্লু মেশিন। এর মাধ্যমে তিনি প্রায় ২০০ মন পেঁয়াজ সফলভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই উদ্যোগ দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন আশপাশের পেঁয়াজ চাষিরা।

 

আশরাফুল প্রতিবছর চার-পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করতে হতো তাকে। এ বছর স্থানীয় এনজিও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তিনি নতুন এ প্রযুক্তি শিখে তা কাজে লাগিয়েছেন।

 

কীভাবে কাজ করে এয়ার ফ্লু মেশিন?

 

মেশিনটি ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে পেঁয়াজে অঙ্কুরোদগম ও পচন রোধ হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম, যা গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য বেশ উপযোগী। এই পদ্ধতিতে ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ টাটকা রাখা সম্ভব, যা সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি সময়। এর ফলে সংরক্ষণজনিত ক্ষতি ব্যাপকভাবে কমে আসে।

 

কৃষি বিভাগ ও এনজিওর উদ্যোগ

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন,

“এটি একটি ভালো ও আধুনিক পদ্ধতি। পেঁয়াজ চাষ বাড়াতে কৃষকদের সব ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারিভাবে এখনো কোনো প্রণোদনা বরাদ্দ হয়নি।”

 

 

 

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ জানান, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় এই পদ্ধতি সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দামুড়হুদা উপজেলায় একটি পাইলট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

 

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও প্রকল্পের ফোকাল পার্সন নির্মল দাস বলেন,

 

 

“এয়ার ফ্লু মেশিনভিত্তিক পদ্ধতি বাংলাদেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা বাড়লে দেশের কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”

 

 

 

উৎপাদন পরিস্থিতি

 

গত বছর দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। এতে মোট ২৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। নতুন এই সংরক্ষণ প্রযুক্তি চালু হওয়ায় কৃষকেরা ভবিষ্যতে ন্যায্য দামে ফসল বিক্রি করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

 

জনপ্রিয়

তিন ডিসিপ্লিনে শুক্রবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের যাত্রা

চুয়াডাঙ্গায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লু পদ্ধতি: কৃষিতে নতুন আশার আলো

Update Time : ০৮:২২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

 

 

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম নিজের বসতবাড়িতে একটি ছোট ঘর তৈরি করে সেখানে স্থাপন করেছেন আধুনিক এয়ার ফ্লু মেশিন। এর মাধ্যমে তিনি প্রায় ২০০ মন পেঁয়াজ সফলভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই উদ্যোগ দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন আশপাশের পেঁয়াজ চাষিরা।

 

আশরাফুল প্রতিবছর চার-পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করতে হতো তাকে। এ বছর স্থানীয় এনজিও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তিনি নতুন এ প্রযুক্তি শিখে তা কাজে লাগিয়েছেন।

 

কীভাবে কাজ করে এয়ার ফ্লু মেশিন?

 

মেশিনটি ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে পেঁয়াজে অঙ্কুরোদগম ও পচন রোধ হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম, যা গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য বেশ উপযোগী। এই পদ্ধতিতে ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ টাটকা রাখা সম্ভব, যা সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি সময়। এর ফলে সংরক্ষণজনিত ক্ষতি ব্যাপকভাবে কমে আসে।

 

কৃষি বিভাগ ও এনজিওর উদ্যোগ

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন,

“এটি একটি ভালো ও আধুনিক পদ্ধতি। পেঁয়াজ চাষ বাড়াতে কৃষকদের সব ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারিভাবে এখনো কোনো প্রণোদনা বরাদ্দ হয়নি।”

 

 

 

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ জানান, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় এই পদ্ধতি সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দামুড়হুদা উপজেলায় একটি পাইলট ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

 

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও প্রকল্পের ফোকাল পার্সন নির্মল দাস বলেন,

 

 

“এয়ার ফ্লু মেশিনভিত্তিক পদ্ধতি বাংলাদেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা বাড়লে দেশের কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”

 

 

 

উৎপাদন পরিস্থিতি

 

গত বছর দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। এতে মোট ২৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। নতুন এই সংরক্ষণ প্রযুক্তি চালু হওয়ায় কৃষকেরা ভবিষ্যতে ন্যায্য দামে ফসল বিক্রি করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।