গরুর মালিক ইনছান আলী বলেন, তেঁজগাও খেলার মাঠের ওই হাটে রাজাবাবুর জন্য মঞ্চ তৈরি হয়েছে। ওখানেই ট্রাকে করে তাকে নিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে রাজাবাবুকে শেষবারের মত গোসল ও খাইয়ে দিয়েছেন ইনছান আলীর স্ত্রী শাহিনা খাতুন ও মেয়ে সেজুতি। শেষবারের মত আদর ও ভালবাসা দিয়ে চোখের পানি ফেলেছেন তারা। কারণ সাড়ে চার মাস বয়সী রাজাবাবুকে নিয়ে এসে অতি আদর যত্নে শাহিনা ও সেজুতিসহ বাড়ির মালিক ইনছান লালন পালন করেন।
ইনসান আলী গরুটির দাম হাকিয়েছেন ৩৫ লাখ টাকা। গত বছর কোরবানিতে রাজাবাবুর দাম হাঁকানো হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা। তবে ক্রেতারা ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সে দামে বিক্রি না করে রাজাবাবুকে আরো একটি বছর পালন করেন ইনছান আলী।
জানা গেছে, গরুর মালিক মোনাখালি গ্রামের ইনছান আলী ও তার পরিবারের লোকজন আদর-যত্নের পাশাপাশি রাজাবাবুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
ইনছান আলী বলেন, চার মাস বয়সী হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের রাজাবাবুকে ৮০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম ৩ বছর আগে। পরিবারের একজন সদস্যের মতই পরম আদর যত্নে লালন-পালন করে বড় করেছি তাকে। আদর করেই গরুটির নাম রেখেছিলাম মুজিবনগরের রাজাবাবু।
বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়ের খাদ্য তালিকায় আছে কাঁচা ঘাস, সয়াবিন খৈল, ভুট্টা, ছোলা, গমের ভূষি, কলা ও বিচালি। রাজাবাবুকে দিনে ২০ কেজি দানাদার খাবার খেতে দিতে হয়। দানাদার খাবার সকালে ১০ কেজি এবং রাতে ১০ কেজি।
ইনছান আলীর মেয়ে সেজুতি বলেন, দেখতে বিশাল হলেও রাজাবাবু খুবই শান্ত স্বভাবের। দিনে তিনবার গরুটিকে গোসল করানো হয়। রাজাবাবু আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতই।
মুজিবনগরের ‘রাজাবাবু’
ইনসান আলীর স্ত্রী শাহিনা খাতুন বলেন, রাজাবাবুকে আমরা দীর্ঘ চার বছর ধরে লালন-পালন করছি নিজের সন্তানের মত। যত্ন করতে হয় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।
মোনাখালি গ্রামের সুরুজ আলী বলেন, এই রাজাবাবুকে নিয়ে আমরা অনেকেই অহংকার করি। কারণ এই গরুটির জন্যই বলতে গেলে মিডিয়ায় আমাদের গ্রামের নামটি তুলে ধরা হয়।
মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, রাজাবাবুকে দেখতে গিয়েছি। গরুটি উচ্চতায় ৮ ফুট। গরুটির দৈর্ঘ ও বেড় অনুযায়ী গরুটির ওজন প্রায় ১৯০০ কেজি বা ৩৭.৫০ কেজিতে মণ হিসেবে ৪৮ থেকে ৫০ মণ। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে আমরা গরুটির চিকিৎসা, খাদ্য তালিকা ও অন্যান্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমার জানা মতে, এই গরুটিই বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় গরু
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ