১২:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্রের লিঙ্গ পরিবর্তন করে বিয়ে, ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক

  • Update Time : ০৬:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩
  • ৪৬ Time View

ফেনী সরকারি কলেজের অনার্স ২০১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। ফেসবুকে নুর নবী জুলফিকার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় তার। সেখান থেকে সম্পর্ক গড়ায় বন্ধুত্বে। একপর্যায়ে আমিনুলের প্রতি আসক্ত হন জুলফিকার। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ভারত নিয়ে অস্ত্রোপচার করে আমিনুলের লিঙ্গ পরিবর্তন করেন জুলফিকার। পরে আমিরুলের নাম রাখা হয় বিবি কুলসুম (ছদ্মনাম)। এরপর বিয়ে-সংসার। তাদের সংসারে রয়েছে এক কন্যা সন্তান। হঠাৎ কুলসুমের প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দেন জুলফিকার।

জুলফিকার ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সেকান্দরপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা আর কুলসুমের বাড়ি পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।

জানা যায়, উপকূল নার্সিং হোম কলকাতায় দুইবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমিনুলের লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়। সেখান থেকে ফিরে ২০১৮ সালে ২৭ জুন নোয়াখালীর জুডিসিয়াল আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তার নাম রাখা হয় কুলসুম। ২০১৯ সালের ১৪ জুন ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেন জুলফিকার। এরপর তাকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে সহায়তার জন্য আবেদন করেন তার স্বামী।

দাগনভূঞা আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের মিয়াজী মেডিকেল হলের ব্যবসা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রাপ্ত সহায়তা, ব্যাংক ঋণ, জায়গা বিক্রিসহ কুলসুমের প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক স্বামী। পরে কুলসুমের চিকিৎসা খরচ বাবদ এ টাকা খরচ হয়েছে বলে দিতে অস্বীকৃতি জানান জুলফিকার। একপর্যায়ে তাকে তালাক দিলেও পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে রামনগর ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠকে দেনমোহর ছাড়া বাকি টাকা দিতে নারাজ জুলফিকার। পরে প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ ও মারধরের অভিযোগ এনে দাগনভূঞা থানা ও আদালতে একাধিক মামলা করেন কুলসুম।

বিবি কুলসুম জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে বিয়ে করেন জুলফিকার। তাদের সংসারে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাকে কখনো ছেড়ে যাবে না মর্মে অঙ্গিকার করলেও তালাক দিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন স্বামী জুলফিকার।

তিনি আরো বলেন, আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়েছেন জুলফিকার। এখন দেনমোহর ছাড়া হাতিয়ে নেয়া টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। আমি প্রতারক স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, এ ধরনের সালিশ তিনি অতীতে শুনেননি। সালিশের রায় মেনে নেয়ার অঙ্গিকার করলেও পরে কাবিনের টাকা ছাড়া আর কোনো দাবি মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন জুলফিকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি অমিমাংসিত থেকে যায়

Tag :
জনপ্রিয়

পান বরজে আগুন, পুড়ে শেষ হলো কৃষকের স্বপ্ন

ছাত্রের লিঙ্গ পরিবর্তন করে বিয়ে, ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক

Update Time : ০৬:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩

ফেনী সরকারি কলেজের অনার্স ২০১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। ফেসবুকে নুর নবী জুলফিকার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় তার। সেখান থেকে সম্পর্ক গড়ায় বন্ধুত্বে। একপর্যায়ে আমিনুলের প্রতি আসক্ত হন জুলফিকার। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ভারত নিয়ে অস্ত্রোপচার করে আমিনুলের লিঙ্গ পরিবর্তন করেন জুলফিকার। পরে আমিরুলের নাম রাখা হয় বিবি কুলসুম (ছদ্মনাম)। এরপর বিয়ে-সংসার। তাদের সংসারে রয়েছে এক কন্যা সন্তান। হঠাৎ কুলসুমের প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দেন জুলফিকার।

জুলফিকার ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সেকান্দরপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা আর কুলসুমের বাড়ি পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।

জানা যায়, উপকূল নার্সিং হোম কলকাতায় দুইবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমিনুলের লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়। সেখান থেকে ফিরে ২০১৮ সালে ২৭ জুন নোয়াখালীর জুডিসিয়াল আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তার নাম রাখা হয় কুলসুম। ২০১৯ সালের ১৪ জুন ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেন জুলফিকার। এরপর তাকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে সহায়তার জন্য আবেদন করেন তার স্বামী।

দাগনভূঞা আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের মিয়াজী মেডিকেল হলের ব্যবসা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রাপ্ত সহায়তা, ব্যাংক ঋণ, জায়গা বিক্রিসহ কুলসুমের প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক স্বামী। পরে কুলসুমের চিকিৎসা খরচ বাবদ এ টাকা খরচ হয়েছে বলে দিতে অস্বীকৃতি জানান জুলফিকার। একপর্যায়ে তাকে তালাক দিলেও পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে রামনগর ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠকে দেনমোহর ছাড়া বাকি টাকা দিতে নারাজ জুলফিকার। পরে প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ ও মারধরের অভিযোগ এনে দাগনভূঞা থানা ও আদালতে একাধিক মামলা করেন কুলসুম।

বিবি কুলসুম জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে বিয়ে করেন জুলফিকার। তাদের সংসারে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাকে কখনো ছেড়ে যাবে না মর্মে অঙ্গিকার করলেও তালাক দিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন স্বামী জুলফিকার।

তিনি আরো বলেন, আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়েছেন জুলফিকার। এখন দেনমোহর ছাড়া হাতিয়ে নেয়া টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। আমি প্রতারক স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, এ ধরনের সালিশ তিনি অতীতে শুনেননি। সালিশের রায় মেনে নেয়ার অঙ্গিকার করলেও পরে কাবিনের টাকা ছাড়া আর কোনো দাবি মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন জুলফিকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি অমিমাংসিত থেকে যায়