০২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়া ‘বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন’, ভাড়া বাসায় গিয়ে মিলল তুলির নিথর দেহ

  • MD Abdulla Haq
  • Update Time : ১১:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৩
  • ২৭ Time View

 

কুষ্টিয়ায় আইনজীবীর ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (২২) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিহত তুলির মা শরিফা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সুমন (২৯), মোছা. এশা (২২), মো. মজিবর (৫২), মোছা. দোলা (৪৬) ও মো. আনোয়ার (৪৭)।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান।

এদিকে, হত্যায় জড়িত কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সুমনসহ জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহত তুলির স্বজন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে জান্নাতুল ফেরদৌস তুলিকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করে হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়ে বক্তব্য রাখেন জান্নাতুল ফেরদৌস তুলির মা, বোন ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এর আগে, মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের মজমপুর এলাকার মফিজ উদ্দিন লেনের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুমনের ভাড়া বাসার ৪ তলার ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস তুলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি শহরের ২১নং ওয়ার্ডের মোল্লাতে ঘড়িয়ার মোল্লা পাড়ার ওহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

এদিকে, তুলির মরদেহের ময়নাতদন্ত বুধবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে।

আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংগৃহীত আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষা ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। সেগুলোর রিপোর্ট এলে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া যাবে।

এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তুলি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটে ক্লাস করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুমন নিহতের দুলাভাই শাকিল আহমেদকে ফোন করে জানান; তুলি তার বাড়িতে এসে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তাৎক্ষণিক নিহতের মা ও দুলাভাই সুমনের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন, বাসার সামনে রাস্তার ওপর একটি ভ্যানে তুলির নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তুলিকে তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তুলিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তুলি ও সুমনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তুলিকে নিজের ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যান সুমন। সেখানে সুমনকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তুলি। এ সময় তুলির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে সুমন বাকি আসামিদের সহযোগিতায় তাকে নির্যাতন করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বললেও পরিবার অভিযোগ তোলে; এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ ঘটনায় ওই ভবনে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের দানা বাধে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সুমনের সঙ্গে নিহত তুলির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তুলি এক সময় যে কোচিংয়ে পড়তেন সুমন সেখানকার শিক্ষক ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে ওই আইনজীবী বিয়ে করেছেন। স্ত্রী নিয়ে তিনি শহরের একটি ৫তলা ভবনের ৪র্থ তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। সেই ফ্ল্যাট থেকে তুলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে, আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। মাহমুদুল হাসান সুমন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চকদৌলতপুর গ্রামের মৃত তক্কেল আলীর

Tag :
About Author Information

MD Abdulla Haq

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস পালন

কুষ্টিয়া ‘বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন’, ভাড়া বাসায় গিয়ে মিলল তুলির নিথর দেহ

Update Time : ১১:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৩

 

কুষ্টিয়ায় আইনজীবীর ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি (২২) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিহত তুলির মা শরিফা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সুমন (২৯), মোছা. এশা (২২), মো. মজিবর (৫২), মোছা. দোলা (৪৬) ও মো. আনোয়ার (৪৭)।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান।

এদিকে, হত্যায় জড়িত কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সুমনসহ জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহত তুলির স্বজন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে জান্নাতুল ফেরদৌস তুলিকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করে হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়ে বক্তব্য রাখেন জান্নাতুল ফেরদৌস তুলির মা, বোন ও স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এর আগে, মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের মজমপুর এলাকার মফিজ উদ্দিন লেনের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুমনের ভাড়া বাসার ৪ তলার ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস তুলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি শহরের ২১নং ওয়ার্ডের মোল্লাতে ঘড়িয়ার মোল্লা পাড়ার ওহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

এদিকে, তুলির মরদেহের ময়নাতদন্ত বুধবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে।

আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংগৃহীত আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষা ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। সেগুলোর রিপোর্ট এলে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া যাবে।

এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তুলি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটে ক্লাস করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুমন নিহতের দুলাভাই শাকিল আহমেদকে ফোন করে জানান; তুলি তার বাড়িতে এসে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তাৎক্ষণিক নিহতের মা ও দুলাভাই সুমনের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন, বাসার সামনে রাস্তার ওপর একটি ভ্যানে তুলির নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তুলিকে তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তুলিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তুলি ও সুমনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তুলিকে নিজের ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যান সুমন। সেখানে সুমনকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তুলি। এ সময় তুলির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে সুমন বাকি আসামিদের সহযোগিতায় তাকে নির্যাতন করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বললেও পরিবার অভিযোগ তোলে; এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ ঘটনায় ওই ভবনে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের দানা বাধে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সুমনের সঙ্গে নিহত তুলির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তুলি এক সময় যে কোচিংয়ে পড়তেন সুমন সেখানকার শিক্ষক ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে ওই আইনজীবী বিয়ে করেছেন। স্ত্রী নিয়ে তিনি শহরের একটি ৫তলা ভবনের ৪র্থ তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। সেই ফ্ল্যাট থেকে তুলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে, আইনজীবী মাহমুদুল হাসান সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। মাহমুদুল হাসান সুমন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চকদৌলতপুর গ্রামের মৃত তক্কেল আলীর