০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন ডিসিপ্লিনে শুক্রবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের যাত্রা

  • Update Time : ০৩:২৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • 18

ভোরের গ্লাসগো তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। ক্লাইড নদীর ওপর হালকা কুয়াশা। দূরে ওভিও হাইড্রো, স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম, টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্স আর স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসের সামনে জমতে শুরু করেছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ। কেউ কাঁধে দেশের পতাকা, কেউ গলায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড, কেউ আবার বহুদিনের স্বপ্ন নিয়ে প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ গেমসের শহরে পা রেখেছেন। সেই ভিড়েই হারিয়ে যায় না বাংলাদেশের লাল-সবুজ। ছোট্ট একটি দল, কিন্তু স্বপ্নে কোনো কমতি নেই।

কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে পদক জেতার স্বপ্ন নিয়েই আসে সবাই। কিছু দেশের গল্প শুরু হয় পদক দিয়ে নয়, সাহস দিয়ে। বাংলাদেশের গল্পও তেমনই। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অগণিত বাধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এবার গ্লাসগোয় লড়তে প্রস্তুত ১৫ ক্রীড়াবিদ।

গ্লাসগোর আকাশে এখন উৎসবের রং। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে একে একে এসে পৌঁছাচ্ছেন অ্যাথলেটরা। বাংলাদেশের বহরও ধীরে ধীরে পূর্ণতা পেয়েছে। মঙ্গলবার গ্লাসগোয় পৌঁছেছে সাঁতার ও বক্সিং দল। বুধবার এসেছে শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস দল। বৃহস্পতিবার এসে পৌঁছাবেন অ্যাথলেটিকস দলের সদস্যরা। কয়েক দিনের ব্যবধানে চারটি ডিসিপ্লিনের এই ছোট্ট বহরই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের ঠিকানা।

এবার বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে চারটি ডিসিপ্লিনে অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, বক্সিং ও শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস। সংখ্যায় মাত্র ১৫ জন, তাদের কাঁধে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের প্রত্যাশা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের মাঠের লড়াই। প্রথম দিনই তিনটি ডিসিপ্লিনে দেখা যাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্সে পানিতে ঝাঁপ দেবেন সোনিয়া আক্তার, সামিউল ইসলাম রাফি ও সুকুমার রাজবংশী। সোনিয়া নামবেন মেয়েদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে, রাফি পুরুষদের ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে এবং সুকুমার রাজবংশী অংশ নেবেন পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহনের গর্ব পেয়েছেন রাফি, আর কিংস ব্যাটন বহনের বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন সোনিয়া।

একই দিনে স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসে (এসইসি) রিংয়ে বাংলাদেশের একমাত্র বক্সার রাকিব হোসেন নামবেন পুরুষদের ৫৫ কেজি বেন্টামওয়েট বিভাগে। কঠিন ড্রয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তার লক্ষ্য নিজের সেরাটা উপহার দেওয়া।

স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম অ্যান্ড অ্যারেনায় শুরু হবে বাংলাদেশের শৈল্পিক জিমন্যাস্টদের লড়াই। শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি দলগত ও ব্যক্তিগত দুই ইভেন্টেই অংশ নেবেন। নিখুঁত ভারসাম্য, সাহস আর শৈল্পিক নৈপুণ্যের পরীক্ষায় নিজেদের সেরাটা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

গ্লাসগোর ট্র্যাক, টোলক্রসের নীল জল, এসইসির রিং কিংবা স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম অ্যান্ড অ্যারেনার আলোতে ছড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের নাম। হয়তো ইতিহাসের পাতায় তাদের সবার নাম লেখা হবে না। হয়তো তাদের গলায় পদকও ঝুলবে না। কিন্তু প্রতিটি স্ট্রোক, প্রতিটি ঘুষি, প্রতিটি লাফ আর প্রতিটি দৌড়ে তারা বহন করবেন বাংলাদেশের স্বপ্ন।

কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার সাহস। সেই সাহস নিয়েই শুক্রবার গ্লাসগোয় শুরু হচ্ছে লাল-সবুজের আরেকটি যাত্রা।

Tag :
জনপ্রিয়

নারী সহকর্মীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণ, মার্কিন গবেষণাগার ছাড়ছেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী

তিন ডিসিপ্লিনে শুক্রবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের যাত্রা

Update Time : ০৩:২৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভোরের গ্লাসগো তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। ক্লাইড নদীর ওপর হালকা কুয়াশা। দূরে ওভিও হাইড্রো, স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম, টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্স আর স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসের সামনে জমতে শুরু করেছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ। কেউ কাঁধে দেশের পতাকা, কেউ গলায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড, কেউ আবার বহুদিনের স্বপ্ন নিয়ে প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ গেমসের শহরে পা রেখেছেন। সেই ভিড়েই হারিয়ে যায় না বাংলাদেশের লাল-সবুজ। ছোট্ট একটি দল, কিন্তু স্বপ্নে কোনো কমতি নেই।

কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে পদক জেতার স্বপ্ন নিয়েই আসে সবাই। কিছু দেশের গল্প শুরু হয় পদক দিয়ে নয়, সাহস দিয়ে। বাংলাদেশের গল্পও তেমনই। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অগণিত বাধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এবার গ্লাসগোয় লড়তে প্রস্তুত ১৫ ক্রীড়াবিদ।

গ্লাসগোর আকাশে এখন উৎসবের রং। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে একে একে এসে পৌঁছাচ্ছেন অ্যাথলেটরা। বাংলাদেশের বহরও ধীরে ধীরে পূর্ণতা পেয়েছে। মঙ্গলবার গ্লাসগোয় পৌঁছেছে সাঁতার ও বক্সিং দল। বুধবার এসেছে শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস দল। বৃহস্পতিবার এসে পৌঁছাবেন অ্যাথলেটিকস দলের সদস্যরা। কয়েক দিনের ব্যবধানে চারটি ডিসিপ্লিনের এই ছোট্ট বহরই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের ঠিকানা।

এবার বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে চারটি ডিসিপ্লিনে অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, বক্সিং ও শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস। সংখ্যায় মাত্র ১৫ জন, তাদের কাঁধে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের প্রত্যাশা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের মাঠের লড়াই। প্রথম দিনই তিনটি ডিসিপ্লিনে দেখা যাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্সে পানিতে ঝাঁপ দেবেন সোনিয়া আক্তার, সামিউল ইসলাম রাফি ও সুকুমার রাজবংশী। সোনিয়া নামবেন মেয়েদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে, রাফি পুরুষদের ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে এবং সুকুমার রাজবংশী অংশ নেবেন পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহনের গর্ব পেয়েছেন রাফি, আর কিংস ব্যাটন বহনের বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন সোনিয়া।

একই দিনে স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসে (এসইসি) রিংয়ে বাংলাদেশের একমাত্র বক্সার রাকিব হোসেন নামবেন পুরুষদের ৫৫ কেজি বেন্টামওয়েট বিভাগে। কঠিন ড্রয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তার লক্ষ্য নিজের সেরাটা উপহার দেওয়া।

স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম অ্যান্ড অ্যারেনায় শুরু হবে বাংলাদেশের শৈল্পিক জিমন্যাস্টদের লড়াই। শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি দলগত ও ব্যক্তিগত দুই ইভেন্টেই অংশ নেবেন। নিখুঁত ভারসাম্য, সাহস আর শৈল্পিক নৈপুণ্যের পরীক্ষায় নিজেদের সেরাটা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

গ্লাসগোর ট্র্যাক, টোলক্রসের নীল জল, এসইসির রিং কিংবা স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম অ্যান্ড অ্যারেনার আলোতে ছড়িয়ে থাকবে বাংলাদেশের নাম। হয়তো ইতিহাসের পাতায় তাদের সবার নাম লেখা হবে না। হয়তো তাদের গলায় পদকও ঝুলবে না। কিন্তু প্রতিটি স্ট্রোক, প্রতিটি ঘুষি, প্রতিটি লাফ আর প্রতিটি দৌড়ে তারা বহন করবেন বাংলাদেশের স্বপ্ন।

কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার সাহস। সেই সাহস নিয়েই শুক্রবার গ্লাসগোয় শুরু হচ্ছে লাল-সবুজের আরেকটি যাত্রা।