ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ (সংবাদ সংস্থা): বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর শাখা ২৮ অক্টোবর ‘পল্টন ট্রাজেডি দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি আসিফ আব্দুল্লাহ ও দক্ষিণ সভাপতি হেলাল উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এবং প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২৮ অক্টোবর তাদের জন্য যেমন বেদনার, তেমনি প্রতিবাদেরও। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেদিন চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনে জামায়াতে ইসলামী তাদের আনুষ্ঠানিক সমাবেশ শেষে বঙ্গভবনে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় শেখ হাসিনা তার দলের ক্যাডারদের লাঠি ও বৈঠা নিয়ে ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের পূর্বপরিকল্পিত হামলায় সকালে ছয়জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। মাওলানা খান আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সেই মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।”
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, এই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে শেখ হাসিনা-সহ সংশ্লিষ্ট ১৪-দলের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য।
প্রধান বক্তার দাবি ও বার্তা
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে এ দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেব না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২৮ অক্টোবরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই শেখ হাসিনা ১/১১-এর কালো অধ্যায় রচনা করেছিলেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল।
তিনি ছাত্রশিবিরের ওপর অতীতে সংঘটিত নৃশংসতার কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের চারজন ভাইকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যার পর একটি ইটের ওপর মাথা রেখে অন্য ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে এবং অনেক পরিবার এখনও তাদের প্রিয়জনের খোঁজ পায়নি।
জাহিদুল ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দুটি প্রধান দাবি জানান:
- মামলার দ্রুত বিচার: ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পুনরায় চালু করে দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে, যাতে খুনিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।
- শহীদ স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ: ২৮ অক্টোবর সারাদেশে নিহত ১৮ জন কর্মীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদের স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রদর্শনীতে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম, শহীদ শিপনের পিতা তাজুল ইসলাম, অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে তারা আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।




















