মেহেরপুরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাস ও এফটি সাইফুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তামাক ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় তামাক চাষিদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমেও একটি চক্র গড়ে তুলে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তামাক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে নিম্নমানের তামাক ফাঁকা কার্ডের মাধ্যমে ক্রয় করে কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভোমরদহ গ্রামের ফিল্ড অফিসার জুয়েল রানার সামনেই অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির নিয়ম ভেঙে বাইরে তামাক কালার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ নেওয়ার কারণেই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন চাষিরা।
তামাক চাষিদের ভাষ্য, গাংনী উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কার্ডধারী কয়েকজন ব্যবসায়ী—রবিউল ইসলাম, রহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম কাজল, সুজন ও সুমনের মাধ্যমে গত মৌসুমে হাজার হাজার বেল নিম্নমানের তামাক বিক্রি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাস ও এফটি সাইফুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন তারা।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, সাধারণ চাষিদের কার্ড ব্যবহার করে এক শতাংশ কমিশনের ভিত্তিতে এসব ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ তামাক বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কয়েকটি কার্ড ব্যবহার করে এ ধরনের ব্যবসা চালিয়ে আসছে একটি চক্র।
এছাড়া ভোমরদহ গ্রামের ফিল্ড অফিসার জুয়েল রানা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ সংগ্রহ করে এফটি সাইফুল ইসলামের কাছে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই অর্থ লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাস, এফটি সাইফুল ইসলাম ও কয়েকজন ফিল্ড অফিসারের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয় বলেও দাবি করেন স্থানীয় কৃষকরা।
তাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুরোনো তামাক রাতের আঁধারে কিনে কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করছে।
এদিকে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় নওপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ জন প্রকৃত তামাক চাষির কার্ড অবৈধভাবে বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ তালিকায় রহিমা খাতুন, ইমন আলী, সুমন আলী, আব্দুর রহমান, দীন মোহাম্মদ, ওলি মোহাম্মদ, মরজেম, মিলন, বাকিরুল, সাইফুল, খাইরুল, মাহাবুল, রাহান, বিপ্লব শেখ, জানবাশ, তুহিন, জিহাদ, শাহাবুদ্দিন, আমিরুল, সাহারুল, আমজাদ, কাউসার, সরোয়ার, আবুল বাশার, হিমেল, ইয়ারুল ইসলাম, আলী মোহাম্মদসহ আরও অনেকে রয়েছেন বলে জানান কৃষকরা।
এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
তবে এ বিষয়ে লিফ অফিসার সাধন বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ