১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার শহিদ দিবস আজ

  • Update Time : ০৪:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩
  • ৪৫ Time View

আজ ৫ আগস্ট (শনিবার)। চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় শহিদ দিবস। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপ‌জেলার নাটুদহ মাঠে ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হয়েছিলেন।

জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, স্থানীয় প্রশাসন ও মু‌ক্তি‌যোদ্ধারা তাদের স্মরণে প্রতিবছর এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদার সঙ্গে পালন করে আসছে।

চুযাডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ জানান, দামুড়হুদা-মেহেরপুরের মাঝামাঝি একটি গ্রাম জয়পুরে ১৯৭১ সা‌লে ৫ আগস্ট যখন মুক্তিযোদ্ধারা ঘুমিয়ে ছিল, ঠিক তখনি ছদ্দবেশী একজন খবর দেন যে দামুড়হুদার নাটুদহ মাঠের সব পাকা ধান পাকবাহিনীরা জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ সংবাদ পে‌য়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কিছু না বুঝেই দলবেধে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দেখা গেল কিছুই না, তারা রাজাকা‌রের কৌশলে পাকবা‌হিনীর ফা‌দে পা দি‌য়ে‌ছেন।

এ সময় প‌রি‌স্থি‌তি বুঝ‌তে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফাঁকা গুলি ছুড়লে তখন ইউ আকৃ‌তি‌তে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের ঘি‌রে ফেলা পাকসেনারা শতশত রাউন্ড গুলি ছুড়তে থাকে। প‌রি‌স্থি‌তি বেগ‌তিক দেখে পেছা‌নোর কোনো পথ না পেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন।

গোলাগুলির একপর্যা‌য়ে দামুড়হুদার নাটুদহ স্কুলে পাকসেনাদের ক্যাম্প থে‌কে আরো পাক‌সেনা পেছন থেকে অগ্রসর হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে গুলি ছোড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচতে হলে মুভ করতে হবে, মুক্তিযোদ্ধারাও গুলি চালাতে চালাতে ক্লান্ত প্রায়। এর ফাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হাসানের ডান হাতে গুলি লাগে। সে সময় হাত গামছা দিয়ে বেঁধে গুলি চালাতে থাকেন। হাসান সবার পিছুটান দেওয়ার কথা বলেই মৃত্যুবরণ করেন। পিছু হটার সঙ্গে সঙ্গে পাকসেনারা তাদের ধরে গুলি ও বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তারিক, আফাজ, খোকন, আবুল কাশেম, রবিউল, রওশন, কিয়ামদ্দিন ও হাসানকে গুলি করে হত্যা করে। দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য নিঃশেষে প্রাণদান করে শহিদ হন ৮ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

জেলা ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তি‌যোদ্ধা সংসদ স্বাধীনতার পর থেকে এই ৮ শহি‌দের স্মরণে প্রতিবছর এই দিবসটিকে স্থানীয় শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মঞ্জু জানান, ৮ শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের স্মরণে রাখতেই দামুড়হুদার এই স্থানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আট কবর’। এখানে স্থানীয় শহিদ দিবস পালনে সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ আলোচনা ও দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আলোচনায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দার সেলুন এমপি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি হাজী মো. আলি আজগার টগরসহ জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শহিদ পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাবেন বলেও জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয়

পান বরজে আগুন, পুড়ে শেষ হলো কৃষকের স্বপ্ন

চুয়াডাঙ্গার শহিদ দিবস আজ

Update Time : ০৪:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০২৩

আজ ৫ আগস্ট (শনিবার)। চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় শহিদ দিবস। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপ‌জেলার নাটুদহ মাঠে ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হয়েছিলেন।

জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, স্থানীয় প্রশাসন ও মু‌ক্তি‌যোদ্ধারা তাদের স্মরণে প্রতিবছর এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদার সঙ্গে পালন করে আসছে।

চুযাডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ জানান, দামুড়হুদা-মেহেরপুরের মাঝামাঝি একটি গ্রাম জয়পুরে ১৯৭১ সা‌লে ৫ আগস্ট যখন মুক্তিযোদ্ধারা ঘুমিয়ে ছিল, ঠিক তখনি ছদ্দবেশী একজন খবর দেন যে দামুড়হুদার নাটুদহ মাঠের সব পাকা ধান পাকবাহিনীরা জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ সংবাদ পে‌য়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কিছু না বুঝেই দলবেধে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দেখা গেল কিছুই না, তারা রাজাকা‌রের কৌশলে পাকবা‌হিনীর ফা‌দে পা দি‌য়ে‌ছেন।

এ সময় প‌রি‌স্থি‌তি বুঝ‌তে একজন মুক্তিযোদ্ধা ফাঁকা গুলি ছুড়লে তখন ইউ আকৃ‌তি‌তে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের ঘি‌রে ফেলা পাকসেনারা শতশত রাউন্ড গুলি ছুড়তে থাকে। প‌রি‌স্থি‌তি বেগ‌তিক দেখে পেছা‌নোর কোনো পথ না পেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন।

গোলাগুলির একপর্যা‌য়ে দামুড়হুদার নাটুদহ স্কুলে পাকসেনাদের ক্যাম্প থে‌কে আরো পাক‌সেনা পেছন থেকে অগ্রসর হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে গুলি ছোড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচতে হলে মুভ করতে হবে, মুক্তিযোদ্ধারাও গুলি চালাতে চালাতে ক্লান্ত প্রায়। এর ফাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হাসানের ডান হাতে গুলি লাগে। সে সময় হাত গামছা দিয়ে বেঁধে গুলি চালাতে থাকেন। হাসান সবার পিছুটান দেওয়ার কথা বলেই মৃত্যুবরণ করেন। পিছু হটার সঙ্গে সঙ্গে পাকসেনারা তাদের ধরে গুলি ও বেওনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তারিক, আফাজ, খোকন, আবুল কাশেম, রবিউল, রওশন, কিয়ামদ্দিন ও হাসানকে গুলি করে হত্যা করে। দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য নিঃশেষে প্রাণদান করে শহিদ হন ৮ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

জেলা ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তি‌যোদ্ধা সংসদ স্বাধীনতার পর থেকে এই ৮ শহি‌দের স্মরণে প্রতিবছর এই দিবসটিকে স্থানীয় শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মঞ্জু জানান, ৮ শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের স্মরণে রাখতেই দামুড়হুদার এই স্থানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আট কবর’। এখানে স্থানীয় শহিদ দিবস পালনে সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ আলোচনা ও দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আলোচনায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দার সেলুন এমপি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি হাজী মো. আলি আজগার টগরসহ জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শহিদ পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাবেন বলেও জানান তিনি।