
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিফা বিশ্বকাপ এখন নকআউট পর্বের উত্তেজনায়। ৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া এই আসরের চতুর্থ সপ্তাহে এসে শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে হাতে গোনা কয়েকটি দল। শেষ ষোলোর লড়াই শেষে ইতোমধ্যে আটটি দল নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।
তবে এরই মাঝে বাজতে শুরু করেছে ফাইনালের সুর। টিকিট নিয়ে শুরু হয়েছে কাড়াকাড়ি।
মাঠের একদম মাঝামাঝি জায়গায় ও সবার সামনের সারির ছয়টি টিকিট, সঙ্গে ফাইনালের দিন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় ঠিক যখন বিজয়ী দল ট্রফি তুলে নেবে, সেই সময় মাঠে প্রবেশের সুযোগ—এমন একটি প্যাকেজের দাম ছিল চার মিলিয়ন বা ৪০ লাখ ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪৯ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। যেটি ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে বিক্রি হয়ে যায়।
বিশ্বকাপ দেখতে আগ্রহী অতি–ধনী ব্যক্তিদের জন্য বিলাসবহুল প্যাকেজ প্রদানকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাইটসব্রিজ সার্কেল একটি। তাদেরই বিক্রি করা একটি অতিমাত্রায় বিলাসবহুল প্যাকেজের অংশ এটি। ‘টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম’–এ ধরনের সুযোগটি শুধু আমন্ত্রিত ক্লায়েন্টদের জন্য দেওয়া হয়েছিল। প্যাকেজটি দেওয়ার আগে অবশ্য তাদের মূল্যায়নও করা হয়।
নাইটসব্রিজ সার্কেলের প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্ট ম্যাকনিল বিবিসি নিউজ ব্রাজিলকে বলেন, ‘প্যাকেজটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আমাদের একজন সদস্যের কাছে বিক্রি হয়ে যায়।’
আমি ২২ বছর ধরে এই (বিলাসবহুল) বাজারে কাজ করছি, আর এই বিশ্বকাপে আমার জন্য সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো– টাকায় এখন প্রায় সবকিছুই কেনা সম্ভব, যা নতুন একটি বিষয়।
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু দর্শকদের একটি ক্ষুদ্র অংশের জন্য অভিজ্ঞতাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা ব্যক্তিগত জেটে আয়োজক শহরগুলোতে পৌঁছান, হেলিকপ্টার বা লিমোজিনে স্টেডিয়ামে যান এবং ভিআইপি এলাকায় তাদের জন্য জায়গা নিশ্চিত থাকে–এমনকি তারা শেষ মুহূর্তে খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিলেও এসব সুবিধা মেলে।
‘আমি ২২ বছর ধরে এই (বিলাসবহুল) বাজারে কাজ করছি, আর এই বিশ্বকাপে আমার জন্য সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো– টাকায় এখন প্রায় সবকিছুই কেনা সম্ভব, যা নতুন একটি বিষয়’–বলেন ম্যাকনিল। তিনি এবং উচ্চমানের বিলাসবহুল খাতের অন্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বকাপে এসব প্যাকেজ নিতে আগ্রহী ক্রেতাদের নাম প্রকাশ করেন না। তবে তিনি বলেন, এদের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার সেলিব্রিটি, বিলিয়নিয়ার, প্রতিষ্ঠাতা, প্রযুক্তি খাতের নির্বাহী এবং ক্রীড়াবিদরা আছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ