১২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ির উঠানে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দিলেন শাহানাজ

  • Update Time : ১১:৪১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩
  • 138

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাবার মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে এইচএসসি বাংলা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন শাহানাজ পারভীন নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মেয়ে শাহানাজ পারভীন। তিনি উপজেলার সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজ থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

পাড়া ও প্রতিবেশী স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। এদিকে শাহানাজ পারভীন বাবার মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে এসে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ আলী (৫০) গত বুধবার রাতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ বিকেলে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

শাহেদ আলীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তার মৃত্যুতে একমাত্র মেয়ে শাহানাজ শোকে কাতর হয়ে পড়েন। তবুও বাবার ইচ্ছা পূরণে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাবাকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা দেন তিনি। পরীক্ষা শেষে শাহানাজ বাড়ি ফেরার পর বাবার দাফন কাজ শেষ হয়।

শাহানাজের বাবা শাহেদ আলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ হলেও কাঠের ব্যবসা করে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পারিবারিকভাবে অস্বচ্ছল থাকা সত্ত্বেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবার প্রবল ইচ্ছার জেরে শাহানাজ এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। মেধাবী শাহনাজ পারভীন বড় খাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হন।

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগে শাহানাজ পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। পরীক্ষা দিয়েছি, হয়তো ভালো রেজাল্ট আসবে না।

হাতীবান্ধা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মোতাহার হোসেন লাভলু বলেন, বাবাকে হারানো যেকোনো সন্তানের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। এরপরও শাহানাজ বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। আমরা তার পরীক্ষার সময় যতটা সহযোগিতা দরকার করেছি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেন বলেন, শাহানাজ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আসার পর জানতে পেরেছি। তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি এবং পরীক্ষা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে

Tag :
জনপ্রিয়

নারী সহকর্মীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণ, মার্কিন গবেষণাগার ছাড়ছেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় বিজ্ঞানী

বাড়ির উঠানে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দিলেন শাহানাজ

Update Time : ১১:৪১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাবার মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে এইচএসসি বাংলা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন শাহানাজ পারভীন নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় হাতীবান্ধা মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মেয়ে শাহানাজ পারভীন। তিনি উপজেলার সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজ থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

পাড়া ও প্রতিবেশী স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। এদিকে শাহানাজ পারভীন বাবার মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে এসে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ আলী (৫০) গত বুধবার রাতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ বিকেলে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

শাহেদ আলীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তার মৃত্যুতে একমাত্র মেয়ে শাহানাজ শোকে কাতর হয়ে পড়েন। তবুও বাবার ইচ্ছা পূরণে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাবাকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা দেন তিনি। পরীক্ষা শেষে শাহানাজ বাড়ি ফেরার পর বাবার দাফন কাজ শেষ হয়।

শাহানাজের বাবা শাহেদ আলী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ হলেও কাঠের ব্যবসা করে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পারিবারিকভাবে অস্বচ্ছল থাকা সত্ত্বেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবার প্রবল ইচ্ছার জেরে শাহানাজ এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। মেধাবী শাহনাজ পারভীন বড় খাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হন।

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগে শাহানাজ পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। পরীক্ষা দিয়েছি, হয়তো ভালো রেজাল্ট আসবে না।

হাতীবান্ধা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মোতাহার হোসেন লাভলু বলেন, বাবাকে হারানো যেকোনো সন্তানের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। এরপরও শাহানাজ বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। আমরা তার পরীক্ষার সময় যতটা সহযোগিতা দরকার করেছি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেন বলেন, শাহানাজ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আসার পর জানতে পেরেছি। তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি এবং পরীক্ষা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে