নওগাঁর আত্রাইয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্পব আকন্দের বিরুদ্ধে। এতে পথে বসার উপক্রম হয়েছে উপজেলার ভোঁপাড়া গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের (৩৫)। বর্তমানে নিঃস্ব অবস্থায় সুষ্ঠু বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রবাসী শফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া গ্রামের যুবক শফিকুল ইসলাম ও একই গ্রামের মঞ্জিল শেখের মেয়ে মুন্নি আক্তারের (২৫) সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আট বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ২০১০ সালে কাজের সন্ধানে শফিকুল ইসলাম দুবাই পাড়ি জমান। এরমধ্যে বাড়িও আসেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে আবার কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। বেশ কয়েক বছর ভালোই চলছিল তাদের সংসার। এর মাঝে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্পব আকন্দের নজর পড়ে প্রবাসীর স্ত্রী ও তার টাকার দিকে। গৃহবধূকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরকীয়ায় জড়িয়ে শফিকুলের পাঠানো টাকা আত্মসাৎ করেন।
চলতি মাসের ৫ তারিখে শফিকুল জানতে পারেন; স্ত্রী এখন একই গ্রামের ইউপি সদস্য বিল্পব আকন্দের সঙ্গে ঘর-সংসার করছেন। এরপর শফিকুল ইসলাম নিরুপায় হয়ে ছুটি নিয়ে চলতি মাসের ২২ তারিখে দেশে এসে তার শ্বশুরবাড়ি গেলে তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাকে জানানো হয় তালাক দিয়ে বিল্পবকে বিয়ে করেছেন।
প্রবাসী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমাকে যে তালাক দিয়েছেন তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তালাক দিতে হলে কাজি অফিসে বা কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিতে হয়, সেটা করা হয়নি। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে তালাকনামার কপি যাবে। কিন্তু সেটাও করা হয়নি বা আমাকে জানানো হয়নি। তাহলে আমাকে কিভাবে তালাক দিলো।
তিনি বলেন, আমি বাড়ি আসার পর একটি এফিডেভিট করা কাগজ আমার কাছে পৌঁছানো হয়েছে। সেখানে লেখা আছে স্ত্রী ও বিল্পব বিয়ে করেছেন। তালাক না দিয়েই কিভাবে বিয়ে হয়। বিদেশ থাকাকালীন আমি প্রতি মাসেই স্ত্রীকে আত্রাই শাখার ইসলামী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা পাঠিয়েছি। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাঠিয়েছি। সেই টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণ আত্মসাত করেছেন স্ত্রী ও বিল্পব। তারা যে বিয়ের ডকুমেন্ট দেখাচ্ছেন সেটা চলতি মাসের ১ তারিখে বিয়ে করেছেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমার বউ হিসেবে ঘর-সংসার করার অভিনয় করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
গৃহবধূর বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মা ছালেয়া বেগম মুঠোফোনে বলেন, আমার মেয়ে আর শফিকুলের সঙ্গে ঘর সংসার করবে না। শফিকুলকে তো তালাক দিয়েছেন। কিভাবে তালাক দেওয়া হয়েছে; এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বিল্পব আকন্দের বলেন, তিনি আর শফিকুলের বউ নন, আমার বউ। আমি তাকে বিয়ে করেছি। তালাকনামার কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
স্থানীয় ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মন্ডল বলেন, আমি জানি বিল্পব ওই মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তবে কতটুকু আইন মেনে বিয়ে করেছেন তা জানা নেই। তবে শফিকুল মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) রাতে সবাইকে নিয়ে বসা হলেও সুরাহা হয়নি। প্রয়োজনে আবার বসে সুরাহা করা হবে




















