ইমরুল শাহেদ : বডি বিল্ডিংয়ে তৎকালীন মি. ইস্ট পাকিস্তান মেজবাহউদ্দীন আহমেদ ওরফে ওয়াসিম চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এসএম শফি পরিচালিত ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ ছবির সহকারী পরিচালক হিসেবে। কিন্তু তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার এক বছর পরই অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ ছবিতে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ ছবিতে তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন ববিতা। এ ছবির ‘কচি ডাবের পানি, দুই আনাতে কিনে নিন’ গানটি এখনো লোকের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি ১৫২টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাকু মনসুর, জিঘাংসা, দুই রাজকুমার, দি রেইন, দোস্ত দুশমন, আসামী হাজির, রাজনন্দিনী, রাজমহল, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, কে আসল কে নকল এবং লাল মেম সাহেব। তবে ‘রাতের পর দিন’ ছবিতে অভিনয় করার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার অভিনীত ১৫২টি ছবির মধ্যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দু’চারটি ছবি ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে মমতাজ আলীর সাক্ষী একটি। কিন্তু এই ছবিতেই তিনি ভিন্ন মাত্রার অভিনয় করেছেন। কিন্তু দর্শক তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তারপরও ওয়াসিমকে বলা হয় ঢাকার চলচ্চিত্রকে সর্বাধিক অর্থ আয় করে দেওয়া তারকা। তাহলে তার ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হলো না কেন? তার একমাত্র কারণ হলো তিনি ছিলেন একজন এক মাত্রিক অভিনেতা। জিঘাংসা, দি রেইন এবং সাক্ষী ছবি দিয়ে তিনি রুপকথার অভিনেতা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু জিঘাংসা এবং দি রেইন ব্যাপক ব্যবসা করলেও সাক্ষী ব্যর্থ হয়। লাল মেম সাহেব ছবিটিও তাকে রুপকথার খোলস মুক্ত করতে পারেনি। তবে তার ফ্যান্টাসি ছবিটি কোনোটি ব্যর্থ হয়নি। এজন্য নির্মাতারা তাকে ফোক-ফ্যান্টাসির বাইরে ভাবতে পারেননি। দি রেইন ছবিটি ডাবল ভার্সান – বাংলা ও উর্দু দুই ভাষায় নির্মিত হয়েছে এবং প্রদর্শিত হয়েছে বিশ্বের ৪৬টি দেশে। সেই বিবেচনায় তাকে আন্তর্জাতিক তারকাও বলা যেতে পারে। কিন্তু অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ ওয়াসিম কখনো এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেননি। তিনি শাবানা, অলিভিয়া ও অনজুর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ছবি করেছেন এবং তাদের সঙ্গে তার সাফল্যও এসেছে ব্যাপকভাবে।
























