১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার বেগমপুরে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে পুকুর খনন, মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়

  • Update Time : ০৮:৩১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১
  • ৫৩ Time View

 

 

শিমুল রেজাঃ জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা লংঘন করে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে চলছে বেগমপুর অবৈধ ভাবে  ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ফুরসেদপুর গ্রামেন মৃত মস্তবারি মন্ডলের ছেলে রেজাউল হক কিনা ও তার ভাই গনি আলীর বিরুদ্ধে। নির্বিঘ্নে ফসলি উর্বর কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের নামে ব্যাপক হারে মাটি উত্তোলন করছে। ফলে এলাকার সাধারণ জমির মালিকেরা চরমভাবে হতাশ। ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পর তা পরিবহনের জন্য পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই যন্ত্রদানব ট্রাক্টর চলাচল করার কারণে রাস্তায় মাটি পড়ে তা অন্যান্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আর সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ। এতে দিন দিন কমে আসছে আবাদি জমি। বিশেষ করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করায় খাদ্য ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। বেগমপুর ইউনিয়ন থেকে সবজি চাষ খ্যাত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা, সবজির পাশাপাশি সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। বছরের প্রায় সব সময় পাওয়া যায় সবজি। জেলার অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে সবজি চাষ। তবে আশঙ্কাজনকহারে আবাদি জমিতে পুকুর খননের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

 

 

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,  প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসাধু মাটিখোর ব্যবসায়ী রেজাউল হক কিনা, প্রত্যেক দিন ২০০ থেকে ২৫০ গাড়ি মাটি উত্তোলন করে সেই মাটি ট্রাক্টর দিয়ে বহন করে নেওয়া হচ্ছে আশেপাশের বিভিন্ন ভাটায়। মাটি কাটার কারণে আমাদের ফসলি জমিগুলো বিনষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া মাটি বহনের সময় যে পরিমান ধুলো উড়ছে তাতে করে রাস্তাতে চলাচল করা খুবই মুশকিল হয়ে পড়ছে। রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ধুলোতে যেমন নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের পরিবেশ আবার ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে আমাদের জমিসহ আশেপাশের জমি ভেঙ্গে যাবে জানান,

 

 

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়নের ফুরসেদপুর গ্রামের ৫ বিঘা ফসলি জমির মাটি কেটে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাটিখোর অসাধু ব্যবসায়ী  রেজাউল হক কিনা, এলাকায় যেন পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। কৃষকরা না বুঝে যেমন হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে লাখ লাখ টাকা আয় করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী রেজাউল হক কিনা।অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি দৈনিক জাগো দেশকে জানান, বাঙালি নদী ও ফসলি জমি রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশ কেউ এগিয়ে আসতে হব। বিশেষ করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কেননা নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন করা দণ্ডণীয় অপরাধ। আর বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করলে সে যেই হোক না কেনো তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।এদিকে দ্রত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলার নির্বাহী  অফিসার সাদিকুর  রহমান আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী সহ সচেতন মহল

Tag :
জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ফ্রি হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ চলমান

চুয়াডাঙ্গার বেগমপুরে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে পুকুর খনন, মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়

Update Time : ০৮:৩১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১

 

 

শিমুল রেজাঃ জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা লংঘন করে প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে চলছে বেগমপুর অবৈধ ভাবে  ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ফুরসেদপুর গ্রামেন মৃত মস্তবারি মন্ডলের ছেলে রেজাউল হক কিনা ও তার ভাই গনি আলীর বিরুদ্ধে। নির্বিঘ্নে ফসলি উর্বর কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের নামে ব্যাপক হারে মাটি উত্তোলন করছে। ফলে এলাকার সাধারণ জমির মালিকেরা চরমভাবে হতাশ। ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পর তা পরিবহনের জন্য পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই যন্ত্রদানব ট্রাক্টর চলাচল করার কারণে রাস্তায় মাটি পড়ে তা অন্যান্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আর সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ। এতে দিন দিন কমে আসছে আবাদি জমি। বিশেষ করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করায় খাদ্য ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। বেগমপুর ইউনিয়ন থেকে সবজি চাষ খ্যাত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা, সবজির পাশাপাশি সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। বছরের প্রায় সব সময় পাওয়া যায় সবজি। জেলার অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে সবজি চাষ। তবে আশঙ্কাজনকহারে আবাদি জমিতে পুকুর খননের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

 

 

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,  প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসাধু মাটিখোর ব্যবসায়ী রেজাউল হক কিনা, প্রত্যেক দিন ২০০ থেকে ২৫০ গাড়ি মাটি উত্তোলন করে সেই মাটি ট্রাক্টর দিয়ে বহন করে নেওয়া হচ্ছে আশেপাশের বিভিন্ন ভাটায়। মাটি কাটার কারণে আমাদের ফসলি জমিগুলো বিনষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া মাটি বহনের সময় যে পরিমান ধুলো উড়ছে তাতে করে রাস্তাতে চলাচল করা খুবই মুশকিল হয়ে পড়ছে। রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ধুলোতে যেমন নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের পরিবেশ আবার ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে আমাদের জমিসহ আশেপাশের জমি ভেঙ্গে যাবে জানান,

 

 

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়নের ফুরসেদপুর গ্রামের ৫ বিঘা ফসলি জমির মাটি কেটে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাটিখোর অসাধু ব্যবসায়ী  রেজাউল হক কিনা, এলাকায় যেন পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। কৃষকরা না বুঝে যেমন হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে লাখ লাখ টাকা আয় করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী রেজাউল হক কিনা।অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি দৈনিক জাগো দেশকে জানান, বাঙালি নদী ও ফসলি জমি রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশ কেউ এগিয়ে আসতে হব। বিশেষ করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কেননা নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন করা দণ্ডণীয় অপরাধ। আর বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করলে সে যেই হোক না কেনো তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।এদিকে দ্রত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বন্ধের দাবিতে সদর উপজেলার নির্বাহী  অফিসার সাদিকুর  রহমান আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী সহ সচেতন মহল