আহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। আহতদের কাালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীদের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। কয়েকজনকে যশোর ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত মানুষকে ক্ষিপ্ত বা পাগলা কুকুরে কামড়েছে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে কুকুর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত পরিবারগুলোর মধ্যে জলাতঙ্ক রোগের আতঙ্কসহ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের হাতে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে এতে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে তারা সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম থেকে প্রথমে সাদা রংয়ের একটি কুকুর কামড়ানো শুরু করে। এরপর সামনে যাদের পেয়েছে পথচারী, দোকানি, স্কুলছাত্রী ও শিশুদের কামড়াতে থাকে। লোকজন কুকুরটিকে ধাওয়া করলে সেখান থেকে দৌড়ে কালীগঞ্জ পৌর শহরের বলিদাাপাড়া, নিশ্চিন্তপুর ও হেলাই গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় লোকজনদের কামড়ে গুরুতর জখম ও আহত করে।
কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি শহরের বলিদাপাাড়ার রাখি বেগম নামে এক গৃহবধূ জানান, বাড়ির পাশে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি কুকুর এসে হামলে পড়ে। কিছু বুঝে উঠার আগেই হাত কামড়ে ধরে। অনেক চেষ্টা করেও কুকুরটিকে ছাড়াতে পারিনি। এ সময় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় মুক্ত হই।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিত কুমার কালু জানান, বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসা মাত্রই একটি কুকুর তার পায়ে কামড়ে ধরে। অনেক চেষ্টা করেও ছাড়ানো যাচ্ছিলো না। এ সময় নিজেই কুকুরের মুখের মধ্যে দুই হাত দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। এ সময় কুকুরের দাঁতে তার দুই হাতের ছয়টি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কালীগঞ্জ শহরের সংরক্ষিত কাউন্সিলর শামছুন্নাহার বীনা জানান, তার এলাকায় প্রায় ১০ জনের মতো নারী-পুরুষকে পাগলা কুকুরে কামড় দিয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডাক্তার ইমরান হোসেন জানান, কুকুরে কামড়ানো অবস্থায় দুপুর পর্যন্ত ১৭ জন রোগী ভর্তি হন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরে কামড়ানোর বাইট মার্ক রয়েছে। তাদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অনেককে বাড়িতে পাঠিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের কামড়ের আঘাত বেশি গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। কুকুরে কামড়ানো রোগীদের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ঝিনাইদহের আরেক উপজেলা শৈলকুপায় গত ৩০ মে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৪ জন জখম হন
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডঃ মুফতি বনি ইয়ামিন
অক্সফোর্ড সোলার টেকনোলজি গ্রুপ