১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধনকুবেরদের প্রভাবে গণতন্ত্র হুমকির মুখে: অক্সফাম

  • Update Time : ০২:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • 30

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম তাদের বার্ষিক বৈষম্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। Advertisement সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারিখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে সংস্থাটি উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী বা ধনকুবেররা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় ধনকুবেরদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪ হাজার গুণ বেশি এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই এখন তাদের মালিকানাধীন। অক্সফামের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ধনকুবেরদের মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের নিম্ন আয়ের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বা ৪.১ বিলিয়ন মানুষের মোট সম্পদের সমান। গত বছর বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। দাভোসের সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতারা মিলিত হলেও, অক্সফাম সতর্ক করেছে যে অতি ধনীদের এই আধিপত্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আরও পড়ুন জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন! জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন! প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেফ বেজোস ওয়াশিংটন পোস্ট কিনে নেওয়া, ইলন মাস্কের টুইটার (বর্তমানে এক্স) অধিগ্রহণ এবং প্যাট্রিক সুন-শিয়ং বা ভিনসেন্ট বোলোরের মতো ধনকুবেরদের গণমাধ্যম মালিকানা তথ্যের অবাধ প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেন, রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতির ওপর অতি ধনীদের এই অস্বাভাবিক প্রভাব বৈষম্যকে আরও গভীর করেছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য থেকে বিশ্বকে বিচ্যুত করছে। তার মতে, ধনকুবেররা এখন সরাসরি বিচারক বা নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখছে, যা সাধারণ মানুষের অধিকারকে সংকুচিত করছে। বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন যখন ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠছে, তখন সরকারগুলো ধনীদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত বলে অক্সফাম অভিযোগ করেছে। গত বছর ৬৮টি দেশে অন্তত ১৪২টি বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয়

ধনকুবেরদের প্রভাবে গণতন্ত্র হুমকির মুখে: অক্সফাম

Update Time : ০২:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম তাদের বার্ষিক বৈষম্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। Advertisement সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারিখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে সংস্থাটি উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী বা ধনকুবেররা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় ধনকুবেরদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪ হাজার গুণ বেশি এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই এখন তাদের মালিকানাধীন। অক্সফামের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ধনকুবেরদের মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের নিম্ন আয়ের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বা ৪.১ বিলিয়ন মানুষের মোট সম্পদের সমান। গত বছর বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। দাভোসের সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতারা মিলিত হলেও, অক্সফাম সতর্ক করেছে যে অতি ধনীদের এই আধিপত্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আরও পড়ুন জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন! জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন! প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেফ বেজোস ওয়াশিংটন পোস্ট কিনে নেওয়া, ইলন মাস্কের টুইটার (বর্তমানে এক্স) অধিগ্রহণ এবং প্যাট্রিক সুন-শিয়ং বা ভিনসেন্ট বোলোরের মতো ধনকুবেরদের গণমাধ্যম মালিকানা তথ্যের অবাধ প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেন, রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতির ওপর অতি ধনীদের এই অস্বাভাবিক প্রভাব বৈষম্যকে আরও গভীর করেছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য থেকে বিশ্বকে বিচ্যুত করছে। তার মতে, ধনকুবেররা এখন সরাসরি বিচারক বা নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখছে, যা সাধারণ মানুষের অধিকারকে সংকুচিত করছে। বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন যখন ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠছে, তখন সরকারগুলো ধনীদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত বলে অক্সফাম অভিযোগ করেছে। গত বছর ৬৮টি দেশে অন্তত ১৪২টি বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।