১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গত ১৪ দিনে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তাপমাত্রা রেকর্ড

  • Update Time : ০৩:২৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩
  • ৫০ Time View

 

গত ১৪ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যহত রয়েছে। গরমে সাধারণ মানুষ ও প্রাণিকূল কাহিল। অতিরিক্ত গরমের কারণে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি একবারেই কম।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৯ বছর আগের রেকর্ড এ মৌসুমে ভেঙে যেতে পারে চলতি তাপপ্রবাহে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা জেলায় টানা রেকর্ড করা হয়। তাপপ্রবাহে পুড়ছে জেলা। সূর্যের প্রখরতায় সব কিছু যেন থমকে দাঁড়াচ্ছে। শনিবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার দুপুরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে মানুষের উপস্থিতি একদম কম। সূর্যের প্রখরতার কারণে বাইরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ছাতা মাথায় দিয়ে প্রয়োজনে চলাচল করছে মানুষ। গরম থেকে রক্ষা পেতে ছায়া যুক্ত স্থানে বসে থাকছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ।

ভ্যানচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, গরমে রাস্তায় থাকা যাচ্ছে না। ভাড়াও নেই। অতিরিক্ত গরমের কারণে রাস্তায় মানুষ নেই।

হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর বলেন, গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এসব রোগ নিয়েই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে তারা। শিশুকে ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া যাবে না। টাটকা খাবার খাওয়াতে এবং ফ্যানের নিচে রাখতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, তাপ্রবাহ কম হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই। প্রতিদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। নতুন রেকর্ড হচ্ছে তাপমাত্রার। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল শুক্রবারের চেয়ে আজকে দুপুরে তাপমাত্রা বেড়েছে। বৃষ্টির কোন সম্ভবনা নেই। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে না। তাপমাত্রা আজকে ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তাপমাত্রা যদি ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে তাকে বলা হয়, মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তা হয় তীব্র তাপপ্রবাহ। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে তা হয় চরম তাপপ্রবাহ। এ হিসাবে চুয়াডাঙ্গায় এখন তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল (৩৫. ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৪ এপ্রিল (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৫ এপ্রিল (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৬ এপ্রিল (৩৭. ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৭ এপ্রিল (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৮ এপ্রিল (৩৮. ৫), ৯ এপ্রিল (৩৯.০০) ১০ এপ্রিল (৩৯. ২ ডিগ্রি) ১১ এপ্রিল (৩৯. ৬), ১২ এপ্রিল (৩৯. ৭ ডিগ্রি) ১৩ এপ্রিল (৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ১৪ এপ্রিল (৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ।

Tag :
জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ফ্রি হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ চলমান

গত ১৪ দিনে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তাপমাত্রা রেকর্ড

Update Time : ০৩:২৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৩

 

গত ১৪ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যহত রয়েছে। গরমে সাধারণ মানুষ ও প্রাণিকূল কাহিল। অতিরিক্ত গরমের কারণে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি একবারেই কম।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৯ বছর আগের রেকর্ড এ মৌসুমে ভেঙে যেতে পারে চলতি তাপপ্রবাহে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা জেলায় টানা রেকর্ড করা হয়। তাপপ্রবাহে পুড়ছে জেলা। সূর্যের প্রখরতায় সব কিছু যেন থমকে দাঁড়াচ্ছে। শনিবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার দুপুরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে মানুষের উপস্থিতি একদম কম। সূর্যের প্রখরতার কারণে বাইরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ছাতা মাথায় দিয়ে প্রয়োজনে চলাচল করছে মানুষ। গরম থেকে রক্ষা পেতে ছায়া যুক্ত স্থানে বসে থাকছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ।

ভ্যানচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, গরমে রাস্তায় থাকা যাচ্ছে না। ভাড়াও নেই। অতিরিক্ত গরমের কারণে রাস্তায় মানুষ নেই।

হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর বলেন, গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এসব রোগ নিয়েই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে তারা। শিশুকে ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া যাবে না। টাটকা খাবার খাওয়াতে এবং ফ্যানের নিচে রাখতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, তাপ্রবাহ কম হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই। প্রতিদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। নতুন রেকর্ড হচ্ছে তাপমাত্রার। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল শুক্রবারের চেয়ে আজকে দুপুরে তাপমাত্রা বেড়েছে। বৃষ্টির কোন সম্ভবনা নেই। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া স্বাভাবিক হবে না। তাপমাত্রা আজকে ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তাপমাত্রা যদি ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে তাকে বলা হয়, মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তা হয় তীব্র তাপপ্রবাহ। ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে তা হয় চরম তাপপ্রবাহ। এ হিসাবে চুয়াডাঙ্গায় এখন তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল (৩৫. ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৪ এপ্রিল (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৫ এপ্রিল (৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৬ এপ্রিল (৩৭. ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৭ এপ্রিল (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ৮ এপ্রিল (৩৮. ৫), ৯ এপ্রিল (৩৯.০০) ১০ এপ্রিল (৩৯. ২ ডিগ্রি) ১১ এপ্রিল (৩৯. ৬), ১২ এপ্রিল (৩৯. ৭ ডিগ্রি) ১৩ এপ্রিল (৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস), ১৪ এপ্রিল (৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ।