১২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাস্তাবিহীন ৫৭ লাখ টাকার সেতু—নয় বছরেও সংযোগ সড়ক নেই, গোবর শুকানোর স্থানে পরিণত ব্রিজ

  • NEWS ROOM
  • Update Time : ০৬:২৭:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • 77

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের ওপর নির্মিত ৫৭ লাখ টাকার সেতুটি নয় বছরেও মানুষের কোনো কাজে আসছে না। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর ওপর বর্তমানে শুকানো হচ্ছে গরুর গোবর। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর ও বকশিপুর গ্রামের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুনে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়। তবে সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ‘অব্যবহৃত কাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশে রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা এখনো ৫–১০ কিলোমিটার ঘুরে আলমডাঙ্গা শহরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সেতুটি চালু হলে ১০টি গ্রামের মানুষ কয়েক মিনিটেই যাতায়াত করতে পারতেন। আশপাশের বৃদ্ধাশ্রম, মাদরাসা, স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “সেতু আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। ফসল মাঠ থেকে আনতে কষ্ট হয়, খরচও বাড়ে।”
আসাননগর গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, “সংযোগ সড়ক থাকলে দুই পাশের মানুষের যাতায়াত সহজ হতো। এখন সেতুটি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
প্রকাশ নামে আরেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছে ৫৭ লাখ টাকা খরচ করে গোবর শুকানোর জায়গা বানানো হয়েছে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মৌদুদ আলম খাঁ জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সমস্যাটি পূর্বে জানতেন না। তিনি বলেন, “সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। দ্রুত সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

সংযোগ সড়ক না হওয়ায় প্রায় এক দশক ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এ সেতুটি এখন এলাকার মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশা—অতি দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে এই সেতুটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানো হবে।

জনপ্রিয়

রাস্তাবিহীন ৫৭ লাখ টাকার সেতু—নয় বছরেও সংযোগ সড়ক নেই, গোবর শুকানোর স্থানে পরিণত ব্রিজ

Update Time : ০৬:২৭:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের ওপর নির্মিত ৫৭ লাখ টাকার সেতুটি নয় বছরেও মানুষের কোনো কাজে আসছে না। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর ওপর বর্তমানে শুকানো হচ্ছে গরুর গোবর। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর ও বকশিপুর গ্রামের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুনে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়। তবে সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ‘অব্যবহৃত কাঠামো’ হিসেবেই পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশে রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা এখনো ৫–১০ কিলোমিটার ঘুরে আলমডাঙ্গা শহরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সেতুটি চালু হলে ১০টি গ্রামের মানুষ কয়েক মিনিটেই যাতায়াত করতে পারতেন। আশপাশের বৃদ্ধাশ্রম, মাদরাসা, স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “সেতু আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। ফসল মাঠ থেকে আনতে কষ্ট হয়, খরচও বাড়ে।”
আসাননগর গ্রামের বাবুল হোসেন জানান, “সংযোগ সড়ক থাকলে দুই পাশের মানুষের যাতায়াত সহজ হতো। এখন সেতুটি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
প্রকাশ নামে আরেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছে ৫৭ লাখ টাকা খরচ করে গোবর শুকানোর জায়গা বানানো হয়েছে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মৌদুদ আলম খাঁ জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সমস্যাটি পূর্বে জানতেন না। তিনি বলেন, “সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। দ্রুত সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

সংযোগ সড়ক না হওয়ায় প্রায় এক দশক ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এ সেতুটি এখন এলাকার মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশা—অতি দ্রুত সড়ক নির্মাণ করে এই সেতুটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানো হবে।