০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় ভেঙে গেল সেই দাদি-নাতির সংসার

  • Update Time : ০৭:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩
  • ৫৮ Time View

বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় ভেঙে গেল দাদি-নাতি সংসার। উভয়ের সম্মতিতে বিচ্ছেদ হয়েছে। তবে বিচ্ছেদের পর থেকে দাদি সামসুন্নাহার ঘর তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। নাতি মিরাজ নিজের বাড়িতেই আছেন। এদিকে তাদের বিচ্ছেদের খবরে খুশি এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়।

বুধবার বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার এলাকার বড় মসজিদের ইমাম আলেম মো. মুছা।

তিনি বলেন, দাদি-নাতির বিয়ে শরিয়তে জায়েজ নেই। মঙ্গলবার দাদি-নাতিকে নিয়ে স্থানীয় আলেম, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা বৈঠকে বসেন। এ সময় শরিয়তের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। আলেম, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের সামনে সংসার বিচ্ছেদ করে নিজেদের আলাদা বাড়িতে চলে যান দুজনই।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন, মো. শহিদ ও মো. ইলিয়াস জানান, ভোলায় গিয়ে বিয়ে করেন দাদি-নাতি। এ বিয়ে শরিয়তে সম্পূর্ণ অবৈধ। বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার তাদের বিচ্ছেদ হয়। এতে করে আমরা মনে করি এলাকা থেকে একটি পাপ দূর হয়েছে। কারণ তাদের সংসার যদি বেশি দিন থাকতো তাহলে আরও অনেক দাদি-নাতি এমন ভুল করে ফেলতেন।

মিরাজের বাবা মো. জসিম মাঝি বলেন, মঙ্গলবার আমরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসি। পরে উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে ভোলা পৌর শহরে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করেন দাদি সামসুন্নাহার ও নাতি মিরাজ। দাদি-নাতির ওই বিয়েতে দেনমোহর ঠিক হয় ৭ লাখ টাকা। পরে ওই দিনই তারা ভোলাতেই একটি কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর দুজনই গ্রামের বাড়িতে ফিরে এলে মিরাজের পরিবার তা মেনে নেয়নি। কারণ সামসুন্নাহার মিরাজের আপন দাদা শাহে আলম ব্যাপারীর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দাদার মৃত্যুর পর তিন সন্তানের জননী সামসুন্নাহারের দেখাশোনা করেন মিরাজ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তাদের বিয়ের পর থেকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়

Tag :
জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ ২০২৪ এর উদ্বোধন

বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় ভেঙে গেল সেই দাদি-নাতির সংসার

Update Time : ০৭:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় ভেঙে গেল দাদি-নাতি সংসার। উভয়ের সম্মতিতে বিচ্ছেদ হয়েছে। তবে বিচ্ছেদের পর থেকে দাদি সামসুন্নাহার ঘর তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। নাতি মিরাজ নিজের বাড়িতেই আছেন। এদিকে তাদের বিচ্ছেদের খবরে খুশি এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায়।

বুধবার বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার এলাকার বড় মসজিদের ইমাম আলেম মো. মুছা।

তিনি বলেন, দাদি-নাতির বিয়ে শরিয়তে জায়েজ নেই। মঙ্গলবার দাদি-নাতিকে নিয়ে স্থানীয় আলেম, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা বৈঠকে বসেন। এ সময় শরিয়তের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। আলেম, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের সামনে সংসার বিচ্ছেদ করে নিজেদের আলাদা বাড়িতে চলে যান দুজনই।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন, মো. শহিদ ও মো. ইলিয়াস জানান, ভোলায় গিয়ে বিয়ে করেন দাদি-নাতি। এ বিয়ে শরিয়তে সম্পূর্ণ অবৈধ। বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার তাদের বিচ্ছেদ হয়। এতে করে আমরা মনে করি এলাকা থেকে একটি পাপ দূর হয়েছে। কারণ তাদের সংসার যদি বেশি দিন থাকতো তাহলে আরও অনেক দাদি-নাতি এমন ভুল করে ফেলতেন।

মিরাজের বাবা মো. জসিম মাঝি বলেন, মঙ্গলবার আমরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসি। পরে উভয়ের সম্মতিতে বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে ভোলা পৌর শহরে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করেন দাদি সামসুন্নাহার ও নাতি মিরাজ। দাদি-নাতির ওই বিয়েতে দেনমোহর ঠিক হয় ৭ লাখ টাকা। পরে ওই দিনই তারা ভোলাতেই একটি কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর দুজনই গ্রামের বাড়িতে ফিরে এলে মিরাজের পরিবার তা মেনে নেয়নি। কারণ সামসুন্নাহার মিরাজের আপন দাদা শাহে আলম ব্যাপারীর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে দাদার মৃত্যুর পর তিন সন্তানের জননী সামসুন্নাহারের দেখাশোনা করেন মিরাজ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তাদের বিয়ের পর থেকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়