"৩ বছরের শিশুর পাহারায় অসহায় বাবা"— স্থানীয় পত্রিকায় এমন হৃদয়স্পর্শী সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন।
আলমডাঙ্গা অফিসঃ আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামের ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত শহিদুলের অসহায় জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনুর আক্তার-এর। মানবিক বিবেচনায় তিনি শহিদুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চাল, শুকনা খাবার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন তার স্ত্রীর হাতে।
ঈদকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আলমডাঙ্গা শাখার ঈদ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উঠে এসেছিল অসহায় শহিদুলের হৃদয়বিদারক জীবনকাহিনি।
জানা যায়, শহিদুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারানোর পর চরম দুর্দশায় পড়ে তার পরিবার। অভাব-অনটনের সংসারে চিকিৎসা ব্যয় বহন তো দূরের কথা, দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করাও হয়ে ওঠে কঠিন। একটি ছোট্ট চালাঘরে অরক্ষিত অবস্থায় বসবাস করা পরিবারটির রাত কাটে নানা আতঙ্কে।
সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় মানুষের মাঝেও ব্যাপক সহানুভূতি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অসুস্থ বাবার শয্যার পাশে ৩ বছরের কন্যা সন্তানের পাহারা দেওয়ার দৃশ্য এবং ১০ বছরের ছেলেটির অসহায়ত্ব অনেকের হৃদয় স্পর্শ করে।
এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই মানবিক উদ্যোগ পরিবারটির মাঝে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। শহিদুলের স্ত্রী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম আমাদের কষ্ট কেউ দেখবে না। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও ম্যাডাম আমাদের খোঁজ নিয়েছেন, সাহায্য করেছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।"
স্থানীয়রা মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিরাও যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে শহিদুলের চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ