০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হলো ১৫ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির অজগর।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার গোপালপুরে ধান কাটার সময় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের নিচে আটকে থাকা বিলুপ্তপ্রায় ময়াল সাপ উদ্ধার করা হয়েছে, এটি বিশাল আকারের অজগর সাপ । বৃহস্পতিবার বিকাল চারটার দিকে গোপালপুর জেহালা পাড়ার মৃত সিদ্দিকের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি থেকে ধানকাটা মেশিনের ভিতর থেকে সাপটি বের করে বাড়ির মালিক সাদ্দাম হোসেন ও প্রতিবেশীরা। প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ এবং আনুমানিক ১৫ কেজি ওজনের এই অজগরটি প্রথমবারের মতো এই জেলায় দেখা গেল, যা স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গ্রামবাসীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে খুলনা বন বিভাগ ও দামুড়হুদা উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে রাতেই অজগরটিকে নিরাপদে হেফাজতে নেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাপটি বর্তমানে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। রক পাইথন সাপটিকে মধ্যরাতেই বন বিভাগের কর্মকর্তারায় খুলনায় নিয়ে যান।

 

 

 

 

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পানকৌড়ি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বখতিয়ার হামিদ বিপুল জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সাপটি ভেসে আসতে পারে। তবে তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি এভাবে দেখলেও পুরো চিত্রটা এতো সরল নয়।”

অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল প্রকৃতির খেয়াল নয়, বরং সীমান্ত দিয়ে বন্যপ্রাণী পাচারের দীর্ঘদিনের ইতিহাসের অংশ হতে পারে। গত কয়েক বছরে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে একাধিকবার আফ্রিকান সার্ভাল ক্যাট, ম্যাকাও, ক্যাপা স্টার্লিং, এবং আফ্রিকান ওপেনবিলসহ বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি উদ্ধার করা হয়েছে পাচারকারীদের কাছ থেকে।

২০১৪ সালে এই অঞ্চল থেকে এক বড় পাচারচক্রের চালান আটক হয়, যেখানে ম্যাকাওসহ বিভিন্ন বিদেশি বন্যপ্রাণী ছিল। এই নজির ও ধারাবাহিকতা দেখে ধারণা করা যায়, সীমান্ত এলাকা বন্যপ্রাণী পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এই অজগরটিও হয়তো পাচারের সময় কোনোভাবে পালিয়ে এসেছে বা ফেলে যাওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ রকিব উদ্দীন জানান, “আমরা প্রাণীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে পাচারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে।

তবে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে Indian rock python বা দেশীয় অজগরের উপস্থিতি নতুন নয়। কিন্তু সমতল ও সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এর এমন হঠাৎ উপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দ্রুত খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন সাপ দেখতে ভিড় জমায় সেখানে।

 

জনপ্রিয়

নারী সহকর্মীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণ, মার্কিন গবেষণাগার ছাড়ছেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী

চুয়াডাঙ্গায় ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হলো ১৫ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির অজগর।

Update Time : ০১:১৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদার গোপালপুরে ধান কাটার সময় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের নিচে আটকে থাকা বিলুপ্তপ্রায় ময়াল সাপ উদ্ধার করা হয়েছে, এটি বিশাল আকারের অজগর সাপ । বৃহস্পতিবার বিকাল চারটার দিকে গোপালপুর জেহালা পাড়ার মৃত সিদ্দিকের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বাড়ি থেকে ধানকাটা মেশিনের ভিতর থেকে সাপটি বের করে বাড়ির মালিক সাদ্দাম হোসেন ও প্রতিবেশীরা। প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ এবং আনুমানিক ১৫ কেজি ওজনের এই অজগরটি প্রথমবারের মতো এই জেলায় দেখা গেল, যা স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

গ্রামবাসীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে খুলনা বন বিভাগ ও দামুড়হুদা উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে রাতেই অজগরটিকে নিরাপদে হেফাজতে নেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাপটি বর্তমানে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। রক পাইথন সাপটিকে মধ্যরাতেই বন বিভাগের কর্মকর্তারায় খুলনায় নিয়ে যান।

 

 

 

 

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পানকৌড়ি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বখতিয়ার হামিদ বিপুল জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সাপটি ভেসে আসতে পারে। তবে তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি এভাবে দেখলেও পুরো চিত্রটা এতো সরল নয়।”

অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল প্রকৃতির খেয়াল নয়, বরং সীমান্ত দিয়ে বন্যপ্রাণী পাচারের দীর্ঘদিনের ইতিহাসের অংশ হতে পারে। গত কয়েক বছরে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে একাধিকবার আফ্রিকান সার্ভাল ক্যাট, ম্যাকাও, ক্যাপা স্টার্লিং, এবং আফ্রিকান ওপেনবিলসহ বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি উদ্ধার করা হয়েছে পাচারকারীদের কাছ থেকে।

২০১৪ সালে এই অঞ্চল থেকে এক বড় পাচারচক্রের চালান আটক হয়, যেখানে ম্যাকাওসহ বিভিন্ন বিদেশি বন্যপ্রাণী ছিল। এই নজির ও ধারাবাহিকতা দেখে ধারণা করা যায়, সীমান্ত এলাকা বন্যপ্রাণী পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এই অজগরটিও হয়তো পাচারের সময় কোনোভাবে পালিয়ে এসেছে বা ফেলে যাওয়া হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ রকিব উদ্দীন জানান, “আমরা প্রাণীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে পাচারের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে।

তবে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে Indian rock python বা দেশীয় অজগরের উপস্থিতি নতুন নয়। কিন্তু সমতল ও সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এর এমন হঠাৎ উপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দ্রুত খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন সাপ দেখতে ভিড় জমায় সেখানে।