০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় পদ্মা-৫৫ ভুট্টা চাষে কৃষকের মুখে হাসি

  • MD Abdulla Haq
  • Update Time : ১১:০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩
  • ৫৫ Time View

 

শিমুল রেজা:
চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রত্যন্ত এলাকার জমিতে শুধু পদ্মা -৫৫ ভুট্ট আর ভুট্টার আবাদ। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত, এক ইঞ্চি জমি পতিত না রেখে চাষাবাদে ভাগ্য খুলেছে জেলার কৃষকদের। এক সময় যে সমস্ত জমি পতিত পড়ে থাকতো সেসব জমিতে এখন পদ্মা-৫৫ ভুট্টা চাষ করে কৃষক-কৃষাণীর মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষিবিভাগ বলছে, প্রতিনিয়ত সার, কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার প্রত্যেকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা-৫৫ ভুট্টা তুলতে কৃষক-কৃষাণী ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা যায়, জেলার কার্পাসডাঙ্গা, মুক্তারপুর , জুড়ানপুর , বাঙ্গাডাঙ্গা , কুড়ুলগাছি , নাটুদা, চন্দ্রবাস, কানাইডাঙ্গা, চিৎলা গোবিন্দা, মদনা পারকৃষ্ণপুর মদনা’য় বিস্তৃত এলাকায় ১৪ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ হাজার ৪৬৩ হেক্টর বেশি।

চাষিরা বলছেন, এক সময় জেলার কিছু এলাকায় ভুট্টা চাষ হলেও এখন সব জায়গায় হচ্ছে। অন্য ফসলের চেয়ে ঝামেলা কম থাকায় সবাই ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। বিঘাপ্রতি জমিতে ৮ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা খরচ করে ভুট্টার ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৪৫-৫০ মণ। দামও ভালো।

চাষি বিপুল বলেন, বিস্তীর্ণ পলি মাটির জমিতে যে দিকে তাকাই শুধু ভুট্টা আর ভুট্টার নাকড়ি পড়ে আছে। কেউ ভুট্টার থোর গাছ থেকে তুলে জড়ো করছেন। আবার কেউ কেউ একত্র করছেন। কোনো কোনো কৃষক আবার মেশিনে মাড়াই করছেন। মাড়াই করা ভুট্টা কৃষাণীরা নেটের (প্লাস্টিকের তৈরি জাল) ওপর শুকাচ্ছেন। আবার কেউ পাইকারদের সঙ্গে দাম মিটিয়ে ওজন করে বস্তায় ভরছেন। বাংলার অপরূপ এ দৃশ্য দেখে সত্যিই প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

কৃষক মোমিন বলেন, ভুট্টা চাষে অনেক লাভ। প্রতিবিঘা জমিতে খুব বেশি হলে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ মণ থেকে শুরু করে ৫০ মণ পর্যন্তও হয়েছে। তাতে দেখা যায়, চার ভাগের তিন ভাগই লাভ।

কৃষক আব্দুল বারেক ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনিই এলাকার সেরা চাষি। বিঘাতে তার ফলন হচ্ছে ৫০ মণ হারে। ৫ বিঘা জমিতে সবমিলিয়ে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি এবার ৫ বিঘা জমি থেকে আড়াই শত মণ পদ্মা -৫৫ ভুট্টা পেয়েছেন। খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে জানান তিনি।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান,যেসব জমিতে আগে এ মৌসুমে মসুর ডাল, আখ, তিল আর খেসারি হতো, এখন সেখানে ভুট্টার একক কর্তৃত্ব বিরাজ করছে, আরও বলেন আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভুট্টার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। চলতি বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকদের ভুট্টার দিকে যত্মবান হওয়ার জন্য কৃষি কমকর্তারা সব সময় নিয়োজিত আছেন।

Tag :
About Author Information

MD Abdulla Haq

চুয়াডাঙ্গায় প্রায় কোটি টাকার স্বর্ণসহ দর্শনার তাছলিমা আটক

দামুড়হুদায় পদ্মা-৫৫ ভুট্টা চাষে কৃষকের মুখে হাসি

Update Time : ১১:০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩

 

শিমুল রেজা:
চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রত্যন্ত এলাকার জমিতে শুধু পদ্মা -৫৫ ভুট্ট আর ভুট্টার আবাদ। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত, এক ইঞ্চি জমি পতিত না রেখে চাষাবাদে ভাগ্য খুলেছে জেলার কৃষকদের। এক সময় যে সমস্ত জমি পতিত পড়ে থাকতো সেসব জমিতে এখন পদ্মা-৫৫ ভুট্টা চাষ করে কৃষক-কৃষাণীর মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষিবিভাগ বলছে, প্রতিনিয়ত সার, কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার প্রত্যেকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা-৫৫ ভুট্টা তুলতে কৃষক-কৃষাণী ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা যায়, জেলার কার্পাসডাঙ্গা, মুক্তারপুর , জুড়ানপুর , বাঙ্গাডাঙ্গা , কুড়ুলগাছি , নাটুদা, চন্দ্রবাস, কানাইডাঙ্গা, চিৎলা গোবিন্দা, মদনা পারকৃষ্ণপুর মদনা’য় বিস্তৃত এলাকায় ১৪ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ হাজার ৪৬৩ হেক্টর বেশি।

চাষিরা বলছেন, এক সময় জেলার কিছু এলাকায় ভুট্টা চাষ হলেও এখন সব জায়গায় হচ্ছে। অন্য ফসলের চেয়ে ঝামেলা কম থাকায় সবাই ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। বিঘাপ্রতি জমিতে ৮ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা খরচ করে ভুট্টার ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৪৫-৫০ মণ। দামও ভালো।

চাষি বিপুল বলেন, বিস্তীর্ণ পলি মাটির জমিতে যে দিকে তাকাই শুধু ভুট্টা আর ভুট্টার নাকড়ি পড়ে আছে। কেউ ভুট্টার থোর গাছ থেকে তুলে জড়ো করছেন। আবার কেউ কেউ একত্র করছেন। কোনো কোনো কৃষক আবার মেশিনে মাড়াই করছেন। মাড়াই করা ভুট্টা কৃষাণীরা নেটের (প্লাস্টিকের তৈরি জাল) ওপর শুকাচ্ছেন। আবার কেউ পাইকারদের সঙ্গে দাম মিটিয়ে ওজন করে বস্তায় ভরছেন। বাংলার অপরূপ এ দৃশ্য দেখে সত্যিই প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

কৃষক মোমিন বলেন, ভুট্টা চাষে অনেক লাভ। প্রতিবিঘা জমিতে খুব বেশি হলে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ মণ থেকে শুরু করে ৫০ মণ পর্যন্তও হয়েছে। তাতে দেখা যায়, চার ভাগের তিন ভাগই লাভ।

কৃষক আব্দুল বারেক ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনিই এলাকার সেরা চাষি। বিঘাতে তার ফলন হচ্ছে ৫০ মণ হারে। ৫ বিঘা জমিতে সবমিলিয়ে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি এবার ৫ বিঘা জমি থেকে আড়াই শত মণ পদ্মা -৫৫ ভুট্টা পেয়েছেন। খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে বলে জানান তিনি।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান,যেসব জমিতে আগে এ মৌসুমে মসুর ডাল, আখ, তিল আর খেসারি হতো, এখন সেখানে ভুট্টার একক কর্তৃত্ব বিরাজ করছে, আরও বলেন আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভুট্টার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। চলতি বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকদের ভুট্টার দিকে যত্মবান হওয়ার জন্য কৃষি কমকর্তারা সব সময় নিয়োজিত আছেন।