চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী বাবু দিলীপ কুমার আগরওয়ালার আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হতার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে শোক র্যালী ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪ টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের পান্না সিনেমা হল প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী বাবু দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবু দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার করা ছিল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো হত্যাকারীদের রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা করেছিল। হামলাকারীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সব আলামত ধ্বংস করে। তদন্তের নামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে তারা জনগণকে ধোঁকা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায়। কিন্তু সত্য কখনও চাপা থাকেনি। পরবর্তীকালে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসে বিএনপি-জামাত জোটের অনেক কুশীলব এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হয়। গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে পলাতক তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিতদের রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট যখনই সরকারে এসেছে, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদত দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা করেছে। বিএনপি-জামাতের সব অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে জনগণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারও বিপুল ভোটে বিজয়ী করে।
তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্রসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টিরও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে দেশ এগিয়েছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে ধরা দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হচ্ছে। তাই ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাকে আরও এগিয়ে নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামজামি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জিল্লু, খাদিমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম মন্ডল, পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বিশ্বাস, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাউসার আহমেদ বাবলু, মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, গাংনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসা, কুতুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে, থেকে বিশাল এক শোক র্যালি বের করা হয়। বাবু দিলীপ কুমার আগরওয়ালার নেতৃত্বে আবেগঘন পরিবেশে র্যালী শহরের কলেজ রোড, কোর্ট রোড, দোয়েল চত্বর, পুরাতন হাসপাতাল রোড, বড় বাজার চৌরাস্তার মোড় হয়ে শহীদ আবুল কাশেম সড়কসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে শহীদ হাসান চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে শহীদ হাসান চত্বরে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




















