০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত দেড় লক্ষাধিক পশু, সাড়া নেই অনলাইন হাটে

  • Update Time : ১২:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩
  • ৪০ Time View

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ এক সপ্তাহ পরেই। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত। জমতে শুরু করেছে হাট । তবে ঈদের ঠিক দু—তিন আগে থেকে ক্রেতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছে ব্যাপারীরা। এদিকে, গরু, ছাগল বেচা—কেনার জন্য অনলাইন হাট ব্যবস্থা করোনাভাইরাস অতিমারির সময় চালু করে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সেই সময় ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে কোরবানির পশু বেচাকেনার বিষয়টি নতুন করে সামনে এলেও প্রযুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না থাকায় তাতেও আগ্রহ কম প্রান্তিক খামারীদের। সরকারি—বেসরকারি উদ্যোগে অনেকেই অনলাইনে ছবি পোস্ট করে এমনকি লাইভ ভিডিও দেখিয়ে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু করলেও সাড়া পড়েনি। করোনা অতিমারীর সময় অনলাইন বেচাকেনায় আশা জাগলে, তাতে আগ্রহ হারিয়েছে ক্রেতা—বিক্রেতারা।

অন্যদিকে, সারাবছর কসাইখানায় গরু বিক্রির সুযোগ থাকলেও ক্ষুদ্র খামারীদের লক্ষ্য থাকে কোরবানির হাটে বেশি লাভে পশু বিক্রি করার। বিশেষ করে যারা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একটি বা হাতেগোনা কয়েকটি গরু লালন—পালন করেন, তারা এই সময়ে উপযুক্ত দামে গরু বিক্রি করতে সারাবছর ধরে অপেক্ষা করেন। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এ জেলার খামারীরা। সাথে লোকসান তো আছেই। ধার—দেনায় মোটাতাজা করা গরুগুলোকে এখন বিক্রি করাই তাদের জন্য কঠিন কাজ হয়ে পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এ বছর জেলার চারটি উপজেলায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেড় লক্ষাধিক পশু লালন—পালন করেছেন প্রায় ১২ হাজার খামারী। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ৪৩ হাজার এবং ছাগল ও ৯৩ হাজার। স্থানীয় বাজারে ৭০ হাজারের মতো গরু, মহিষ ও ছাগলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ২০ হাজার এবং ছাগল ৫০ হাজার। আর উদ্বৃত্ত ২৩ হাজারের মতো গরু, মহিষ ও প্রায় ৫০ হাজার ছাগল ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেচাবিক্রি করবেন খামারীরা। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে খামারীদের লালন—পালন করা ১ লাখ ৩৮ হাজার পশুর দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৭শ কোটি টাকা।

আলমডাঙ্গা উপজেলার গরু খামারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে আমরা গরু লালন—পালন করে থাকি। গরু হৃষ্টপুষ্ট ও লালন—পালন করতে নিজেদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করা হয়। প্রস্তুত পশু বিক্রি করে আবার সেসব ঋণ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি পুরোটাই ভিন্ন। জেলায় সপ্তাহে চারটি বড় বড় পশুর হাট বসলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। ফলে বাধ্য হয়ে গরু ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার এক খামারী মামুন জানান, কোরবানির এই সময়ে জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রস্তুতকৃত পশু ঢাকা—চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। কিন্ত এবার সেসব এলাকায় হাটের বাজার খুবই মন্দা। দাম না পাওয়ায় পশুর হাটে তুলে আবার ফিরিয়ে আনার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

ডুগডুগি হাটে পশু কিনতে আসা শাহাবুল নামের এক ক্রেতা বলেন, প্রতিবছর খামার থেকে গরু কিনে থাকি। খামার থেকে গরু কিনলে সুবিধা রয়েছে। ঈদ পর্যন্ত গরু খামারে রাখা যায়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বাড়তি ঝামেলা পোয়াতে হয় না। তবে এ বছর গরুর দামটা একটু বেশি।
হাটে গরু কিনতে আসা নাসির উদ্দিন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, কোরবানি করার জন্য মাঝারি গরু খুঁজছি। এ বছর গরু প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাম বেশি মনে হচ্ছে। যেহেতু কোরবানি করতে হবে তাই বেশি দাম দিয়েই গরু কিনতে হবে।

কথা হয় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুহাটের প্রবীণ ব্যাপারী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, জেলার পশুহাট গুলোর মধ্যে আলমডাঙ্গার হাটে কোরবানির সময় সব থেকে বেশি গরু বিক্রির জন্য আসে। আজকের (বুধবার) হাটে যে পরিমান গরু উঠেছে তার সংখ্যা অনেক বেশি। কম করে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার বিভিন্ন বয়সী ও দামের গরু রয়েছে। সকাল থেকে চোখে পড়া সব থেকে বড় গরুটির মূল্য ধরা হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। তবে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম। আগামী বুধবার শেষ হাটে ক্রেতা ও বিক্রি দুটোই বাড়বে বলে আশা করছি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরিষাডাংগা গ্রামের খালেক শাহ জানান, তার খামারে পঞ্চাশের অধিক ছাগল রয়েছে। তবে তিনি দাম নিয়ে হতাশ। তাই হাটে নিয়ে ছাগল বিক্রি না করে আবার খামারে ফিরিতে এনেছেন। অনলাইন বাজার ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামের বাস করি। অনলাইন বাজার সম্পর্কে আমাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। আমাদের কেউ এ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়নি। তাই অনলাইনের ওপর ভরসা কম।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিহির কান্তি বিশ্বাস জানান, গরু লালন—পালন বাবদ খরচ কমিয়ে আনতে ও স্বাস্থ্যসম্মত গোশত উৎপাদনে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করতে সব খামারীকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উদ্বৃত্ত পশু বিক্রির জন্য অনলাইন বাজার ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

অনলাইনে পশু বেচাকেনার পদ্ধতি উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘অনলাইন পশুহাট’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। এখানে জেলার খামারীরা তাদের গরু—ছাগলের ছবি, বর্ণনা, সম্ভাব্য দাম, যোগাযোগের জন্য ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করছেন। তবে, ঈদের আগ মুহূর্তে অনলাইনভিত্তিক বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভারতের গরু যেন কোনোভাবেই আমাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। খামারিরা এবার কোরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন। এছাড়া মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত দুবছর লকডাউনে জেলার পশুহাটগুলো বন্ধ ছিল। এবছর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় হাটগুলোতে বেচাকেনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবছর লাভের মুখ দেখবেন খামারীরা। এছাড়া ফেরিঘাটে ভোগান্তি এড়াতে পদ্মা সেতু দিয়ে কোরবানির পশুবাহী পরিবহন রাজধানীর পশুহাটে নিতে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) শাহাদাত হোসেন জানান, করোনাকালীন সময়ে সংক

Tag :
জনপ্রিয়

প্রথম রাজধানী গ্রুপের অ্যাডমিন প্যানেলের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত দেড় লক্ষাধিক পশু, সাড়া নেই অনলাইন হাটে

Update Time : ১২:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ এক সপ্তাহ পরেই। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত। জমতে শুরু করেছে হাট । তবে ঈদের ঠিক দু—তিন আগে থেকে ক্রেতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছে ব্যাপারীরা। এদিকে, গরু, ছাগল বেচা—কেনার জন্য অনলাইন হাট ব্যবস্থা করোনাভাইরাস অতিমারির সময় চালু করে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সেই সময় ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে কোরবানির পশু বেচাকেনার বিষয়টি নতুন করে সামনে এলেও প্রযুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না থাকায় তাতেও আগ্রহ কম প্রান্তিক খামারীদের। সরকারি—বেসরকারি উদ্যোগে অনেকেই অনলাইনে ছবি পোস্ট করে এমনকি লাইভ ভিডিও দেখিয়ে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু করলেও সাড়া পড়েনি। করোনা অতিমারীর সময় অনলাইন বেচাকেনায় আশা জাগলে, তাতে আগ্রহ হারিয়েছে ক্রেতা—বিক্রেতারা।

অন্যদিকে, সারাবছর কসাইখানায় গরু বিক্রির সুযোগ থাকলেও ক্ষুদ্র খামারীদের লক্ষ্য থাকে কোরবানির হাটে বেশি লাভে পশু বিক্রি করার। বিশেষ করে যারা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একটি বা হাতেগোনা কয়েকটি গরু লালন—পালন করেন, তারা এই সময়ে উপযুক্ত দামে গরু বিক্রি করতে সারাবছর ধরে অপেক্ষা করেন। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এ জেলার খামারীরা। সাথে লোকসান তো আছেই। ধার—দেনায় মোটাতাজা করা গরুগুলোকে এখন বিক্রি করাই তাদের জন্য কঠিন কাজ হয়ে পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এ বছর জেলার চারটি উপজেলায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেড় লক্ষাধিক পশু লালন—পালন করেছেন প্রায় ১২ হাজার খামারী। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ৪৩ হাজার এবং ছাগল ও ৯৩ হাজার। স্থানীয় বাজারে ৭০ হাজারের মতো গরু, মহিষ ও ছাগলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ২০ হাজার এবং ছাগল ৫০ হাজার। আর উদ্বৃত্ত ২৩ হাজারের মতো গরু, মহিষ ও প্রায় ৫০ হাজার ছাগল ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেচাবিক্রি করবেন খামারীরা। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে খামারীদের লালন—পালন করা ১ লাখ ৩৮ হাজার পশুর দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৭শ কোটি টাকা।

আলমডাঙ্গা উপজেলার গরু খামারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে আমরা গরু লালন—পালন করে থাকি। গরু হৃষ্টপুষ্ট ও লালন—পালন করতে নিজেদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করা হয়। প্রস্তুত পশু বিক্রি করে আবার সেসব ঋণ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি পুরোটাই ভিন্ন। জেলায় সপ্তাহে চারটি বড় বড় পশুর হাট বসলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। ফলে বাধ্য হয়ে গরু ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার এক খামারী মামুন জানান, কোরবানির এই সময়ে জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রস্তুতকৃত পশু ঢাকা—চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। কিন্ত এবার সেসব এলাকায় হাটের বাজার খুবই মন্দা। দাম না পাওয়ায় পশুর হাটে তুলে আবার ফিরিয়ে আনার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

ডুগডুগি হাটে পশু কিনতে আসা শাহাবুল নামের এক ক্রেতা বলেন, প্রতিবছর খামার থেকে গরু কিনে থাকি। খামার থেকে গরু কিনলে সুবিধা রয়েছে। ঈদ পর্যন্ত গরু খামারে রাখা যায়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বাড়তি ঝামেলা পোয়াতে হয় না। তবে এ বছর গরুর দামটা একটু বেশি।
হাটে গরু কিনতে আসা নাসির উদ্দিন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, কোরবানি করার জন্য মাঝারি গরু খুঁজছি। এ বছর গরু প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাম বেশি মনে হচ্ছে। যেহেতু কোরবানি করতে হবে তাই বেশি দাম দিয়েই গরু কিনতে হবে।

কথা হয় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুহাটের প্রবীণ ব্যাপারী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, জেলার পশুহাট গুলোর মধ্যে আলমডাঙ্গার হাটে কোরবানির সময় সব থেকে বেশি গরু বিক্রির জন্য আসে। আজকের (বুধবার) হাটে যে পরিমান গরু উঠেছে তার সংখ্যা অনেক বেশি। কম করে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার বিভিন্ন বয়সী ও দামের গরু রয়েছে। সকাল থেকে চোখে পড়া সব থেকে বড় গরুটির মূল্য ধরা হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। তবে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম। আগামী বুধবার শেষ হাটে ক্রেতা ও বিক্রি দুটোই বাড়বে বলে আশা করছি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরিষাডাংগা গ্রামের খালেক শাহ জানান, তার খামারে পঞ্চাশের অধিক ছাগল রয়েছে। তবে তিনি দাম নিয়ে হতাশ। তাই হাটে নিয়ে ছাগল বিক্রি না করে আবার খামারে ফিরিতে এনেছেন। অনলাইন বাজার ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামের বাস করি। অনলাইন বাজার সম্পর্কে আমাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। আমাদের কেউ এ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়নি। তাই অনলাইনের ওপর ভরসা কম।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিহির কান্তি বিশ্বাস জানান, গরু লালন—পালন বাবদ খরচ কমিয়ে আনতে ও স্বাস্থ্যসম্মত গোশত উৎপাদনে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করতে সব খামারীকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উদ্বৃত্ত পশু বিক্রির জন্য অনলাইন বাজার ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

অনলাইনে পশু বেচাকেনার পদ্ধতি উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘অনলাইন পশুহাট’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। এখানে জেলার খামারীরা তাদের গরু—ছাগলের ছবি, বর্ণনা, সম্ভাব্য দাম, যোগাযোগের জন্য ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করছেন। তবে, ঈদের আগ মুহূর্তে অনলাইনভিত্তিক বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভারতের গরু যেন কোনোভাবেই আমাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। খামারিরা এবার কোরবানির পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন। এছাড়া মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত দুবছর লকডাউনে জেলার পশুহাটগুলো বন্ধ ছিল। এবছর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় হাটগুলোতে বেচাকেনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবছর লাভের মুখ দেখবেন খামারীরা। এছাড়া ফেরিঘাটে ভোগান্তি এড়াতে পদ্মা সেতু দিয়ে কোরবানির পশুবাহী পরিবহন রাজধানীর পশুহাটে নিতে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) শাহাদাত হোসেন জানান, করোনাকালীন সময়ে সংক