০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গার গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাপ্রহরীর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও হুমকির অভিযোগ

  • Update Time : ০১:৩২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • 79

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও নিরাপত্তা প্রহরী মহিবুল্লাহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা, হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন আচরণ চললেও লিখিত অভিযোগের পরও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। উল্টো অভিযুক্ত কর্মচারী আরও চড়াও হয়ে উঠছেন বলে জানান তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহিবুল্লাহ বিশ্বাস দায়িত্ব অবহেলা, সময়মতো ডিউটি না করা, বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, গেটে দায়িত্ব পালন না করে অফিস কক্ষে অবস্থান, দায়িত্বকালীন সময়ে ঘুমিয়ে থাকা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রধান শিক্ষক ও অ্যাডহক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেন। তবে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে আবারও শোকজ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, মহিবুল্লাহ বিশ্বাস শিক্ষকদের সঙ্গে উদ্ধতপূর্ণ ও অসদাচরণমূলক ভাষায় কথা বলেন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারমুখী ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ প্রদর্শন করেন এবং গুন্ডা প্রকৃতির ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছেন। এছাড়া তিনি নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, গেটে না বসে নির্দিষ্ট কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা, অশোভন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন শিক্ষকরা।

তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন অভিযুক্ত মহিবুল্লাহ বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে চাকরি পাওয়ায় বর্তমানে এখানে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে গেছে। বিগত তিন বছর আমি এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। আমি কখনো কারো সাথে খারাপ আচরণ করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদুল ইসলাম বলেন, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তার দায়িত্ববোধের অভাব দেখা যাচ্ছে। গেটে দায়িত্ব থাকলেও তিনি সেখানে না বসে অফিস কক্ষে অবস্থান করেন। অনুপস্থিত থেকেও প্রভাব খাটিয়ে একসঙ্গে একাধিক দিনের হাজিরা স্বাক্ষর করেন। সাবেক সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত কর্মচারী বেপরোয়া আচরণ করছেন এবং বর্তমানে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর আশ্রয়ে আবারও হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) আশরাফ আলী জানান, যোগদানের পর থেকেই মহিবুল্লাহ বিশ্বাসের আচরণগত সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি কর্ণপাত না করে উল্টো স্কুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এবং দায়িত্ব পালনে অসদুপায় অবলম্বন করছেন।

সহকারী শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী বিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। দায়িত্ব পালনে অনিয়মের কথা বললে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। তিনি সাবেক এমপি মরহুম সোলায়মান হক জোয়ার্দার সেলুনের সহচর ছিলেন।

এ বিষয়ে গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, কয়েক মাস আগে শিক্ষকদের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মচারীর মতানৈক্য ও দুর্ব্যবহারের বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পুনরায় শোকজ করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ পৌঁছায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

নারী সহকর্মীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণ, মার্কিন গবেষণাগার ছাড়ছেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী

আলমডাঙ্গার গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাপ্রহরীর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও হুমকির অভিযোগ

Update Time : ০১:৩২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও নিরাপত্তা প্রহরী মহিবুল্লাহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা, হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন আচরণ চললেও লিখিত অভিযোগের পরও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। উল্টো অভিযুক্ত কর্মচারী আরও চড়াও হয়ে উঠছেন বলে জানান তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহিবুল্লাহ বিশ্বাস দায়িত্ব অবহেলা, সময়মতো ডিউটি না করা, বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, গেটে দায়িত্ব পালন না করে অফিস কক্ষে অবস্থান, দায়িত্বকালীন সময়ে ঘুমিয়ে থাকা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রধান শিক্ষক ও অ্যাডহক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেন। তবে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে আবারও শোকজ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, মহিবুল্লাহ বিশ্বাস শিক্ষকদের সঙ্গে উদ্ধতপূর্ণ ও অসদাচরণমূলক ভাষায় কথা বলেন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারমুখী ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ প্রদর্শন করেন এবং গুন্ডা প্রকৃতির ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছেন। এছাড়া তিনি নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা, গেটে না বসে নির্দিষ্ট কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা, অশোভন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন শিক্ষকরা।

তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন অভিযুক্ত মহিবুল্লাহ বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে চাকরি পাওয়ায় বর্তমানে এখানে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে গেছে। বিগত তিন বছর আমি এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। আমি কখনো কারো সাথে খারাপ আচরণ করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হামিদুল ইসলাম বলেন, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তার দায়িত্ববোধের অভাব দেখা যাচ্ছে। গেটে দায়িত্ব থাকলেও তিনি সেখানে না বসে অফিস কক্ষে অবস্থান করেন। অনুপস্থিত থেকেও প্রভাব খাটিয়ে একসঙ্গে একাধিক দিনের হাজিরা স্বাক্ষর করেন। সাবেক সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত কর্মচারী বেপরোয়া আচরণ করছেন এবং বর্তমানে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর আশ্রয়ে আবারও হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) আশরাফ আলী জানান, যোগদানের পর থেকেই মহিবুল্লাহ বিশ্বাসের আচরণগত সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি কর্ণপাত না করে উল্টো স্কুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এবং দায়িত্ব পালনে অসদুপায় অবলম্বন করছেন।

সহকারী শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী বিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। দায়িত্ব পালনে অনিয়মের কথা বললে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। তিনি সাবেক এমপি মরহুম সোলায়মান হক জোয়ার্দার সেলুনের সহচর ছিলেন।

এ বিষয়ে গোকুলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, কয়েক মাস আগে শিক্ষকদের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মচারীর মতানৈক্য ও দুর্ব্যবহারের বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পুনরায় শোকজ করা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ পৌঁছায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।