সূরা নূর (সূরা আন-নূর) কুরআনের ২৪ নম্বর সূরা, এবং বিয়ে না হওয়া বা দেরিতে হওয়ার সমস্যার সাথে এর সম্পর্ক প্রধানত আয়াত ৩২ (২৪:৩২) থেকে আসে। এই আয়াতটি খুব জনপ্রিয় হয়েছে বিয়ের সমস্যার "সমাধান" হিসেবে।
✅ আয়াত ৩২-এর আরবি, উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ
▪️আরবি:
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ:
ওয়া আনকিহুল আয়ামা মিনকুম ওয়াস সালিহীনা মিন ইবাদিকুম ওয়া ইমায়িকুম। ইয়াকুনূ ফুকারাআ ইউগনিহিমুল্লাহু মিন ফাদলিহী। ওয়াল্লাহু ওয়াসিউন আলীম।
▪️বাংলা অর্থ (সহজ ভাষায়):
"তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (বিবাহহীন) তাদের বিয়ে সম্পন্ন করো, আর তোমাদের সৎ দাস-দাসীদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদেরও। তারা যদি গরিব হয়, তাহলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।"
✅ এই আয়াত কীভাবে বিয়ের সমস্যার সমাধান দেয়?
➡️ আল্লাহ এখানে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন:
▪️অভিভাবক, পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীলদের উচিত অবিবাহিত ছেলে-মেয়েদের (যারা যোগ্য) বিয়ে দেওয়া।
▪️সবচেয়ে বড় বাধা যা মানুষ ভাবে — "আর্থিক অভাব/গরিব বলে বিয়ে করা যাবে না" — আল্লাহ স্পষ্ট করে বলছেন: গরিব হলেও বিয়ে করো। বিয়ের পর আল্লাহ নিজে রিজিক বাড়িয়ে দেবেন, অভাব দূর করবেন।
▪️এটা আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখার বড় শিক্ষা। অনেকে দেখেছেন, বিয়ের পর রিজিকের দরজা খুলে যায়।
✅ সূরা নূর থেকে বিয়ের সমস্যায় আরও যা শিক্ষা পাওয়া যায়
▪️আয়াত ৩০-৩১: পুরুষ-নারী উভয়কে চোখ নত রাখতে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করতে বলা হয়েছে। অবিবাহিত অবস্থায় হারাম সম্পর্ক/চিন্তার ঝুঁকি বেশি, তাই বিয়ে করে পবিত্র থাকার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
▪️আয়াত ৩৩: যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে (রোজা রাখা, নফস নিয়ন্ত্রণ) যতক্ষণ না আল্লাহ রিজিক দেন।
▪️আয়াত ৩: অভ্যস্ত ব্যভিচারী/ব্যভিচারিণীকে মুমিনদের বিয়ে করা হারাম — অর্থাৎ চরিত্রের পবিত্রতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
✅ বিয়ের জন্য সূরা নূরের আমল/দোয়া (জনপ্রিয় প্রচলিত পদ্ধতি)
➡️ অনেকে এই আয়াতকে ওজিফা/আমল হিসেবে করে:
▪️প্রতিদিন সূরা নূর পড়া (বিশেষ করে আয়াত ৩২)।
▪️আয়াত ৩২ নিয়মিত তিলাওয়াত করা (কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়া বলা হয় — এটা সুন্নাহ নয়, তবে দোয়ার নিয়তে করা যায়)।
▪️নামাজের পর দোয়া করা: "ইয়া আল্লাহ, আয়াত ৩২-এর হক দিয়ে আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও, রিজিকের দরজা খুলে দাও।"
▪️ইস্তিখারা নামাজ পড়া + দোয়া করা।
✅ গুরুত্বপূর্ণ কথা:
▪️এগুলো দোয়া ও আশা হিসেবে ভালো, কিন্তু মূল সমাধান হলো আয়াতের শিক্ষা মানা — উদ্যোগ নেওয়া (বিয়ের চেষ্টা করা, প্রস্তাব দেওয়া/নেওয়া), গুনাহ ছাড়া, চরিত্র ঠিক রাখা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। শুধু পড়লেই হবে না, আমল করতে হবে।
▪️আল্লাহ যেন সবার বিয়ে সহজ করে দেন, উত্তম জীবনসঙ্গী দান করেন এবং রিজিক প্রশস্ত করেন। আমীন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ