এর আগে, গত ২২ আগস্ট দুপুরে মির্জাপুর উপজেলার শুভল্লা থেকে যাত্রীবাহী বিনিময় পরিবহনের একটি বাস থেকে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেন র্যাব পরিচয়দাতা ওই চক্রের তিন ছিনতাইকারী। এরপর ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ টাকা ছিনতাই করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তার সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার কতোয়ালী থানার নারায়নপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে সফর উদ্দিন ইসলাম মুন্না ও কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দরিগাও গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে শামীম আহমেদ সবুজ।
জানা যায়, গত ২২ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মির্জাপুর উপজেলার শুভল্যা মসজিদের সামনে দুপুরে প্রাইভেটকারে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বিনিময় পরিবহনের বাসের গতিরোধ করেন। র্যাবের কটি পরিহিত ৩ জন ছিনতাইকারী বাসের ভেতর উঠে র্যাব পরিচয় দিয়ে হেলাল মোল্লা নামের এক ব্যবসায়ীকে বাস থেকে নামিয়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে তাদের প্রাইভেটকারে তুলে নেন। এরপর বেদম মারপিট করাসহ হত্যার হুমকি দেন। এ সময় তার কাছে থাকা ১৯ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা ও দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাকে জামুর্কী ফ্লাইওভার ব্রিজের উত্তরে ডুবাইল কবরস্থানের পাশে নামিয়ে দেন। এ ঘটনায় তিনি ২৩ আগস্ট মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ২৪ আগস্ট ময়মনসিংহ থেকে মুন্নাকে আটক করে তিনদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে সবুজকে আটক করা হয়। দুপুরে তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
গ্রেফতারকৃত আসামি শামীম আহমেদ সবুজের কাছ থেকে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেটকার, ১টি কালো ক্যাপ, ১টি কালো চশমা, ১টি বাঁশের লাঠি, ২টি গামছা, ছিনতাইকৃত ১ লাখ টাকা, ছিনতাইকৃত টাকা দিয়ে নতুন কেনা ১টি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, ১টি সিম্ফোনি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয়দাতা ও ছিনতাইয়ের বিষয়ে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। ছিনতাইকৃত বাকি টাকা অন্যান্য সদস্যরা ভাগ করে নেন। আসামিদের ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। র্যাব পরিচয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ