০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর রানীনগরে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন

  • Update Time : ০৮:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১
  • ৭১ Time View

 

মোঃ আব্দুল মালেক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সরকার ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন। লকডাউনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও উপজেলা জুড়ে ঢিলেঢালা চলেছে লকডাউন। মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেকে। যেন স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ শুধু উপজেলার সদরে কঠোর লকডাউন চললেও প্রশাসনের উদাশীনতায় উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তা মানা হচ্ছে না।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউনের প্রথম দিন বুধবার সকাল থেকেই উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট আবাদপুকুর হাট জমজমাট ভাবে চলেছে। হাটে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিলোনা মাস্ক এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। এছাড়াও লকডাউনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও উপজেলার সদরসহ অধিকাংশ বাজার গুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। বাজার গুলোতে যেন স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। স্বাভাবিক মতো চলাফেরা চলতে দেখা গেছে মানুষের। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দোকান ব্যতীত সদর বাজারে সকল শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ দেখা গেলেও দোকান মালিকগণ ও কর্মচারীরা নিজ নিজ দোকানের পাশে বসে চুপিসারে করছে কেনাবেচা। এছাড়া উপজেলার অধিকাংশ বাজারে খোলা ছিলো সকল শপিংমল ও দোকানপাট। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কেনাবেচা চলেছে। প্রয়োজন ছাড়াই বাজার গুলোতে মাস্কবিহীন মানুষের চলাফেরা ও রাস্তায় ভ্যান, অটোরিকশা, সিএজি ও ট্যাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন চলতে দেখা গেছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর উপজেলায় তিনজন করোনা শনাক্ত রোগী রয়েছে। তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এদিকে এই উপজেলায় এমন ঢিলেঢালা লকডাউন চলাই ও বাজার গুলোতে মাস্কবিহীন মানুষের চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানাই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরার অশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

 

বাজারে আসা বেশকিছু মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, করোনার কারণে কাজ করতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়েছি। সেই ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছি। আবার লকডাউন, কাজ না করলে খাবার দেবে কে? তাই জীবনের প্রয়োজনে বাহিরে বের হতে বাধ্য হয়েছি।

 

বেশকিছু দোকানদারদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া আছে। ব্যবসা না করতে পারলে কিস্তির টাকা দিবো কোথাই থেকে। এছাড়া আমাদেরতো পরিবারও আছে। তাই জীবিকার তাগিতে এভাবেই চুপিসারে ব্যবসা করতে হচ্ছে।

 

রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ বলেন, সরকারি নিদের্শনা বাস্তবায়নে পুলিশ সব সময় মাঠে রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া লকডাউনে বের হওয়া মানুষদের নিষেধ করাসহ সরকারী নিদের্শনা মেনে চলতে বলা হচ্ছে। আর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন মাঠে আছে। প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে বের হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া মানুষদের নিষেধ করা হচ্ছে। ইউএনও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যহত রেখেছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যাবে।

Tag :
জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ ২০২৪ এর উদ্বোধন

নওগাঁর রানীনগরে চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন

Update Time : ০৮:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১

 

মোঃ আব্দুল মালেক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সরকার ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন। লকডাউনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও উপজেলা জুড়ে ঢিলেঢালা চলেছে লকডাউন। মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেকে। যেন স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ শুধু উপজেলার সদরে কঠোর লকডাউন চললেও প্রশাসনের উদাশীনতায় উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তা মানা হচ্ছে না।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউনের প্রথম দিন বুধবার সকাল থেকেই উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট আবাদপুকুর হাট জমজমাট ভাবে চলেছে। হাটে আসা অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিলোনা মাস্ক এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। এছাড়াও লকডাউনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও উপজেলার সদরসহ অধিকাংশ বাজার গুলোতে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। বাজার গুলোতে যেন স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। স্বাভাবিক মতো চলাফেরা চলতে দেখা গেছে মানুষের। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দোকান ব্যতীত সদর বাজারে সকল শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ দেখা গেলেও দোকান মালিকগণ ও কর্মচারীরা নিজ নিজ দোকানের পাশে বসে চুপিসারে করছে কেনাবেচা। এছাড়া উপজেলার অধিকাংশ বাজারে খোলা ছিলো সকল শপিংমল ও দোকানপাট। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কেনাবেচা চলেছে। প্রয়োজন ছাড়াই বাজার গুলোতে মাস্কবিহীন মানুষের চলাফেরা ও রাস্তায় ভ্যান, অটোরিকশা, সিএজি ও ট্যাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহন চলতে দেখা গেছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রাণীনগর উপজেলায় তিনজন করোনা শনাক্ত রোগী রয়েছে। তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এদিকে এই উপজেলায় এমন ঢিলেঢালা লকডাউন চলাই ও বাজার গুলোতে মাস্কবিহীন মানুষের চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানাই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরার অশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

 

বাজারে আসা বেশকিছু মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, করোনার কারণে কাজ করতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়েছি। সেই ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছি। আবার লকডাউন, কাজ না করলে খাবার দেবে কে? তাই জীবনের প্রয়োজনে বাহিরে বের হতে বাধ্য হয়েছি।

 

বেশকিছু দোকানদারদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া আছে। ব্যবসা না করতে পারলে কিস্তির টাকা দিবো কোথাই থেকে। এছাড়া আমাদেরতো পরিবারও আছে। তাই জীবিকার তাগিতে এভাবেই চুপিসারে ব্যবসা করতে হচ্ছে।

 

রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ বলেন, সরকারি নিদের্শনা বাস্তবায়নে পুলিশ সব সময় মাঠে রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া লকডাউনে বের হওয়া মানুষদের নিষেধ করাসহ সরকারী নিদের্শনা মেনে চলতে বলা হচ্ছে। আর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন মাঠে আছে। প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে বের হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া মানুষদের নিষেধ করা হচ্ছে। ইউএনও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যহত রেখেছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যাবে।